শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ৮ আশ্বিন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

শার্টের ছেঁড়া বোতামের সূত্র ধরে খুনি শনাক্ত ও গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৩, ১৯:৩৩

শার্টের ছেঁড়া বোতামের সূত্র ধরে মোহাম্মদ আলী (৪৫) নামের এক ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাবার ২০ বিঘা সম্পত্তির বেশিরভাগ অংশ মেয়ে হনুফা আক্তারকে ওসিয়ত দলিল করে দেওয়া মোহাম্মদ আলী বোনের ওপর ক্ষিপ্ত হন। এর জের ধরে গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাভারে বাসায় ঢুকে মোহাম্মদ আলী শ্বাসরোধ করে বোন হনুফাকে হত্যার পর পালিয়ে যান।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস এন্ড ট্রাফিক) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী বলেন, ঘটনার সময় হনুফা আক্তারের স্বামী হারুন অর রশিদ তুষার তারাবির নামাজ পড়তে পাশের মসজিদে যান। নামাজ পড়ে বাসায় ফিরে দেখেন বেডরুমের খাটের ওপর তার স্ত্রীর লাশ। হনুফার মুখ দিয়ে তখন লালার মতো করে রক্ত বের হয়েছিল। পরে তিনি বাদী সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মো. আব্দুল্লাহিল কাফী আরও বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দিদার হোসেন সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সসহ ঘটনার মূল রহস্য উন্মেচনে মাঠে নামেন। ঘটনাস্থলে তদন্তকারী টিম তল্লাশি করাকালে ঘরের মেঝেতে একটি বোতাম এবং একটি হ্যান্ডগ্লাভসের অংশবিশেষ পান। বোতামটির সাথে হনুফার স্বামীর শার্টের বোতামের মিল ছিল না। বিভিন্ন কৌশলে তদন্তের এক পর্যায়ে দেখা যায়, মৃতের ভাই মোহাম্মদ আলীর পরিহিত শার্টের একটি বোতাম ছেঁড়া এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া বোতামের সঙ্গে মোহাম্মাদ আলীর একটি শার্টের অন্যান্য বোতামের সাথে হুবহু মিলে যায়। মোহাম্মাদ আলীর ডান কানের নিচে এবং নাকে হালকা নখের আচড় ছিল। পুলিশ মোহাম্মাদ আলীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ আলী জানান, ১২ বছর আগে তার বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় তিনি (মোহাম্মদ আলী) সমস্ত সম্পত্তি (আনুমানিক ২০ বিঘা) জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে নেন। পরে তার বাবা কটু ফকির আদালতে ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই মামলায় কটু ফকির তার নিজের ২০ বিঘা জমি ফিরে পান। এরপর কটু তার ২০ বিঘা সম্পত্তি একমাত্র মেয়ে হনুফা আক্তারকে ওসিয়ত দলিল করে দেন। এতে মোহাম্মদ আলী অর্ধেক সম্পত্তি তাকে দিয়ে দেওয়ার জন্য বোন হনুফাকে চাপ দিতে থাকেন। সম্পত্তি ফেরত না পেয়ে তিনি হনুফাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার সন্ধ্যায় হনুফার স্বামী হারুন তারাবির নামাজ পড়তে গেলে তিনি হনুফার বেডরুমে প্রবেশ করেন। হনুফাকে ধস্তাধস্তি করে খাটের ওপর ফেলে দেন। এ সময় তার শার্টের একটি বোতাম ছিঁড়ে যায়। এরপর বালিশচাপা দিয়ে বোনকে হত্যা করেন মোহাম্মদ আলী।

ইত্তেফাক/এসকে