বায়োম্যাট্রিক হাজিরা বেতন গ্রেড ও পদোন্নতি

আপডেট : ২১ জুন ২০১৯, ২১:২১

 

প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য বায়োম্যাট্রিক হাজিরা প্রণয়ন করেছেন কর্তৃপক্ষ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথাসময়ে হাজিরা নিশ্চিত করতেই মূলত এই ডিজিটাল ব্যবস্থা। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার কোনো সুযোগ নেই, কিন্তু কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়। যেমন এই পদ্ধতি কেবল প্রাথমিক শ্রেণিতেই কেন হবে? মাধ্যমিক এবং কলেজ পর্যায়েও কেন নয়? যদিও মাধ্যমিক পর্যায়ের কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এর মধ্যেই পুরো ডিজিটাল মাধ্যমের আওতায় আনা হয়েছে, কিন্তু সেই সংখ্যা হাতেগোনা।

বহুদিন ধরেই প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবি সময়সূচি একটু কমিয়ে আনার। আমাদের দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের অবস্থান করতে হয়। শিক্ষকদের জন্য এই সময়সূচি আরো ১৫ মিনিট বেশি অর্থাত্ তাদের স্কুুুল ত্যাগের সময় ৪টা ৩০ মিনিট। এই সাড়ে সাত ঘণ্টা বিদ্যালয়ে অবস্থান শিক্ষার্থী-শিক্ষক উভয়ের ক্ষেত্রেই চাপ। যথাসময়ে ক্লাসে উপস্থিত হওয়া শিক্ষকদের নৈতিক দায়িত্ব। এ কথা ঠিক যে, কোনো কোনো শিক্ষক ঠিক সময়ে উপস্থিত হন না। তবে সবাই যে দেরি করে উপস্থিত হন তা বলা ঠিক নয়।

বায়োম্যাট্রিক হাজিরা ঠিক সময়ে উপস্থিত এবং ঠিক সময়ে বিদ্যালয় ত্যাগ নিশ্চিত করবে, প্রাথমিক শিক্ষার জন্য যা মঙ্গলজনক। এক্ষেত্রে একটি বিষয় বিবেচনার দাবি রাখে। যেসব শিক্ষক দুর্গম চরাঞ্চলে চাকরি করেন তাঁদের যথাসময়ে উপস্থিত হওয়া বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কারণ অনেক স্থানে পরিস্থিতি এতটাই দুর্গম যে সেখানে যাওয়াটাই দুঃসাধ্য। সেখানে থাকারও ভালো ব্যবস্থা নেই। ফলে সেইসব শিক্ষকের জন্য এটা অত্যন্ত দুরূহ হবে। আর শিক্ষক হাজিরা নিশ্চিত করতে হলে কেবল প্রাথমিক নয় বরং মাধ্যমিক এবং কলেজ পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ কোটির বেশি। এর মধ্যে দারিদ্র্যপ্রবণ ১০৪টি উপজেলার সবগুলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুরে রান্না করা খাবার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রায় ৩২ লাখ শিক্ষার্থীকে এর আওতায় আনা হবে। এতে অবশ্যই একটি বড় ধরনের দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। যার মধ্যে অন্যতম হবে প্রতিটি শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আসা।  সরকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর পৌঁছে দিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পাঠদান করার জন্য পর্যায়ক্রমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে ক্লাস আর আগের মতো একঘেয়েমি হয়ে ওঠার সুযোগ নেই। শিক্ষকের দক্ষতার কথা বললে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এখন যারা নিয়োগ পাচ্ছে তারা দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষিত। মেয়েদের প্রাথমিকে শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করা হয়েছে। ফলে সবাই শিক্ষিত ও প্রাথমিক শিক্ষার জন্য যথেষ্ট দক্ষ তা ধরে নেওয়া যায়। যেটুকু ঘাটতি থাকে তা হলো পাঠদানের কৌশল ও উপকরণ ব্যবহার। এটি নিশ্চিত করা হচ্ছে শিক্ষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। প্রাথমিক শিক্ষায় বিনা বেতনে লেখাপড়া করার সুযোগ ছাড়াও প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বৃত্তিও দেওয়া হয়। শিশুর অভিভাবকের কাছে এ বৃত্তির অর্থ পৌঁছে যাচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে সহায়তা করছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণসহ আরো সুযোগ-সুবিধা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে। 

কথায় বলে, পেটে খেলে পিঠে সয়। সহকারী শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি প্রধানশিক্ষকদের পরের গ্রেডে বেতন পাওয়া অর্থাত্ ১১তম গ্রেডপ্রাপ্তি। প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টি নিয়েও কর্তৃপক্ষকে ভাবতে হবে। কারণ  কেবল বেতনের জন্যই চাকরি নয়, বরং পদোন্নতির ব্যবস্থা থাকলে সেই কাজে মনোযোগ দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়।  পদোন্নতি বিহীন চাকরিতে শিক্ষকদের মনে হতাশা জন্ম নেওয়া স্বাভাবিক। প্রাথমিক শিক্ষায় এখন যোগ্য ব্যক্তিরা আসছেন। ফলে কেবল গ্রেড বাস্তবায়ন নয়, সেইসঙ্গে পদোন্নতির সুবিধাও দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নেও আশু  পদক্ষেপ কাম্য।

পাবনা