বিজ্ঞান
শক্তি এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হতে পারে
হিমন এডওয়ার্ড গমেজ , সিনিয়র শিক্ষক
সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
১) যখন টিভি চালানো হয় তখন শক্তির কী কী পরিবর্তন হয়?
উত্তর : যখন টিভি চালানো হয় তখন বিদ্যুত্ শক্তি আলোক, তাপ এবং শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
শক্তি এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হতে পারে। শক্তির এরূপ পরিবর্তনই হলো শক্তির রূপান্তর। বিদ্যুত্ শক্তির সাহায্যে টেলিভিশন চলে। সেক্ষেত্রে বিদ্যুত্ শক্তি আলোক, তাপ এবং শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। আলোক শক্তির সাহায্যে আমরা ছবি দেখি এবং শব্দ শক্তির সাহায্যে কথা শুনি। টেলিভিশনে উত্পন্ন তাপ শক্তি বাইরের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।
২) ঠাণ্ডা পানির গ্লাস হাত দিয়ে ধরে রাখলে হাত ঠাণ্ডা হয়ে যায়। তোমার বন্ধু মনে করে গ্লাসের ঠাণ্ডা হাতে চলে যাওয়ার কারণে হাত ঠাণ্ডা হয়ে যায়। তার ধারণাটি কী সঠিক? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : হ্যাঁ, আমার বন্ধুর ধারণাটি সঠিক। কারণ, আমরা জানি যে, কঠিন বস্তুর মধ্য দিয়ে তাপ পরিবহন পদ্ধতিতে সঞ্চালিত হয়। আমার বন্ধু যখন ঠাণ্ডা গ্লাসটি হাত দিয়ে ধরে তখন তার হাত তুলনামূলক গরম হওয়ায় গ্লাসের ঠাণ্ডা তার হাতে পরিবহন পদ্ধতিতে প্রবেশ করে। আর এভাবেই আমার বন্ধুর ধারণাটি সঠিক বলে প্রমাণিত হয়।
৩) যখন পাতিলে ভাত রান্না করা হয় তখন তাপ কীভাবে সঞ্চালিত হয়?
উত্তর : যখন পাতিলে ভাত রান্না করা হয় তখন তাপ প্রথমে পরিবহন এবং পরে পানির অংশে পরিচলন প্রক্রিয়ায় সঞ্চালিত হয়।
ভাতের পাতিলে পানি ও চাল দিয়ে নিচে তাপ দিলে ধাতব পাতিলের অণুগুলো উত্তপ্ত হয়ে পরিবহন প্রক্রিয়ায় তাপ পানিতে পৌঁছায়। পাতিলের সংস্পর্শে থাকা পানির অণুগুলো উত্তপ্ত হয়ে উপরে উঠে যায় এবং উপরে থাকা ঠাণ্ডা পানির অণুগুলো নিচে নেমে আসে। এভাবে সমগ্র পাতিলের পানি উষ্ণ হয়ে ওঠে। পানির অণুতে তাপ সঞ্চালনের এ প্রক্রিয়া হলো পরিচলন। তাই বলা যায়, পাতিলে ভাত রান্না করার সময় তাপ পরিবহন ও পরিচলন প্রক্রিয়ায় সঞ্চালিত হয়।
৪) বাড়ির আশেপাশে বৃক্ষ রোপণ করে কীভাবে শক্তি সংরক্ষণ করা যায়?
উত্তর : বাড়ির আশেপাশে বৃক্ষরোপণ করা হলে এই গাছপালা আমাদের ছায়া প্রদান করবে। এছাড়া বাড়ির চারপাশ গাছপালা ঘেরা হলে সূর্যের আলো তুলনামূলকভাবে কম হারে বাড়ির ছাদ ও দেওয়ালকে উত্তপ্ত করবে। এতে গরমের অনুভূতি কম হবে এবং বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবহারও কমে যাবে। এভাবে বাড়ির আশেপাশে বৃক্ষরোপণ করে শক্তি সংরক্ষণ করা যায়।
ইংরেজি
ভাষার সবচেয়ে ছোট একককে Sound (ধ্বনি) বলে
ঁজ্যাকি প্রামান্ডো পেরেরা, সহকারি শিক্ষক
সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
নিচের Sentence গুলো পড় :
Stop. —থাম।
Start writing. —লেখা শুরু করো।
Good morning! —শুভ সকাল!
If I were a bird! —আমি যদি পাখি হতাম!
