দল পরিচালনা, দিকনির্দেশনা-কর্মপন্থা প্রণয়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কর্মসূচি নির্ধারণ নিয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে বিভক্তি চলছে। নেতাদের দুইটি গ্রুপ নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় এখন। নয় সদস্যের মধ্যে এক গ্রুপে চার জন অন্যদিকে চার জন। আর একজন আছেন দুই পক্ষেরই। ফলে হাইকমান্ড কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা নিয়ে এক গ্রুপ বিরোধিতা করে আসছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার আগে এই গ্রুপিং সমস্যা ম্রীয়মান থাকলেও এতোটা প্রকট আকার ধারণ করেনি। সম্প্রতি বিএনপির জাতীয় সংসদে যোগদান, বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ, বিভিন্ন জেলা কমিটি গঠন এবং সর্বশেষ ছাত্রদলের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে একটি গ্রুপ সরাসরি দলের হাইকমান্ডের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। হাইকমান্ড কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তার সমালোচনা করছেন তারা। সর্বশেষ গত শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক দুই পক্ষের বিতণ্ডায় শেষ অবধি সিদ্ধান্ত ছাড়াই মুলতবী হয়ে যায়। মূলতঃ নেতাদের মধ্যে বিভক্তি বাড়ার কারণে দেড় মাস বৈঠক করতে পারেনি দলের স্থায়ী কমিটি। এক পক্ষ বসতে চাইলে অন্যপক্ষ রাজি হননি। পরে বেগম খালেদা জিয়ার মামলার ইস্যুতে তারা বৈঠক করেন। সেখানে সংসদে যোগদান প্রশ্নে বিবাদে জড়িয়ে হট্টগোল চলে। আজ শনিবার মুলতবী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দলের সিনিয়র একজন নেতা জানান, দলের যে কোনো সিদ্ধান্ত আলাপ আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়। তবে কোনো জটিল বিষয় হলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তা সিদ্ধান্তের ভার অর্পণ করা হয় দলের চেয়ারম্যানের (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের) ওপর। তবে গত নির্বাচনের পর আন্দোলন, সংসদে যোগদান, উপ নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন জেলায় কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ প্রকাশ্যে ও আড়ালে-আবডালে সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে। যারা সমালোচকদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা স্থায়ী কমিটিতে বেশি সিনিয়র ও প্রভাবশালী।
এদিকে ১৯ সদস্যের বিএনপির স্থায়ী কমিটির শূন্যপদ পূরণে তোড়জোড় চলছে দলে। স্থায়ী কমিটির ফাঁকা পদে গত বুধবার সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের পদোন্নতি দিয়েছেন। তারা দু’জনেই বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এখনো তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। এই পদগুলোতে ঠাঁই পেতে সিনিয়র নেতারা লবিং করছেন। তারা বলছেন সবগুলো পদ পূরণ হলে স্থায়ী কমিটিতে চেক এন্ড ব্যালেন্স তৈরি হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বাকি পদগুলো কতদিনে পূরণ হবে এটা জানি না। নতুন দুই জন পদ পেলেন, তাদের অভিনন্দন জানাই। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী স্থায়ী কমিটিতে পদ দিতে পারেন আমাদের চেয়ারপারসন। কিন্তু তিনি না থাকায় আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পদোন্নতি দিয়েছেন। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব বিষয়েই আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়। আমাদের গঠনতন্ত্রে কিছু সিদ্ধান্ত আছে যেগুলোর ক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয় না। এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে জায়গা দেওয়া হতে পারে বলে কয়েকজন নেতার নাম আলোচিত হচ্ছে। তারা হলেন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আবদুলাহ আল নোমান, এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, বরকতুল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ। এরা সকলেই দলের ভাইস চেয়ারম্যান।
জিয়ার মাজারে আজ বিএনপি
স্থায়ী কমিটির শ্রদ্ধা
জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানাবেন সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। স্থায়ী কমিটির নবাগত দুইজনসহ বাকি সদস্যদের নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। আজ শনিবার বেলা ১১টায় তারা সেখানে যাবেন।
