সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে রেশম চাষ করে অনেক পরিবার এখন স্বাবলম্বী হয়েছে। তাদের অভাবের সংসারে এসেছে সচ্ছলতা। নদী ভাঙন এলাকার মানুষেরা বাঁধ ও বিভিন্ন রাস্তার পাশে তুত গাছের চাষ করে পলু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছে। রেশম বোর্ড সিরাজগঞ্জ সূত্রে জানা যায়, রেশম চাষের জন্য আটটি সাব-সেন্টার রয়েছে। এগুলো হলো: সিরাজগঞ্জ সদর থানার বাগবাটি, খোকশাবাড়ী, ভাটপিয়ারী, ছোনগাছা, কাজিপুর উপজেলায় চালিতাডাঙ্গা ও শিমুল দাইড় এলাকা। এছাড়াও উল্লাপাড়া, তাড়াশ ও রায়গঞ্জে রেশম উত্পাদন হয়। সম্প্রসারণ কার্যক্রম চলছে এখানে তুত চারা গাছ প্রদান করে সরকারি বিভিন্ন পরিত্যক্ত জায়গায়, বাঁধ, রাস্তার ধারে গাছ লাগিয়ে তুত পাতা রেশম বা পলু পোকাকে খাওয়ানো হয়। এই পোকাগুলোকে ঘরে পালন করতে হয়। প্রতিদিন তিন-চারবার খাবার দিতে হয়।
জেলায় গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৩.৩০০ হাজার ডিম পালন করে ৩,১৬৫ কেজি রেশম গুটি উত্পাদন করা হয়। চলতি অর্থবছরে ইতোমধ্যেই দ্বিতীয় পর্যায়ে এই উত্পাদন আরো বৃদ্ধি পেয়ে ৩,৮৭৬ কেজি উত্পাদন হয়েছে। খোকশাবাড়ি গ্রামের আয়শা বেগম জানান, আমাদের বাড়ি যমুনায় ভেঙে যাওয়ার পর সংসারে অভাব নেমে আসে। কোনো কাজকর্ম না থাকায় অশান্তির মধ্যে পড়ি। পরে রেশম বোর্ডের কর্মকর্তাদের পরামর্শে রেশম চাষ করে এখন সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। সংসারে এখন আর অভাব নেই।
ভাটপিয়ারী গ্রামের রেশম চাষি আব্দুল খালেক জানান, নদী ভাঙনে বাড়ি-ঘর, জমি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ি। আমার যে বয়স তাতে কোনো জায়গায় গিয়ে কাজ করা সম্ভব না আবার রিকশাভ্যান চালানো সম্ভব না। ঠিক এইসময় রেশম বোর্ডের সহায়তায় রেশম চাষ শুরু করি। এখন আমার সংসারে আর অভাব নেই। বছরে চারবার আবাদ হয় তাতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা রোজগার করতে পারি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জের ব্যবস্থাপক আকতার হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার রেশমের দাম বাড়ানোর কারণে চাষিরা উত্সাহিত হয়ে ব্যাপকভাবে এই চাষ শুরু করেছে। তাছাড়াও সরকার চাষিদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই এই এলাকার ৪৫ জন চাষিকে একটি করে পলু ঘর, সরঞ্জামাদি সহায়তা বাবদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে । আরো ৩০ জন এই সহায়তা পাবেন বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে এই এলাকায় রেশম চাষে বিপ্লব ঘটবে।
