অতিরিক্ত গরমের কারণে রুমেলের মৃত্যু, ধারণা পুলিশের

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৩, ১৯:৫৮

বগুড়ার বহুল আলোচিত প্রতিবাদী যুবক হুমায়ুন আহমেদ রুমেল অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে শহরের নাটাই পূর্বপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি।

গত মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) রাত সোয়া ১২টার দিকে রুমেল তার ফেসবুকে লেখেন, বগুড়ার বিমানবন্দর চালু করার দাবিতে সিসি ক্যামেরার সামনে আমরণ অনশন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঈদ পার হলেই শুরু হবে আন্দোলন।’

গত মাসে বগুড়ার শহীদ চান্দু ষ্টেডিয়াম ভেন্যু বাতিল করা হলে রুমেল এই ভেন্যু ফিরিয়ে আনতে দুই দফা অনশন করে আলোচিত হন। রুমেল ওই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত জালালউদ্দিনের ছেলে। 

সর্বশেষ রুমেল তার ‘রুমেল ভাই (মোঃ হুমায়ূন আহম্মেদ রুমেল)’ ও ‘চ্যানেল বগুড়া’ নামে ফেসবুক আইডিতে একই সময়ে বুধবার (১৯ এপ্রিল) রাত ১১টা ৪২ মিনিটে লেখেন ‘জীবনের প্রথম স্মৃতি এবং জীবনের শেষ স্মৃতি প্রতিটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ...।’ ফলে তার আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন মহলে দেখা দিয়েছে নানান গুঞ্জন। 

রুমেলের বন্ধু রাসেল ইসলাম বলেন, রুমেলের সঙ্গে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে কথা বলি। সে মানসিকভাবে অনেক চিন্তিত ছিল। বগুড়া স্টেডিয়াম ফিরিয়ে আনতে সে অনশন করেছিল। কিন্তু তাকে সেভাবে কেউ মূল্যায়ন করেনি। তবুও সে বগুড়াবাসীর জন্য ঈদের পর আবারও বিমানবন্দরের জন্য অনশনে বসতে চেয়েছিল। 

দুদিন আগেও রুমেল ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেটা হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘জীবনের প্রথম বুদ্ধি বয়সের শুরুর অনুভূতিতে মনে হয়েছিল জীবন অর্থহীন, আজ প্রায় ৩০/৩৫ বছর পরও আমার কাছে জীবন একই রকম অর্থহীন মনে হয়। বেচেঁ থাকা মানে যদি হয় ৩৬৫ দিন শুধুমাত্র বিভিন্নরকম অমানুষিক জ্বালা যন্ত্রণা সহ্য করা তাহলে সে জীবন অর্থহীন জীবন ঠিক যেমনটি আমার। ১৯৯০ এর দশকে আমার ছেলেবেলার সময় বগুড়ার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র বলতে ছিল পৌর পার্ক বা উডবার্ন পার্ক। ঈদ-এর দিনগুলোতে একা একা সেখানে যেতাম কারণ ভালো পোশাক এবং পকেটে টাকা না থাকায় আমাকে কেউ সঙ্গে নিতে চাইতো না। আজ ৯০ সাল পেরিয়ে ২০২৩ সাল, আজও ভালো পোশাক এবং পকেটে টাকা না থাকায় রুমেলকে কেউ সঙ্গে নিতে চায় না। আপনাদের বউ বাচ্চা আছে, আনলিমিটেড গার্লফ্রেন্ড আছে, লোকবল আছে, প্রয়োজনীয় অর্থ আছে। কিন্তু আমার কি আছে? আমার বেচেঁ থাকা কেন অর্থহীন নয়?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বগুড়ার একজন লেখক বলেন, তার ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে সন্দেহ করা হচ্ছে যে, সে কোনো প্রভাবশালী মহলের হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। সে কারণে হয়তো চাপে ছিল। তার পরিবারের সঙ্গে কথা বললে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হওয়া যাবে।

রুমেলের ঘনিষ্টজন বলে পরিচিত কবি ও সাংবাদিক বাবু বসুধা জানান, মোবাইলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। সেটা আমি জানতে পারি র‌্যাব অফিস থেকে বের হওয়ার সময় তার সঙ্গে আমার দেখা হয়। তখন সে আমাকে বলেছিল যে, আমি লিখিত অভিযোগ করেছি। এছাড়া শহরে বাড়ি থাকার পরও সে একা একটা অন্ধকার ঘরে বসবাস করতো। তার ভাইয়েরা তার খোঁজখবর রাখতো না। এখন ঠিক কি কারণে যে হঠাৎ করে মারা গেল মেনে নিতে পারছি না। 

রুমেলের প্রতিবেশী রকি হোসেন বলেন, হঠাৎ করে ভোরে রুমেল ভাইয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে যাই। গিয়ে দেখি মেঝেতে শোয়ানো অবস্থায় রয়েছে। হাত পা ছেড়ে দেওয়া। পরে চিকিৎসার জন্য গাড়ি ভাড়া করতে যাই। এসে দেখি রুমেল ভাই আর নেই।

তিনদিন আগেও তার ‘চ্যানেল বগুড়া’ নামে ফেসবুকে রুমেল লেখেন, ‘বগুড়ার ফটকাবাজদের নীতি ও কৌশল: বগুড়াতে প্রকৃত ভালো কাজ করতে গেলেই আপনি ফটকাবাজ সিন্ডিকেটের কাছে ভণ্ড নয়তো পাগল!!!’

বগুড়া শহরের নাটাইপাড়া এলাকায় মায়ের সঙ্গে থাকতেন রুমেল। সে ‘চ্যানেল বগুড়া’ নামে একটি পেইজে বিভিন্ন কন্টেন্ট তৈরি করতো। তার বাকি তিন ভাই চাকরির সুবাদে বগুড়ার বাইরে থাকতেন। 


বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শরাফত ইসলাম জানান, আলোচিত রুমেলের মৃত্যুর বিষয়ে আমাদের কেউ কিছু জানাননি। তবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত গরমের কারণে সে মারা যেতে পারে। 

ইত্তেফাক/পিও