আওয়ামী লীগ নেতা কুদ্দুস হত্যায় ৮ জন গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৩, ১৬:১৭

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস সরকারকে হত্যার অভিযোগে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আব্দুল বাতেন, পুলিশ সুপার মো. আরিফুর রহমান মণ্ডল। 

এ সময় রান্ধুনীবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পে লুট হওয়া একটি এসএমজি, ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১১ রাউন্ড গুলি, ২টি চাকু ও ১টি সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। 

আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস সরকার। ছবি: ইত্তেফাক

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার বাঙ্গালা পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত আমীর সরকারের ছেলে মো. জহুরুল ইসলাম তুষার (২৫), একই উপজেলার কাটাখালি পূর্বপাড়া গ্রামের মো. আমীর সরকারের ছেলে মো. রহমত আলী (৪৫), দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার সুজাপুর বানিয়াপাড়া গ্রামের বিকাশ মহন্তের ছেলে বিশ্বনাথ মহন্ত (২৩), সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সুজা দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত গফুর মোল্লার ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম (৪০), রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণপুর উত্তরপাড়ার মৃত গকুল চন্দ্র দাসের ছেলে বলরাম চন্দ্র দাস (৩৮), তাড়াশ উপজেলার গুড়পিপুল গ্রামের মৃত শংকর চন্দ্র দাসের ছেলে উত্তম চন্দ্র দাস (৪০), একই উপজেলার টাগরা দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত জুরান উদ্দিনের ছেলে মো. রহমত আলী (৪৮) ও দেওঘর গ্রামের মৃত গণেশ উরাওয়ের ছেলে সুনীল উরাও (৪৫)।

জানা যায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় উপজেলার ভোগলমান বাজারে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস সরকারকে মুখোশধারী ১৪-১৫ অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত গুলি করে হত্যা করে। পরে তারা পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির লিফলেট ও শ্লোগান দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনার পর থেকে পুলিশ রহস্য উদঘাটনে তৎপর হয়। দীর্ঘ দু’মাসের চেষ্টার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

ডিআইজি মো. আব্দুল বাতেন বলেন, বছর খানেক আগে থেকেই তারা হত্যা পরিকল্পনা করে। ২০১৯ সালে বগুড়ার শেরপুরে সর্বহারা পার্টির সদস্য পরিচয়ে পুলিশের এসআই নান্নুর ওপর হামলা করে। ওই মামলায় সাক্ষী ছিলেন নিহত আব্দুল কুদ্দুস। ওই মামলায় দু’জন আসামি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। তাদের ওপর অবিচার করা হয়েছে এ ধারণা থেকে তারা আওয়ামী লীগ নেতা কুদ্দুসের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এ কারণেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সর্বহারা পার্টির সদস্যরা তাকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ক্ষেত্রে বাধা মনে করতো। এ কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। 

পুলিশ সুপার মো. আরিফুর রহমান মণ্ডল বলেন, শনিবার (১৫ এপ্রিল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার দোগাড়ীয়া ঈদগাহ মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেওঘর গ্রাম থেকে সুনীল উরাওকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ২০০২ সালে বেলকুচির রান্ধুনীবাড়ী পুলিশ ক্যাম্প থেকে লুট হওয়া ১টি এসএমজি, ১টি থ্রি নট থ্রি রাইফেল, ১টি থ্রি নট থ্রি কাটা রাইফেল, ১১ রাউন্ড গুলি, ২টি চাকু, ১টি সাউন্ড গ্রেনেড ও ১টি ভ্যানগাড়ি উদ্ধার করা হয়।

ইত্তেফাক/এবি/পিও