স্পোর্টস রিপোর্টার
একসময় খ্যাপাটে এক চরিত্র ছিলেন। মুখে যা আসতো বলে দিতেন, ব্যাটের চেয়ে মুখ বেশি চলতো। সেই দিন বদলে গেছে। ডেভিড ওয়ার্নার নিজেই সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, এখন ড্রেসিংরুমে সতীর্থরা তাঁকে ‘বিনয়ী’ বলে ডাকে। এখন তিনি যা বলার ব্যাট দিয়ে বলতে চান। ওয়ার্নার বলছেন, এই বদলে যাওয়া সময়ে তিনি যতো বেশি সম্ভব রান করতে চান। এক বছর নিষিদ্ধ থাকার সময়টাতে মিস করা সব রান তুলে আনতে চান।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের পর ওয়ার্নার বলছিলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়টা কোনো কোনো দিকে তাঁর উপকারও করেছে। বাংলাদেশে খেলে গেছেন। তাই এই দেশটির বোলারদের সম্পর্কে ভালো ধারণা ছিল বলে রান করাটা তার সোজা হয়েছে বলে বলছিলেন, ‘আমরা গত ১২ মাসে অনেক ধরনের ক্রিকেট খেলেছে। আমি এই সময়ে অনেক জায়গায় অনেক ধরনের মানুষের সঙ্গে মিশেছি। বিশেষ করে বাংলাদেশে গিয়ে অনেকের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ওদের চিনতে পারা, জানতে পারাটা খুব কাজে দিয়েছে। এটা নতুন একটা বিশ্বের প্রতি আমার চোখ খুলে দিয়েছে। এখন এই ধরনের ব্যাপার আমার কাছে স্বাভাবিক হয়ে গেছে।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সেঞ্চুরি করার পর ওয়ার্নার এখন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক; তাঁর সঙ্গে আছেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। আর তাঁদের ওপরে আছেন রিকি পন্টিং। এই যে এতো দ্রুত রেকর্ড সব নিজের করে নিচ্ছেন, এর পেছনে একটা বিশেষ তাড়না আছে। ওয়ার্নার বলছিলেন, এক বছরে মিস করা সব রান তিনি তুলে নিতে চান, ‘ব্যাপারটা হলো মাঠে গিয়ে মিস করা এক বছরের রান করে নেওয়ার চেষ্টা করা। আমার কাছে এখন আসল ব্যাপার হলো, মাঠে গিয়ে যতো বেশি সম্ভব রান করা এবং দলকে যতো বেশি সম্ভব স্কোর এনে দেওয়া। আমি এক বছরে যতো রান করেছি, সব তুলে নিতে চাই। আমি দলকে এক বছরে যা দিতে পারিনি, সেটা এখন দিয়ে দিতে চাই।’
এই টুর্নামেন্টে এটা ছিল ওয়ার্নারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। যদিও এই সেঞ্চুরিটা করতে গিয়ে প্রথম দিকে বেশ সময় নষ্ট করেছেন ওয়ার্নার। শুরুতে সে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সমালোচনাও হচ্ছিল। তবে নিজের ইনিংসটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওয়ার্নার বলেছেন, ‘আমি মাঠে গিয়ে ধীরগতিতে খেলতে চাইনি। তবে আমি ফিল্ডার আর বোলার হিসাব করে খেলছিলাম। আমি ভারতের বিপক্ষে হতাশ হয়েছি। আফগানিস্তানের বিপক্ষেও হতাশ হয়েছি। কিন্তু এদিন ফিঞ্চি (অ্যারন ফিঞ্চ) আমাকে বললো, যতো বেশি সময় ধরে ব্যাট করতে এবং সময় নিতে। আমি আট বা নয় ওভার পর্যন্ত সেই সময়টা নিলাম। আমার সাধারণ খেলা এটা নয় যে, আমি এক প্রান্ত আগলে রাখবো। আমি সাধারণত গিয়েও চড়াও হওয়ার চেষ্টা করতাম। কিন্তু আমার মনে হয়, এখন আমার মানসিকতাও একটু পরিণত হয়েছে।’
