রংপুর জেলা জুড়ে বেড়েছে ভাইরাসজনিত রোগ

আপডেট : ২১ জুন ২০১৯, ২২:১৬

আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে নানান রোগে আক্রান্ত হয়েছে রংপুর জেলাসহ আট উপজেলার হাজার-হাজার মানুষ। বেড়েছে ভাইরাসজনিত জ্বর-ডায়রিয়াসহ নানান রোগ। বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ সব বয়সের মানুষ। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। গত বুধবার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে ভাইরাসজনিত জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্ত মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কাউনিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে বেশ কিছু শিশু রোগী দেখা গেলেও তারা চিকিত্সা পাচ্ছে না ডাক্তারের অভাবে। অনেকে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় পল্লিচিকিত্সকদের কাছে চিকিত্সা নিচ্ছে। অজ্ঞ পল্লিচিকিত্সকরা উচ্চক্ষমতার অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের মাধ্যমে চিকিত্সা করছেন।

 গত কয়েক দিন তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় গরমে অনেকেই জ্বর, ডায়রিয়া, ফোসকা পড়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। আক্রান্তদের ন্যূনতম তিন থেকে সাত দিন ভুগতে হচ্ছে। কোনো কোনো পরিবারে সব সদস্য একসঙ্গে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় সেবা করার লোকও পাচ্ছেন না তারা।

ইত্তেফাকের পীরগাছা, মিঠাপুকুর, গঙ্গাচড়া, তারাগঞ্জ, বদরগগঞ্জ, পীরগঞ্জ, কাউনিয়া  সংবাদদাতারা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১০ দিনে ভাইরাস ও আবহাওয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুসহ প্রতিটি ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গড়ে সাত শতাধিক রোগী চিকিত্সা নিচ্ছে, ভর্তি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী। প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগেও শতাধিক শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের রোগী চিকিত্সা নিচ্ছে। গত বুধবার ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগের চিকিত্সার জন্য অনেকেই শিশু নিয়ে অপেক্ষা করছেন। শিশু কনসালট্যান্টের কক্ষে তালা ঝুলছে। বহির্বিভাগে চিকিত্সা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা হলে তারা অভিযোগ করেন, শিশুকে নিয়ে বহির্বিভাগে সেবা নিতে এসে দেখি ডাক্তারের কক্ষে তালা লাগানো বা ডাক্তার নেই। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে বেশ কিছু শিশু রোগী দেখা গেলেও তারা চিকিত্সা পাচ্ছে না ডাক্তারের অভাবে। যেসব রোগী ৭-১০ দিনের দিন ধরে অসুখে ভুগছে, তারা ছুটছে জেলা শহরের ক্লিনিকগুলোতে। তবে রেজিস্টার্ড চিকিত্সকদের মতে, এটি আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত ভাইরাস জ্বর। আতঙ্কিত না হয়ে আক্রান্তদের আলাদা বিছানায় রেখে সেবা করতে হবে। এ ভাইরাস তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং হঠাত্ তা নেমে যাওয়ার কারণে হয়ে থাকে। হাঁচি, কাশি বা লালার মাধ্যমে অন্যদেহে ছড়িয়ে পড়ে। তাই মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ চিকিত্সকদের। ওষুধ সেবন না করেও তিন-চার দিন পরেই শরীরের তাপমাত্রা কমে গিয়ে স্বাভাবিক হবে। আক্রান্ত  হওয়ার পর তিন-চার দিন পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করাই ভালো বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।

এদিকে  কাউনিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. মো. আসিফ ফেরদৌস বলেন, ‘আগে আমরা ৩০০ থেকে  সাড়ে ৩০০ রোগীকে বহির্বিভাগে চিকিত্সা দিতাম। এখন চার থেকে পাঁচ গুণ রোগীর চিকিত্সা দিতে হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ৪০ জন ভাইরাসজনিত জ্বরসহ নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে।’ এখানে পদ থাকলেও কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ নেই। আইএমসি কর্নারে প্রতিদিন এক থেকে দেড় শতাধিক শিশু রোগীর চিকিত্সা দিচ্ছেন সিনিয়র স্টাফ নার্স হেমন্ত কুমার।

কাউনিয়া উপজেলার টাবুর চর এলাকার জাহিদুল ইসলাম জানান, টানা তিন দিন ধরে তিনিসহ তার পরিবারে তিনজন জ্বরে ভুগছেন। মাথাসহ পুরো শরীর ব্যথা করে এবং শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। সঙ্গে থাকে সর্দি ও কাশি। শুধু তার পরিবারই নয়। তাদের পাড়ার অনেক বাসায় জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে।

 রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম দৈনিক ইত্তেফাককে  জানান, তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এবং হঠাত্ বৃষ্টির কারণে জেলায় ভাইরাসজনিত জ্বর ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।  রোগীকে সেবা দানকারী ব্যক্তিকে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার হবে। রোগীকে লেবুর শরবত ও নিয়মিত খাবার খেতে হবে। পাঁচ দিন অতিবাহিত হলে নিকটস্থ কমিউনিটি ক্লিনিক বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।