জনদুর্ভোগ

গরমে বেড়েছে লোডশেডিং

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৩, ০২:২৬

দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যাপকহারে বাড়িয়েও লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমে বাড়ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও ফ্যানসহ নানা ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার বাড়ায় বিদ্যুৎ খরচ বেড়েছে। কিন্তু জ্বালানিসংকট, মেশিন বন্ধ থাকা এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে চাহিদার সমান উত্পদান করা যায় না। গত অন্তত ১০ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়ে চলেছে। সর্বশেষ গত রবিবার সাবস্টেশন পর্যায়ে ১ হাজার ২৯১ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ না থাকার পরিমাণ আরো বেশি। 

বিদ্যুৎ বিভাগ ও পিডিবি সূত্র জানায়, সম্প্রতি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ও ভারত থেকে আদানির বিদ্যুৎ আমদানি শুরু, পায়রাতে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খোলা বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি শুরুর ফলে সার্বিকভাবে বিদ্যুতের উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত হয়। চলতি সেচ ও গ্রীষ্ম মৌসুম উপলক্ষ্যে বিশেষ প্রস্তুতিও নেয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু স্মরণকালের সর্বোচ্চ গরমে সে প্রস্তুতিও পুরোপুরি কাজে আসছে না। তাই এলাকাভেদে কমবেশি লোডশেড করতে হচ্ছে। রাজধানী ও শহর এলাকায় লোডশেড কম হচ্ছে। মফস্সল ও গ্রামীণ এলাকায় অপেক্ষাকৃত বেশি করা হচ্ছে।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল রাত ৯টায় দেশে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। তবে ঐ সময় ৩০৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। সেদিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল বিকাল ৪টার দিকে ৭৭৬ মেগাওয়াট। তখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ২৮০ মেগাওয়াট। তবে পরের দিন শুক্রবার পহেলা বৈশাখের ছুটিতে (১৪ এপ্রিল) রাত ১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়। সারা দিন তা ওঠানামা করলেও রাত ১১টার পর আবারও লোডশেডিং হাজার মেগাওয়াট ছাড়ায়। এর মধ্যে রাত ৩টায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৮০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। ঐ সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৩২৮ মেগাওয়াট। শনিবার সাপ্তাহিক সরকারি ছুটির দিন ৯৫০ মেগাওয়াট লোডশেড করা হয়। গত রবিবার অফিস খোলার দিন সন্ধ্যায় পিক আওয়ারে ১ হাজার ২৯১ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয় সাবস্টেশন পর্যায়ে। ঐ দিন ১৫ হাজার ২৭৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সাবস্টেশন পর্যায়ে ১৫ হাজার ৯৮২ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হয়। বিতরণ পর্যায়ে প্রায় পৌনে ৮ শতাংশ সিস্টেম লস বিবেচনায় নিলে আরো ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ পাননি গ্রাহকরা।

রবিবারের সরবরাহ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঐ দিন সাবস্টেশন পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ৩৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে খুলনা অঞ্চলে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ লোডশেড ময়মনসিংহ ও কুমিল্লায়; যথাক্রমে ২৪৯ মেগাওয়াট ও  ২৪০ মেগাওয়াট। চট্টগ্রাম অঞ্চলে লোডশেড হয়নি। ঢাকায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ১০ মেগাওয়াট। তবে গ্রাহকরা এবং ইত্তেফাকের জেলা-উপজেলা প্রতিনিধিরা আরো বেশি লোডশেডিংয়ের অভিজ্ঞতা-তথ্য জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় সেচ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পিডিবি জানায়, এ দিন মেশিন শাটডাউনের কারণে ৩ হাজার ২৪১ মেগাওয়াট ও জ্বালানি (গ্যাস, কয়লা, তেল, পানি) সংকটের কারণে ১ হাজার ৯০৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়নি। দেশে বর্তমানে আমদানিসহ বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২২ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াট।

এদিকে গত শনিবার রাতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। যত দ্রুত সম্ভব এটি চালু করা হবে বলে কেন্দ্রটির মালিক কোম্পানি বিআইএফপিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম জানিয়েছেন। পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে উৎপাদন সক্ষমতাও বাড়িয়েছে সরকার। এলএনজি, কয়লাসহ জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনাও সেভাবে করা হয়েছে। তবে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি গরমের কারণে চাহিদা বেড়ে গেছে। গরম কিছুটা কমলে চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি থাকবে না বা কমে যাবে।

 

ইত্তেফাক/ইআ