সত্যজিত্ বিশ্বাস
ফাঁক-ফোঁকর
প্রথম বন্ধু :এটা কোনো কথা হলো?
দ্বিতীয় বন্ধু :কোনটা?
প্রথম বন্ধু :এই যে গণমাধ্যমের সঙ্গে পর্যবেক্ষকদের কথা না-বলার নির্দেশ দিলো?
দ্বিতীয় বন্ধু :তাতে কী? কোনো প্রশ্ন করলে তার উত্তর মুখে না দিলেই হয়।
সাংবাদিক :তাহলে কীভাবে দেবে?
পর্যবেক্ষক :কাগজে লিখে দিতে পারে, মেসেঞ্জারে চ্যাট করতে পারে...
ইভিএমে বদলে যেতে পারে ভোটের ফল
নানা :মন দিয়ে পেপারে এত কী পড়ছিস?
নাতি :আরে, ইভিএম তো মারাত্মক একটা জিনিস।
নানা :কেন রে, কী হয়েছে?
নাতি :ইভিএম-এ নাকি বদলে যেতে পারে ভোটের ফল?
নানা :ও এই ব্যাপার? হাঃ হাঃ হাঃ!
নাতি :কী ব্যাপার, হাসছ কেন?
নানা :হায়রে দাদুভাই, এই জীবনে ইলেকশন কম দেখলাম? ভোটের ফল বদলানোর জন্য ইভিএম লাগে?
নাতি :তাহলে?
নানা :ভোটের ফল বদলাতে লাগে ছুতা।
বোতলের দাম জানিস?
প্রথম বন্ধু :ঠাণ্ডায় মরে যাচ্ছি। সিগারেটে দুটো টান দিয়ে যে গরম হবো, পকেটে টাকা নেই। একশ টাকা ধার দে না দোস্ত।
দ্বিতীয় বন্ধু :দিতে পারি এক শর্তে।
প্রথম বন্ধু :কী শর্ত?
দ্বিতীয় বন্ধু :তুই তাহলে আর কখনো সিগারেট খাবি না।
প্রথম বন্ধু :ঠিক আছে, তাহলে এক হাজার টাকা দে।
দ্বিতীয় বন্ধু :কেন, এক হাজার কেন?
প্রথম বন্ধু :ওমা তুই-ই না সিগারেট খেতে নিষেধ করলি। বোতলের দাম জানিস?
বিবাহিত
খুব শীতের রাতে এক লোক এসেছে খাবারের দোকানে।
ভদ্রলোক :ভাই কিছু খাবার প্যাকেট করে দিন তো।
দোকানী (খাবার প্যাকেট করতে করতে) :আপনি বিবাহিত, তাই না?
ভদ্রলোক :এর মানে কী? কী বলতে চান?
দোকানী :ভাই, ভুল হইলে ক্ষমা কইরা দিয়েন। রাগ হইয়েন না।
ভদ্রলোক :রাগ হবার কথায় রাগ হবো না মানে? সত্যি করে বলেন, কী করে বুঝলেন?
দোকানী :না মানে এই শীতে আর কোনো প্রাণী বের হয়?
কুয়াশা না কু-আশা
শিক্ষক :দৃষ্টি প্রসারিত কর। আকাশের দিক তাকা। কী দেখতে পাচ্ছিস?
ছাত্র :কুয়াশা।
শিক্ষক :কু-আশাই দেখা যায়? ভালো কোনো আশা দেখা যায় না?
শীতকালে অনেক কুয়াশা না?
মা :কীসের ছবি আঁকছ মা?
মেয়ে :শীতকালের ছবি মা।
মা :একটু পরিষ্কার করে আঁকো। কিছুই তো ভালো বোঝা যায় না।
মেয়ে :কী করে বুঝবে, শীতকালে অনেক কুয়াশা না?
নির্বাচনী ইশতেহার
রাজনৈতিক (সংখ্যালঘু) নেতা :ভাইয়েরা আমার সামনে ইলেকশন, আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন। কথা দিলাম, এই যে শীতে দাঁতে মাড়িতে বাড়ি খেয়ে ঠকঠক করে কাঁপছেন, আর কাঁপবেন না। এই যে কুয়াশা দেখছেন, আর দেখবেন না। সব কুয়াশা কেটে যাবে। পরিষ্কার হয়ে যাবে চারদিক।
পেছন থেকে একজন :কন কী? একেবারে উপরে পাঠাইয়া দিবেন নাকি?
ফেসবুকের এখন-তখন
v তখন মা :কীরে, কোনো কাম কাজ নেই? সারাদিন ঘরের কোণে বসে ফেসবুকে কী করিস?
এখন মা :কীরে, সারাদিন টইটই করে না ঘুরে ফেসবুকে বসতে পারিস না? পাশের বাসার মোকলেসকে দেখেও তো শেখা যায়, উগান্ডা থেকে পাত্রী এসে ওকে নিজ হাতে মালা পরিয়ে নিয়ে গেল।
v তখন বন্ধু :দোস্ত, তোর তো ইডেনের কত বান্ধবী আছে। দুই-একজনরে বল না, আমার সাথে যেন চ্যাটিংয়ে আসে।
এখন বন্ধু :দোস্ত, তোর তো কত ফরেনার বান্ধবী আছে। দুই, একজনরে বল না, আমার সাথে যেন চ্যাটিংয়ে আসে।
v তখন বউ :তাও ভালো, ফেসবুকে তাকিয়ে থাকো, পাশের বাড়ির কারো ফেসের দিক যেন তাকাতে না দেখি।
এখন বউ :কী ব্যাপার, ইদানীং ডিকশনারি দেখে দেখে কার সাথে চ্যাট করো?
v তখন প্রেমিকা :যদি কোনোদিন দেখি আমার কোনো বান্ধবীকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাইছ কিংবা অ্যাকসেপ্ট করছ তাইলে কিন্তু সাথে সাথেই খুন হয়ে যাবা।
এখন প্রেমিকা :যদি কোনোদিন দেখি কোন বিদেশিনীকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাইছ কিংবা অ্যাকসেপ্ট করছ তাইলে কিন্তু সাথে সাথেই পাউডার হয়ে যাবা।
ইশারা তো আর নিষেধ না
সাংবাদিক :ভাই, ইলেকশন কেমন দেখছেন?
নির্বাচক পর্যবেক্ষক ইশারা দিয়ে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করলেন।
সাংবাদিক :ভাই কি বোবা?
পর্যবেক্ষক :ধুর মিয়া, বোবা হইতে যামু কেন?
সাংবাদিক :তাহলে যে একটু আগে ইশারায় বোঝাচ্ছিলেন?
পর্যবেক্ষক :আপনি কীসের সাংবাদিক? জানেন না, ইলেকশন নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে পর্যবেক্ষকদের মন্তব্য করা নিষেধ।
অনেক বড় নেতা
লোকাল বাসে ভাড়া নিয়ে কন্ডাক্টরের সাথে এক যাত্রীর কথা কাটাকাটি চলছে।
বাস কন্ডাক্টর :কী হইল কয়বার ভাড়া চাইলাম। ভাড়া দেন না কেন?
যাত্রী :কীসের ভাড়া? আমার ভাড়া লাগে না।
বাস কন্ডাক্টর :কেডায় কইলো লাগে না?
যাত্রী :তুমি জানো আমি কে? বাসে উইঠা আমি কথা কইলে সবাই চুপ হইয়া কথা শোনে। সামনে গিয়া দাঁড়াইলে উল্টা টাকা দেয়।
বাস কন্ডাক্টর :স্যার, মাপ করবেন, আমার ভুল হইয়া গেছে। একটা কথা জিগাই?
যাত্রী :কী কথা?
বাস কন্ডাক্টর :আপনি কি অনেক বড় নেতা?
যাত্রী (বাস থেকে নেমে যেতে যেতে) :আমি ভিক্ষুক।
সম্রাট শাহজাহানের চেয়ে আমি কি কম?
স্ত্রী :মমতাজের মৃত্যুর পর সম্রাট শাহজাহান তাজমহল বানিয়েছিলেন, আমার যদি কিছু একটা হয়ে যায়, আমার জন্য কী করবে?
স্বামী :আমার হয়তো অর্থ-বিত্ত নেই, তাই বলে কী তোমার কী ধারণা সম্রাট শাহজাহানের চেয়ে আমি কম খুশি হবো?
কুইজ
স্যার :ভালো গর্ত খুড়তে পারে এমন তিনটি প্রাণীর নাম বলো তো?
ছাত্র :কেঁচো, ইঁদুর, চোর আর সিটি কর্পোরেশনের লোক।
স্যার :বলো তো, প্লেন থেকে লাফ দেওয়ার সময় কেন প্যারাসুট ব্যবহার করা হয়?
ছাত্র :আকাশে রোদ, বৃষ্টি যাই থাকুক, তার হাত থেকে বাঁচার জন্য।
স্যার :বলো তো এই মাসটা জোড়ে হাতেতালি দেওয়ার মাস কেন?
ছাত্র :প্রচুর মশা বলে।
স্যার :তুই এত বোকার মতো কথা বলছিস কেন?
ছাত্র :যাতে আপনার বুঝতে কষ্ট না হয়।
স্যার :যারা তোর মতো উল্টাপাল্টা উত্তর দেয়, তারা বড় হয়ে কী হয় জানিস?
ছাত্র :জানি স্যার, তারা নেতা হয়ে নমিনেশন ফরম কেনে।
