স্পোর্টস ডেস্ক
শেষ চার বছরে ইংল্যান্ড নিজেদের এক দিনের ক্রিকেটে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এমন এক দলের সদস্য হতে পেরে নিজেকে গর্বিত ভাবছেন ৩২ বছর বয়সি ইংলিশ অলরাউন্ডার মইন আলি। গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজের শততম ম্যাচটি খেলার আগে এ কথা জানান তিনি।
চার বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। যাকে দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে মুহূর্ত হিসেবেও দেখছিলেন সাবেকরা। এর পর থেকেই ওয়ানডেতে অন্য এক ইংল্যান্ডকে দেখেছে বিশ্ব।
শেষ চার বছরে ৮৬ ম্যাচ খেলেছে তারা। জয় পেয়েছে ৫৬টি ম্যাচে, যা ২০১৫ বিশ্বকাপের পর সর্বোচ্চ। এ সময়ে ৩৬টি ইনিংসে ৩০০ কিংবা তার চেয়েও বেশি রান করেছে দলটি, যে কীর্তি শেষ চার বছরে এতবার করে দেখাতে পারেনি কোনো দলই। ৪০০ রানের ইনিংস ছিল ৪টি যেখানে ২০১৫ সালের পর ওয়ানডে ক্রিকেট ৪০০ই দেখেছে মোটে ৫ বার।
দলের এমন পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছেন মইন আলি। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর বোলিংয়ে ৬২ উইকেট নিয়ে দলটির চতুর্থ সফল বোলার বনে গেছেন তিনি। ব্যাটিংয়েও এ সময়ে দলের ষষ্ঠ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনিই। শততম ওয়ানডের মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে মইন আলি বলেন, ‘ইংল্যান্ডের হয়ে শততম ম্যাচ খেলাটা স্বপ্নের মতো ব্যাপার। এটা দলের অংশ হওয়া, পরিবর্তনের অংশ হওয়াটা গর্বের বিষয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘পেছন ফিরে তাকালে আমি বলব অবসরের আগেই এমন একটা পরিবর্তনের অংশ হবার ইচ্ছা সব সময়ই ছিল। পুরো দলের মানসিকতাটাই পালটে গেছে, আমরা অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছি।’
এক সময় ইংল্যান্ড দলের টপ অর্ডারে খেলা মইন আলিকে সময়ের প্রয়োজন মেটাতে নেমে আসতে হয়েছে লোয়ার মিডল অর্ডারে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই খেলোয়াড়ের মতে, ব্যাটিং অর্ডারের নিচের দিকে ব্যাট করাটা মোটেও সহজ কাজ নয়। তিনি বলেন, ‘সাত ব্যাট করার জন্য সহজ কাজ নয়। তখন খেলার গতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেবার একটা ব্যাপার থাকে এবং আপনার ওপর দ্রুত রান তোলার একটা ব্যাপার থাকে, যা সব সময় সম্ভব হয় না।’
তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেললেও শিরোপাটা সব সময় অধরাই থেকে গেছে ইংল্যান্ডের। তবে ঘরের মাঠে এবার শিরোপা জেতার সুযোগ হারাতে চান না মইন। তিনি বলেন, ‘দলের সবার কাছেই শিরোপাটা পরম আরাধ্য। আশা করি, এবার এটা জিততে পারব।’
