নিউমার্কেটে আগুন

এক পাশে আগুন, অন্য পাশে কেনাকাটার ধুম

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৩, ২০:১৬

দেশে এক আগুনের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক আগুনে তছনছ করে দিচ্ছে জনজীবন। রাজধানীর ঢাকা নিউ সুপার মার্কেটে শনিবার (১৫ এপ্রিল) ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে আগুন লাগে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ৩০টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। তবে এর উল্টোপাশে ধানমন্ডি হর্কাস মার্কেট ও নূরজাহান মার্কেটসহ এ পাশের মার্কেটগুলোতে কেনাকাটার ধুম। 

দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, মার্কেটসহ আগুনের ঘটনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নিউ মার্কেট বন্ধ ঘোষণা করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া আজ শনিবার সকাল থেকে পার্শ্ববর্তী চাঁদনী চক ও গাউছিয়া মার্কেটও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। 

ছবি: আব্দুল গনি

গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন। তিনি জানান, শনিবারের আগুনে প্রায় ২০০ দোকান পুড়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি দোকানে ২০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত মালামাল ছিল। 

কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা ও বিক্রেতারা।

আগুন লাগার কারণে ঢাকা নিউ মার্কেট, ঢাকা নিউ সুপার মার্কেট ও রাস্তার এপারের চাঁদনী চক ও গাউছিয়া মার্কেটও বন্ধ থাকায়  আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও যাদের দোকানে আগুন লাগেনি কিন্তু মার্কেট বন্ধ ঘোষণা করায় তারা(দোকানীরা) ঈদ মৌসুমে ব্যবসা করতে না পারায় হাহাকার করছে। 

এদিকে, রোডের অন্যপাশের  ধানমন্ডি হর্কাস মার্কেট, নূরজাহান মার্কেট, গ্লোব মার্কেটসহ আরও কিছু মার্কেট রয়েছে সেখানে গিয়ে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এসব মার্কেটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভিড়ে মার্কেটে পা ফেলা কষ্টকর। এখানকার ক্রেতা-বিক্রেতাদের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই যে তাদের পাশের মার্কেটে ভয়াবহ আগুনে সব কিছু তছনছ হয়ে গেছে। 

আজিমপুর থেকে আগত তানিসা জামান ও ইলা হক এসেছেন ধানমন্ডি হর্কাস মার্কেটে কেনাকাটা করতে। পাশের মার্কেটে এত ভয়ংকর আগুন লাগার পর মার্কেটে এসেছেন তা জানতে চাইলে ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘আগুন তো লেগেছিল, এখনতো আগুন নেই তা জেনেইতো আসছি তাই না। ঈদের আর বেশি দিন বাকি নেই তাই তাড়াহুড়া করছি।’

কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা।

মালিবাগ থেকে কেনাকাটা করতে আসা মা আফরোজা বেগম-মেয়ে আনিসা আফরোজ এসেছেন নূরজাহান মার্কেটে। তারা ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘টিভিতে দেখে এসেছি আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে সুতরাং বিপদ নেই। আমরাতো তেমন কিছু কেনাকাটা করব না আমরা জুতো, ব্যাগ ও কসমেটিকস কিনে বাসায় চলে যাব।’

চাঁদনী চক মার্কেট বন্ধ ঘোষণা করা হলেও বিকেলে অনেক ব্যবসায়ী দোকান খুলেছেন। ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন, ডিপজল ও মনোয়ার মিয়া ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘ঈদের আগে চারদিকে আগুন, সবাই লসে আছে। আমাদের এইসব দোকান দিয়ে চলতে হয়। আমাদের দোকানভাড়া দিতে হবে, সংসার টেকাতে হবে। বাধ্য হয়েই দোকান খুলেছি।’

ছবি: আব্দুল গনি
মিরপুর রোডের একপাশে ঢাকা নিউ মার্কেট, ঢাকা নিউ সুপার মার্কেট ও চন্দ্রিমা মার্কেট। রোডের অন্যপাশে চাঁদনী চক মার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, ধানমন্ডি হর্কাস মার্কেট, নূরজাহান মার্কেট, গ্লোব মার্কেটসহ আরও কিছু মার্কেট রয়েছে। রাস্তার এপার-ওপারের মার্কেটগুলো সংযোগ করেছে দুইটি ওভারব্রিজ। এর মধ্যে আগুন লাগা নিউ সুপার মার্কেটের সঙ্গে চাঁদনি চক মার্কেটকে সংযুক্ত করেছে একটি ওভারব্রিজ। যেটি গেলো এক বছর ধরে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে।

নিউ মার্কেট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নিয়ম না মেনে, বিদ্যুৎ–সংযোগ বন্ধ না করে সিঁড়ি ভাঙার কারণে আগুন লাগতে পারে।

এদিকে ব্যবসায়ীদের দাবির কয়েক ঘণ্টা পরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, আগুনের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কাজের সম্পর্ক নেই। কারণ হিসেবে তারা বলেছে, নিউ মার্কেট সংলগ্ন একটি পথচারী পারাপার সেতুর সঙ্গে নিউ সুপার মার্কেটের সংযোগ দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএ