রাজধানীর দক্ষিণখান ও উত্তরা এলাকায় ওয়াসার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিলো বাসিন্দারা। বিশুদ্ধ ও পরিষ্কার পানির দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে তারা। ট্যাপে কালচে ও ময়লা পানি আসতো। এতে পানি ব্যবহার করে দৈনন্দিন কাজ করতেও সমস্যায় পড়তে হতো। ওয়াসার লাইনের বিভিন্ন স্থান ফেটে ময়লা পানি ঢুকায় এ সমস্যা হতো বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। যার কারণে এটি পরিবর্তন করে স্বচ্ছ পানি সরবারহের দাবি উঠেছিলো। দীর্ঘদিন পর সেই পাইপ পরিবর্তন করেছে ওয়াসা। এতে বেশ কিছু এলাকায় স্বচ্ছ পানি আসছে। এতে স্বস্তি ফিরছে মানুষের।
ঢাকা ওয়াসার সঙ্গে চুক্তিতে চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড এ নতুন সংযোগ স্থাপন করে।
ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী রমেশ দাস জানান, মাঠ পর্যায়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে তার জোন থেকে সব সময়ই খোঁজ-খবর রাখছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকার মানুষ উপকৃত হবে।
সিপিপির সহকারী ব্যবস্থাপক তৌসিফ কবির বলেন, ‘আগের পুরান লাইন থেকে গড়ে ৩৯ শতাংশ পানি অপচয় হতো। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বঞ্চিত হতো ওয়াসা। লাইনের বিভিন্ন স্থান ফেটে ময়লা পানি ঢুকতো। এখন সম্পূর্ণ আধুনিক পদ্ধতিতে মেশিনের সাহায্যে পানির লাইন স্থাপন করা হচ্ছে। এতে পানি অপচয় অনেক কমে যাবে। পানিতে জীবাণু মিশতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকার দক্ষিণখান উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে এ বিশুদ্ধ পানি দিতে চায় ওয়াসা। যে কেউ খুব সহজেই এই পানির লাইনের সংযোগ নিতে পারবেন। নতুন পাইপ লাইন যেখানে চালু করা হচ্ছে, সেখানে পুরোনো লাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। নতুন লাইন থেকেও অবৈধ লাইন স্থাপনের সুযোগ নেই। দক্ষিণখানের চালাবন রোড ওয়াসার এলাকায় ১ বছর আগে এই রোডের দুপাশের সব গলিতে ওয়াসার প্লাস্টিকের পাইপ বসানো হয়েছে। এখন উত্তরার সেক্টর ৪, ৬ ও ৮ নম্বর এলাকায় বড় মোটা পাইপ স্থাপনের কাজ চলছে।’
কয়েক বছর আগে বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ঢাকা ওয়াসা সরবরাহ করা পানি ৯১শতাংশ গ্রাহকই ফুটিয়ে পান করেন। পানি ফোটানোর এ প্রক্রিয়ায় রাজধানীর বাসাবাড়িতে বছরে পুড়ছে ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ ৩৭ হাজার ঘনমিটার গ্যাস, অর্থাৎ এতে ব্যয় হচ্ছে ৩৩২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
