আস্থা ফেরাতে চেষ্টায় পিএসসি

এ বছরেই ৪১, ৪৩ ও ৪৪তম বিসিএসের ভাইভা শেষ করার পরিকল্পনা

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৩, ০৫:০৩

পরীক্ষার্থীদের আস্থা ফেরাতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। যদিও নন-ক্যাডার ইস্যুতে পিএসসির প্রতি আস্থাহীনতা ও অনাগ্রহ দেখা যায়। বিগত দুই বছর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে স্থবিরতায় বারবার হতাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য নিজেদের কার্যক্রমে গতি ফেরাতে চলতি বছরে তিন বিসিএসের ভাইভা শেষ করতে চায় পিএসসি। এই তিন বিসিএস হচ্ছে—৪১, ৪৩ ও ৪৪তম বিসিএস। বর্তমানে ৪১তম বিসিএসের ভাইভা নিচ্ছে পিএসসি। এটি শেষ করার পাশাপাশি বাকি দুই বিসিএসের কার্যক্রমও এগিয়ে নিতে কাজ করছে পিএসসি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির কর্মকর্তারা বলেন, চলমান তিনটি বিসিএস একটি নির্দিষ্ট গতিতে চলছে। তিন বিসিএসের ভাইভা কার্যক্রম শেষ করাই এখন পিএসসির অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এ বছরই তিনটির কার্যক্রম শেষ করা যাবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত কয়েক বছর পিএসসির প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে বিসিএস থেকে নন-ক্যাডার নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর পর একেবারে গরিব-মেধাবী শিক্ষার্থীরাই চাকরি পাচ্ছিলেন। নন-ক্যাডার নিয়োগ চালুর পর থেকে ৩৮তম বিসিএসে একটি নিয়মেই নিয়োগ পেয়ে আসছিলেন তারা। কিন্তু বর্তমান পিএসসি কর্তৃপক্ষের হঠকারিতায় দীর্ঘদিন চলা নন-ক্যাডার নিয়োগে ভাটা পড়ে। বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাডার-নন ক্যাডার পদ উল্লেখ করার নিয়ম জুড়ে দেওয়া হয়।

পিএসসির একাধিক সূত্র বলছে, পিএসসির প্রতি পরীক্ষার্থীদের আস্থা ফেরানোর পরিবর্তে তারা নিজেরাই বিভিন্ন ধরণের দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি গণমাধ্যমকে সরাসরি পিএসসিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের বর্তমান চেয়ারম্যান। এমনকি তিনি নিজেই ঐসব পত্রিকার বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দিয়ে নিজের ক্ষমতা দেখিয়েছেন। ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা, বিবাদ সৃষ্টি, নন-ক্যাডার আন্দোলনকারীদের তালিকা প্রস্তুতকরণ, পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারসহ নানা ধরনের অভিযোগ আছে বর্তমান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এসব কারণে আস্থার সংকটে পড়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। এই আস্থা ফেরানোর জন্য আসন্ন তিনটি বিসিএসের গতি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

পিএসসি সূত্র বলেছে, বর্তমানে ৪১তম বিসিএসের ভাইভা নিচ্ছে পিএসসি। প্রতিদিন যেভাবে ভাইভা নেওয়া হচ্ছে, তাতে এই বিসিএসের ভাইভা শেষ করতে ৮৭ কর্মদিবস প্রয়োজন। বেশ কিছু প্রার্থীর ভাইভা শেষ করে অন্য প্রার্থীদের ভাইভা নেওয়ার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে পিএসসি। এই বিসিএসে পরীক্ষকদের ভুলে লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখতে দেরি হওয়ার পর তা শোধরাতে পিএসসি নানা উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে আর যাতে দেরি না হয়, সেদিকে পিএসসির বিশেষ নজর আছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। ৪১তম বিসিএস শেষ করা পিএসসির সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকারের মধ্যে একটি। ৪৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখা শেষ করেছেন প্রথম পরীক্ষক। এখন এই বিসিএসে দ্বিতীয় পরীক্ষককে খাতা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তবে পরীক্ষকদের এ খাতা দেওয়ার পরও আগের মতোই খাতা দেখে তা জমা দিতে ১৫ দিন সময় বেঁধে দিতে পারে পিএসসি।