উপরের Sentence গুলোতে কোনো না কোনোভাবে মনের ভাব প্রকাশ পেয়েছে। এগুলোই হলো Language বা ভাষা।
কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি সমষ্টি অর্থপূর্ণ না হলে তা ভাষা হয় না। যেমন— The fox flies in the sky. —শিয়ালটি আকাশে ওড়ে। এটিকে ভাষা বলা যাবে না। কারণ শিয়াল আকাশে উড়তে পারে না।
তার মানে, Language এর সংজ্ঞা হলো— মনের ভাব প্রকাশের জন্য যে সকল অর্থপূর্ণ ধ্বনি বা ধ্বনি সমষ্টি উচ্চারণ করা হয় সেগুলোকে Language (ভাষা) বলে।
যেমন— Bengali, English, French, Arabic ইত্যাদি।
I am a student. —আমি একজন ছাত্র।
He is a student. —সে একজন ছাত্র।
You are students. —তোমরা ছাত্র।
উপরের বাক্যগুলোতে কোথাও ‘am’, কোথাও ‘is’, কোথাও ‘are’ বসেছে। আবার কোথাও ‘Student’ এবং কোথাও ‘Students’ বসেছে।
‘Student’এর পূর্বে ‘a’ বসেছে, কিন্তু ‘Students’ এর পূর্বে ‘a’ বসেনি। এই নিয়ম কানুনগুলোই হলো Grammar।
তার মানে, Grammar এর সংজ্ঞা হলো— একটি ভাষাকে সঠিকভাবে লিখতে, পড়তে ও বলতে পারার জন্যে যে সকল নিয়ম-কানুনের প্রয়োজন হয় সেগুলোকে Grammar (ব্যাকরণ) বলে।
যেমন— English Grammar, Bangla Grammar ইত্যাদি।
.English Grammar :
English Language সঠিকভাবে লিখতে, পড়তে ও বলতে পারার জন্যে যে সকল নিয়মকানুন প্রয়োজন সেগুলোকে English Grammar বলে।
Sound :
মনে করো, তুমি আল আমিন। তোমার ছোট বোন সামিহা বর্ণপরিচয় শিখছে। তুমি তোমার পড়ার টেবিল থেকে শুনতে পার সামিহার পড়া। সে পড়ছে A, B, C, D। তুমি সামিহার পড়ার ঘরে গিয়ে দেখলে তার শিক্ষক ‘B’ এর উপর হাত রেখে সামিহাকে বলছেন— ‘বল— we/we/we’। সামিহা আনন্দের সাথে শিক্ষককে অনুসরণ করছে। তুমি এতক্ষণ সামিহার পড়ার সময় যে আওয়াজ শুনেছ, তাই হলো Sound (ধ্বনি)।
তার মানে, Sound এর সংজ্ঞা হলো—
ভাষার সবচেয়ে ছোট একককে Sound (ধ্বনি) বলে।
বাংলা
মো. সুজাউদ দৌলা, সহকারী অধ্যাপক
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
অপেক্ষা
সেলিনা হোসেন
প্রশ্ন-৫। জসীম কে? কারা, কীভাবে তাকে হত্যা করেছিল?
উত্তর: ‘অপেক্ষা’ গল্পের অন্যতম চরিত্র মুক্তিযোদ্ধা জসীম।
জসীমের পরিচয়: জসীম হলো গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ। রুমা ও রুবা নামে তার আদরের দুটি মেয়ে ছিল। স্ত্রী ও মেয়েদের নিয়ে জসীমের ছিল সুখের সংসার। আর তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো, সে ছিল একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
যারা জসীমকে হত্যা করে: পাকিস্তানি মিলিটারিরা জসীমকে হত্যা করে।
যেভাবে জসীমকে হত্যা করে: দেশে যুদ্ধ শুরু হলেই জসীম মিয়া যুদ্ধে যোগ দেয়। শহর থেকে আসা ছেলেদের কাছে রাইফেল চালানো শিখে নেয়। তারপর গ্রামে গড়ে তোলে মুক্তিবাহিনী। একদিন মিলিটারিরা বাজারে আগুন দেয়। বিভিন্ন দিকে তারা গুলি চালাতে থাকে। জসীম পড়ে যায় মিলিটারিদের সামনে। একটা গুলি লাগে জসীমের বুকে। এভাবেই জসীম শহীদ হয়।
মূলত, জসীম হলো গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ এবং পাকিস্তানি মিলিটারির গুলিতে তিনি শহিদ হন।
প্রশ্ন-৬। গভীর রাতে রুমা-রুবাদের বাড়িতে কারা আসত? তারা কাদের সঙ্গে লড়াই করেছিল?
উত্তর: মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘অপেক্ষা’ গল্পে মুক্তিযুদ্ধের সাথে একটি পরিবারের সম্পর্ক বর্ণিত হয়েছে।
গভীর রাতে যারা আসত: রুমা-রুবার বাবা জসীম মিয়া ছিল স্থানীয় মুক্তিবাহিনীর সংগঠক। পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে তিনি শহিদ হয়েছিলেন। কিন্তু এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা জসীমের বাড়িতে যাতায়াত করত। কোনো সাহায্য বা খাবারের প্রয়োজন হলে তারা গভীর রাতে রুমা-রুবাদের দরজায় গিয়ে আওয়াজ করত।
তারা যাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল: মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সৈন্যদের সাথে যুদ্ধ করেছিল। কারণ পাকিস্তানি সৈন্যরা চেয়েছিল দেশ দখল করতে। তারা এদেশে গণহত্যা চালিয়েছিল।
গভীর রাতে রুমা-রুবাদের বাড়িতে পীড়িত ও ক্ষুধার্ত মুক্তিযোদ্ধারা আসত। তারা হানাদার পাকিস্তানি সৈন্যদের সাথে যুদ্ধ করেছিল।
প্রশ্ন-৭। রুমা ও রুবা রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না কেন?
উত্তর: ‘অপেক্ষা’ গল্পের দুই কিশোরী মেয়ে রুমা ও রুবা।
যে কারণে ঠিকমত ঘুমাতে পারে না: রুমা ও রুবার বাবা জসীম মিয়া ছিল মুক্তিযোদ্ধা। তিনি সহযোদ্ধাদেরকে বলেছিলেন যে, যেকোনো প্রয়োজনে তারা যেন জসীম মিয়ার বাড়িতে যায়। এর কিছুদিন পরেই জসীম মিয়া শহিদ হন। কিন্তু প্রায়ই গভীর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা আসে। তারা প্রয়োজন সেরে বা খাবার খেয়ে চলে যায়। ফলে রাতেও তারা জেগে থাকে। দরজায় শব্দ হলেই তারা বুঝতে পারে মুক্তিযোদ্ধারা এসেছে। এ কারণেই রুমা আর রুবা রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারে না।
পরিশেষে বলা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে রুবা ও রুমা মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করে।
