বঙ্গবাজারে চৌকি বসিয়ে বেচাবিক্রি শুরু

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৩, ১৮:০৫

ঈদের আর মাত্র ১০ থেকে ১১ দিন বাকি। ঈদের আগে পুড়ে যাওয়া স্বপ্ন নতুন করে বুনতে বঙ্গবাজারে ব্যবসায়ীরা চৌকি বসিয়ে বেচাবিক্রি শুরু করেছেন। এজন্য কিছুদূর পরপর কাঠের চৌকি বসিয়েছেন তারা। রোদের মধ্যে কেউ কেউ শামিয়ানাও টানিয়ে বসেছেন। কেউবা মাটিতে ছাতা পুঁতে নিচ্ছেন। তবে বেচাবিক্রি শুরু হলেও এখনো জমে উঠেনি।

বুধবার (১২ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১টার দিকে চৌকি বসিয়ে অস্থায়ীভাবে বিক্রিবাট্টার উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

বঙ্গবাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলছেন মেয়র তাপস। ছবি: ফোকাস বাংলা

ঈদের পরে ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এ সময় দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে দুই কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যেন রাতেও দোকান চালু রাখতে পারেন সেজন্য ছাউনি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হবে।

বঙ্গবাজারে চৌকি বসিয়ে বেচাবিক্রি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। ছবি: ফোকাস বাংলা

রাজধানীর দুর্যোগ মোকাবেলায় একটি স্থায়ী কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তাপস জানান, ডিএসসিসির তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর সংখ্যা তিন হাজার ৮৪৫ জন। তবে আজ প্রায় ৭০০ জন ব্যবসায়ী চৌকি বসিয়ে বঙ্গবাজারে বসেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মার্কেটটিতে আগে থেকে থাকা সিটি করপোরেশনের সিরিয়াল নম্বর অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের দোকান বসানোর নির্দেশনা দিচ্ছেন বঙ্গবাজার মালিক সমিতির নেতারা। দোকানের সংখ্যা অনুযায়ী চৌকি দেওয়া হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। যাদের এক থেকে তিনটি পর্যন্ত দোকান ছিল তাদের দেয়া হচ্ছে একটি চৌকি। যেটার আয়তন সাড়ে তিন ফুট বাই পাঁচ ফুট। আর যাদের এর থেকেও বেশি দোকান ছিল, তাদের সেই অনুযায়ী চৌকি দেয়া হচ্ছে।

বঙ্গবাজারে চৌকি বসিয়ে বেচাবিক্রি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে খোলা মার্কেটে তপ্ত রোদের নিচে অনেকেই ছাতা হাতে তাদের চৌকিতে মালামাল বিক্রি করলেও অনেক চৌকি খালি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। আবার অনেকে চৌকি বানাতে পাশের ফুলবাড়িয়া মার্কেটে ভিড় জমিয়েছেন। তবে মার্কেটে গুটিকয়েকজন ছাড়া খুব বেশি ক্রেতা চোখে পড়েনি।

প্রসঙ্গত, গত ৪ এপ্রিল অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায় বঙ্গবাজারের হাজারো দোকানপাট। এতে ঈদের জন্য মজুত সব পণ্য পুড়ে যায়। পুরো বঙ্গবাজার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। দাবি করা হচ্ছে, বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩০৩ কোটি ৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকার কথা উল্লেখ করেছে কমিটি। আর পণ্যের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সে ২২২ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ইত্তেফাক/এনএ/এসকে