যুক্তরাষ্ট্রকে কামানের গোলা ধার দেবে দক্ষিণ কোরিয়া

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৩, ১৯:০৮

যুক্তরাষ্ট্রকে ১৫৫ মিলিমিটার কামানের গোলার ৫ লাখ রাউন্ড ধার দিতে দক্ষিণ কোরিয়া গত মাসে দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। সিউলের এই পদক্ষেপ ইউক্রেনে আরও গোলা পাঠাতে ওয়াশিংটনের সুবিধা করে দিতে পারে। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

অনামা সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার সংবাদপত্র ডংবা ইলবো জানায়, ইউক্রেন সংঘাতে দক্ষিণ কোরিয়ার গোলা ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে আনতেই সিউল কামানের গোলাগুলো বিক্রি না করে ধার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়,এই গোলাগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রই তাদের খালি হয়ে যাওয়া ভাণ্ডার পূরণে কাজে লাগাবে। 

তবে, এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র গতবছর দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে একই গোলা এক লাখ রাউন্ড কিনেছিল, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতেও তারা একই পরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি গোলা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া তাতে রাজি না হয়ে ধার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

অনামা একটি সূত্র ডংবা ইলবোকে জানায়, “গোলার পরিমাণ ব্যাপক বাড়িয়ে রাখার সুযোগ ছিল, কিন্তু ইউক্রেনে প্রাণঘাতি অস্ত্র সরবরাহ না করার সরকারি সিদ্ধান্তে অবিচল থেকে রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ মিত্রের অনুরোধ কীভাবে পূরণ করা যায়, তা নিয়ে অনেক ভেবেচিন্তে আর আমরা ধার দেওয়ার প্রক্রিয়াই বেছে নিয়েছি।” 

কামানের গোলা সরবরাহ নিয়ে আলোচনা চলার কথা আগেই জানিয়েছিল সিউল ও ওয়াশিংটন, কিন্তু কোনো চুক্তি হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে কর্মকর্তাদের মুখ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো কথা এখনও আসেনি।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এবং মিত্ররা ইউক্রেনকে তাদের স্বাধীনতা সুরক্ষায় কী ধরনের সহযোগিতা করা যায় তার পথ খতিয়ে দেখছে। সুনির্দিষ্ট কী আলোচনা হচ্ছে, সে বিষয়ে কিছু বলতে অবশ্য রাজি হয়নি তারা।

দক্ষিণের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক জিন সাংবাদিকদের পরে জানান, ডংবা ইলবোর প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারছেন না তিনি।

এমন এক সময়ে ডংবা ইলবোর এ প্রতিবেদন এল যখন ‘ফাঁস হওয়া’ যুক্তরাষ্ট্রর অতি গোপনীয় কিছু সামরিক নথির কারণে দুই মিত্রদেশই এখন বেশ অস্বস্তিতে আছে।

দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং কামানের গোলার অন্যতম বৃহৎ উৎপাদক। কিন্তু অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং উত্তর কোরিয়ার ওপর মস্কোর প্রভাবের কারণে তারা রাশিয়াকে চটাতে চায় না। 

ইত্তেফাক/এফএস