বন্ধকী জুট মিলের কোটি টাকার যন্ত্রাংশ পাচারের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৮

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:১১

কুমিল্লার দেবিদ্বারে সোনালী ব্যাংকে বন্ধক রাখা একটি জুট মিলের কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ গোপনে পাচারের সময় মালামালসহ দুটি ট্রাক জব্দ করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জুট মিলের মালিকপক্ষের সহযোগী ও চালকসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সোনালী ব্যাংক পিএলসি’র ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মিলের মালিক আবুল বাশার ও সায়রা হায়দারসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের হাড়িখলা এলাকায় অবস্থিত ‘উষা জুট স্পিনার্স লিমিটেড’-এ এই পাচারের ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তাররা হলেন, ট্রাকচালক মো. রনি (২০), হেলপার ইয়াকুব মুন্সি (১৯), সহযোগী সুলতান (৩৪), অপর ট্রাকচালক শাহ আলম (৩২), হেলপার আরাফাত (১৮) এবং পাচারকাজে সহযোগী ফরহাদ হোসেন (৫০), মো. মকবুল হোসেন (৭৪) ও মো. নুরুল আমিন (৩৭)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সোনালী ব্যাংক পিএলসি ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের খেলাপি ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ‘উষা জুট স্পিনার্স লিঃ’-এর বিরুদ্ধে অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২০ মার্চ একটি অর্থঋণ মামলা (মামলা নম্বর- ১০০১/২০২৪) দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার রাতে মিলের মালিকপক্ষ ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ ও বন্ধকীকৃত বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ ট্রাকে তুলে গোপনে অন্যত্র পাচারের চেষ্টা চালায়।

মালামালবোঝাই ট্রাক দুটি চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের সোনাপুর এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জনতার সন্দেহ হয় এবং তারা ট্রাক দুটি আটকে দেয়। খবর পেয়ে চান্দিনা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-১০৮৩ এবং ঢাকা মেট্রো-ন-২১-৫৩৫৮ নম্বরের দুটি ট্রাক এবং ভেতরে থাকা স্পিনিং মিলের মোটরসহ মোট ১২,৯৫৫ কেজি যন্ত্রাংশ জব্দ করে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে দুই চালক ও তিন সহযোগীকে আটক করা হয়। পরে আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের আরও তিন জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মূল ঘটনাস্থল দেবিদ্বার থানা এলাকায় হওয়ায় চান্দিনা থানা পুলিশ জব্দকৃত ট্রাক ও মালামালসহ আসামিদের দেবিদ্বার থানায় হস্তান্তর করে।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বন্ধকী সম্পদ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আইনি আমানত। ব্যাংক কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারদের বুধবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পেছনে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’

ইত্তেফাক/এপি