শুকরের মাংস মিশ্রিত ফিশ ফিড সন্দেহে চট্টগ্রাম কাস্টমসে প্রায় ১০০ কন্টেইনার ফিডের চালান জব্দ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া থেকে ফিশ ফিডের নামে এমবিএম (মিট এন্ড বোন মিল) আমদানি করার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ৫টি চালানে এ ফিশ ফিডের চালান আসে। গত ১৪ জুন চট্টগ্রাম কাস্টমসের এআইআর শাখা চালানগুলো খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। চট্টগ্রাম বন্দরের দুটি বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে বর্তমানে পণ্য ভর্তি কন্টেইনারগুলো রয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে কন্টেইনারগুলো ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রভাবশালী মহল থেকে জোর তদ্বির চালানো হচ্ছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের এআইআর কর্তৃক বর্তমানেও বিপুল সংখ্যক বিভিন্ন ধরনের সন্দেহজনক পণ্যের চালান জব্দ করা হয়েছে। অনেক পণ্য কয়েক মাস ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার পরও তা খালাসের জন্য বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে— ওই সকল কন্টেইনারে মিথ্যা ঘোষণায় মূল্যবান ও আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য রয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন ৯৪৩৫৭৬ নং বিল অব এন্ট্রি অনুযায়ী ২৫ কন্টেইনার। ৯৪৩৭০৪ নং বিল অব এন্ট্রিতে ২৫ কন্টেইনার। এছাড়া আরো তিনটি বিল অব এন্ট্রি চালানে আরো প্রায় ৫০ কন্টেইনার রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে আমদানিকারকদের মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে জানা যায়। সূত্রে আরো জানা যায়, মাছের খাদ্য হিসেবে ফিডগুলো ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে এতে এমবিএম ফিড রয়েছে। আবার এমবিএম ফিড ঘোষণা দেওয়া হলে কোন ধরনের মাংস মেশানো হয়েছে তা সার্টিফিকেটসহ উল্লেখ করতে হবে। শুকরের মাংস মিশ্রিত ফিড মিল বাংলাদেশে আমদানি নিষিদ্ধ।
জানা যায়, চট্টগ্রাম কাস্টমসের পক্ষ থেকে জব্দ কন্টেইনার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় দুটি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে একই ধরনের ঘোষণায় আনা বেশ কয়েকটি চালান খালাস হয়ে গেছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মো. ফখরুল ইসলাম জানান, আমাদের নিকট সংবাদ রয়েছে এগুলো মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা হয়েছে। মূলত পণ্যগুলো এমবিএম বা মিট এন্ড বোন মিল। যাতে শুকরের মাংস থাকতে পারে। মিথ্যা ঘোষণায় এ পণ্য আনা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
