রিকশা থেকে নেমেই মিজান দেখে, হাসপাতালের সামনে প্রচণ্ড ভিড়। সে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করল। পারল না। সেখানেও ভিড়। মিজান এসেছে রক্ত পরীক্ষা করাতে। ভিড়ের মানুষরাও এসেছে রক্ত পরীক্ষা করাতে।
যিনি রক্ত নেবেন সেই ব্যক্তি এখনো আসেননি। তাঁর আসার কথা সকাল সাড়ে সাতটায়। এখন সাড়ে আটটা বাজে। বেশিরভাগ মানুষ এসেছে খালি পেটে। ডায়বেটিস রোগ পরীক্ষা করাতে খালি পেটে আসতে হয়। প্রথমবার রক্ত দিয়ে নাস্তা করার দুই ঘণ্টা পর আবার রক্ত দিতে হয়। অন্য অনেক রোগ নির্ণয়ের জন্যও খালি পেটে আসতে হয়। ক্ষুধা এবং গরমে মানুষ অসহিষ্ণু হয়ে পড়ল। প্রথমে মানুষ উসখুস করে বিরক্তি প্রকাশ করল। পরে দলবেঁধে গেল কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ জানাতে। কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কেউ নেই। তাঁরা অত সকালে অফিসে আসেন না। মানুষ হৈচৈ শুরু করল।
রিসেপশন থেকে প্রথমে লোকটিকে ফোন করা হলো। তার মোবাইলফোন বন্ধ। পরে তার স্ত্রীকে ফোন করা হলো। স্ত্রী জানালেন, সেই ভোরেই তাঁর স্বামী অফিসের পথে রওয়ানা দিয়েছেন।
অসহিষ্ণু মানুষ মন্তব্য করতে লাগল, লোকটি নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে আছে অথবা বাজার করতে গিয়েছে। তার স্ত্রী মিথ্যা কথা বলেছে। আবার অনেকে মন্তব্য করল, দেশটা দিন দিন গোল্লায় যাচ্ছে। বসে বসে বেতন নেবে, অথচ নিজ দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করবে না। দেশটা দুর্নীতিতে ভরে গেছে। এ দেশের ভবিষ্যত্ অন্ধকার।
মানুষ ক্রমশ মারমুখি হয়ে উঠল। হাসপাতালকে লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়তে শুরু করল। কয়েকটা জানালার কাচ ভাঙার শব্দ হলো। ক্ষিপ্ত মানুষ দলবদ্ধ হলে পাগলা কুকুর হয়ে যায়।
হাসপাতালের স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেল। কর্মীরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পালাতে শুরু করেছে। পুলিশকে খবর দেয়া হলো। অল্প সময়ের মধ্যে পুলিশের গাড়ির প্যাঁ পোঁ শব্দ শোনা গেল। ঠিক তখুনি একটি অ্যাম্বুলেন্সে লোকটি লাশ হয়ে এল বিক্ষুব্ধ জনতার ভিড় ঠেলে। নিজ বাইকে অফিসে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।