পিএসসি জানায়, যে তিনটি বিসিএস পিএসসির অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো ৪৪তম বিসিএস। এই বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এখন সেই খাতা দেখা শুরু করেছেন পরীক্ষকেরা। প্রথম পরীক্ষকদের দেওয়া সব খাতা দেখা শেষ করেছেন পরীক্ষকেরা। এই খাতা দেখতে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিল পিএসসি। এখন দ্বিতীয় পরীক্ষকদের খাতা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পিএসসি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, এই সপ্তাহে ৪৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার খাতা প্রথম পরীক্ষকেরা জমা দেওয়া শুরু হয়েছেন। প্রত্যেক পরীক্ষককে ১০০টি করে খাতা দেওয়া হয়েছে। আর খাতা দেখতে সময় দেওয়া হয়েছে ১৫ দিন। এভাবে সময়ের মধ্যেই যাতে খাতা দেখা শেষ হয়, সে জন্য এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পিএসসি। ৪৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর শুরু হয়, শেষ হয় জানুয়ারি মাসে। এই লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখা সময়মতো শেষ করতে চায় পিএসসি। আর খাতা দেখায় যাতে পরীক্ষক দেরি না করেন, সে জন্য পরীক্ষকদের খাতা সঠিক সময়ে জমা দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো পরীক্ষক সময়মতো খাতা জমা না দেন, তাহলে তাকে পরবর্তী সময়ে আর খাতা দেওয়া হবে না বলেও জানায় পিএসসির ঐ সূত্র।

চলতি বছর ৪৪তম বিসিএসের কার্যক্রম শেষ করার কথা জানিয়ে পিএসসির একটি সূত্র বলেছে, ৪৪তম বিসিএস অনেকটাই গুছিয়ে আনা হয়েছে। ৪৩তম বিসিএসের পাশাপাশি এই বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা আছে পিএসসির। এ বছরই এই বিসিএস শেষ করার কার্যক্রম হাতে নিয়ে এগোচ্ছে পিএসসি। অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের কারণে ৪৩তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল পেছাতে পারে বলে জানিয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। ঈদের আগেই এ মাসে এই বিসিএসের ফল প্রকাশের কথা থাকলেও তা ঐ কারণে পেছাতে পারে। লিখিত পরীক্ষার সব খাতা দেখা শেষ। যে কোনো সময় এই বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার কথা থাকলেও ঈদের আগে তার  সম্ভাবনা কম।

সূত্র জানায়, ফলাফলে যেন কোনো ত্রুটি না থাকে এবং কোনো পরীক্ষার্থী যেন ত্রুটির কারণে বাদ না পড়েন, সে জন্য ফল অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কেন শেষ সময়ে এসে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো—জানতে চাইলে সূত্রটি জানায়, ৪৩তম বিসিএসের ফল প্রকাশে আসলে খুব লাভবান হবেন না প্রার্থীরা। কেননা, ৪১তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা চলমান। এটি শেষ না হলে ৪৩তম বিসিএসের ভাইভা নেওয়া সম্ভব নয়। তাই হাতে যেহেতু সময় আছে সে জন্য পিএসসি ফলাফল অধিকতর যাচাই-বাছাই করতে চায়।

পিএসসি সূত্র জানায়, গত মাসেই ৪৩তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখা শেষ করেছে পিএসসি। প্রকাশের জন্য ফলাফলও তৈরি করা আছে। তবে অধিকতর যাচাই-বাছাই করার কারণে ফল ঈদের আগে প্রকাশের সম্ভাবনা কম। এ ছাড়া ফল প্রকাশের সঙ্গে ভাইভার তারিখও প্রকাশিত হতে পারে। তবে ভাইভার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে ৪১তম বিসিএস। ঐ বিসিএসের ভাইভা চলমান। সেটি শেষ হলে ৪৩তম বিসিএসের ভাইভা শুরু করতে পারবে পিএসসি।

 

ইত্তেফাক/ইআ