হিমাচুরিয়ায় আতঙ্ক নয় 

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৩, ২৩:০৬

প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তপাত হলেই তাকে হিমাচুরিয়া বলা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীরা মনে করেন তাদের মূত্রনালিতে ইনফেকশনের কারণে এমনটা হয়েছে। অনেকের কাছেই মূত্রাশয়ের রোগ নিয়ে আলোচনা অস্বস্তিকর ব্যাপার। কিন্তু সামান্য অস্বস্তি যদি আপনার জীবননাশ করে তাহলে থেমে থাকা চলবে না। কারণ হিমাচুরিয়া চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় করা সম্ভব। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেসের ইউরোলজিস্ট ও সার্জন ডা. মুহাম্মদ জিয়া উদ্দিন। 

প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকের কাছে যান
সচরাচর দেশে হিমাচুরিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের শনাক্ত করা কঠিন হয় রোগীর কারণেই। মূত্রাশয়ের এই রোগ নিরাময়ের দায় রোগী নিজেই অনলাইনে ঘেঁটে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা তখনই চিকিৎসকের কাছে যান যখন রোগ ক্যান্সারে রূপ নেয়। ততদিনে অনেক দেরি হয়ে যায়। অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্টের কাছে প্রথমেই যাওয়া উচিত। প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলেই চিকিৎসকের কাছে আসুন। 

এবার রোগ নির্ণয়ের পালা
ইউরোলজিস্ট রোগীর সঙ্গে প্রাথমিকভাবে আলোচনা করবেন। অধিকাংশ সময়েই রোগীকে সিটি স্ক্যান বা অন্যান্য পরীক্ষা দেওয়া হয়। অবশ্যই রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা হয়। অনেকে ডিসপেনসারির কারো থেকে পরামর্শ নেন। এরা অনেক সময় না বুঝেই ভুলভাল ঔষধ দেয়। 

চিকিৎসা শেষ অংশ
হিমাচুরিয়ার চিকিৎসার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীর জীবন রক্ষা করা যায়। হাসপাতালে অনেক সময় প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ইউএসজি এবং সিস্টোস্কপি করা হয়। ক্যান্সার হয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হয়। তারপর অনকোলজিস্টরা বোর্ড গঠন করে অস্ত্রোপচার করা হবে কি-না তা বিবেচনা করা হয়। 
হিমাচুরিয়া ধরা পড়লে কেমোথেরাপিটিক ওষুধ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। শুধু তাই নয়, ব্লাডারে টিউমার থাকলেও তা অপারেশন করে ফেলে দিতে হয়। 
অনেক সময় এই রোগ অত্যধিক ধূমপানের কারণে হয়। আবার জিনগত সমস্যা থেকেও হতে পারে। পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক। এমন ক্ষেত্রে ইউএসজি বা হিস্টোরেকটমির মাধ্যমে সমস্যা দূর করা যায়। অনেকের শরীরে বিকল্প ব্লাডার বসিয়ে জীবন রক্ষা করা সম্ভব। 

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন