বরিশালে সাদিক সমর্থকদের বাদ দিয়ে নৌকা প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি

আপডেট : ০১ মে ২০২৩, ০১:২১

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গত ১৫ এপ্রিল আওয়ামী লীগের নতুন প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে এখানকার দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। হঠাৎ করেই বরিশালে উত্থান ঘটে সাবেক প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরনের সময়কার নেতাকর্মীদের। পাশাপাশি কোনঠাসা হয়ে থাকা বরিশাল সদর আসনের এমপি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের অনুসারী নেতাকর্মীরাও রাজপথে শোডাউন দিচ্ছেন। আজ সোমবার মে দিবসে পালটাপালটি কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল থেকেই জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু করেন মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহর কর্মী-সমর্থকরা। তারা আজ বেলা ১১টায় সেখানে শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত প্রধান অতিথি থাকবেন বলে সন্ধ্যায় নগর জুড়ে মাইকিং শুরু করেন। অপর দিকে বিকেলে একই স্থানে শ্রমিক সমাবেশের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী নেতাকর্মীরা। 

আওয়ামী লীগ প্রার্থী ১৫ এপ্রিল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে নাগরিক সংবর্ধনার পর থেকেই তার চারপাশে ভিড়তে শুরু করেন প্রয়াত হিরনের অনুসারী নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামী নিজেই উপস্থিত থেকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের নির্বাচনি কার্যক্রমের অগ্রভাগে রয়েছেন। নৌকা প্রতীকের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ও জাহিদ ফারুক শামীমের মধ্যে সুসম্পর্কের চিত্রও দেখা গেছে। মেয়র পদে নৌকা বিজয়ী হলে দুজনেই বরিশালের উন্নয়নে মিলেমিশে কাজ করবেন বলে বিভিন্ন বক্তব্যও দিয়েছেন। এরই মধ্যে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা বারবার নৌকা প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিলেও পদ-পদবিপ্রাপ্ত মাঠ পর্যায়ের কোনো নেতাকর্মীকে পাওয়া যায়নি ১৫ দিনেও।

সর্বশেষ গতকাল রবিবার নৌকার প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত নির্বাচন পরিচালনার জন্য ১৬ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন। রবিবার বিকালে মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ (খোকন সেরনিবাত) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটির অধিকাংশই প্রয়াত সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের সমর্থক। কমিটিতে বর্তমান বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আফজালুল করিম ছাড়া আর কাউকে রাখা হয়নি। কমিটিতে বাকি ১৫ জনই সাবেক আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। ঘোষিত কমিটিতে আছেন আওয়ামী লীগ নেতা কে বি এস আহম্মেদ কবীর, লস্কর নুরুল হক, আফজালুল করিম, আনিস উদ্দিন আহম্মেদ শহীদ, মীর আমিন উদ্দিন মোহন, রেজাউল হক হারুন, শাহজাহান হাওলাদার, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক নিজামুল ইসলাম নিজাম, শ্রমিক লীগ নেতা আফতাব হোসেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হুমায়ুন কবির, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক শাহীন সিকদার, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসীম দেওয়ান, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন এবং বাকসুর সাবেক ভিপি মঈন তুষার। দায়িত্বপ্রাপ্তরা নির্বাচন পরিচালনার জন্য সব ধরনের কমিটি গঠনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করিবেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর বলেন, অরাজনৈতিক ভাবে ১৬ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আমাদের না রাখা হলেও আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করব।

বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসীম উদ্দীন বলেন, বরিশাল সিটি কপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে কেউ বাদ পরলে পরবর্তীকালে আরো একাধিক কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে যারা বাদ পরেছেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বাকসুর সাবেক ভিপি মঈন তুষার বলেন, শওকত হোসেন হিরনের সময়কার কর্মী হওয়ায় তারা দীঘদিন যাবত পদ-পদবি থেকে বঞ্চিত এবং নানান ভাবে হয়রানির শিকার। তবুও নৌকার প্রার্থীর পক্ষে যারা কাজ করবেন তারাই আওয়ামী লীগের লোক। তবে নৌকার সাথে বিশ্বাসঘাতকদের এবার ছাড় দেওয়া হবে না।

  • মে দিবস উপলক্ষ্যে পালটাপালটি কর্মসূচি

মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে বরিশালে পালটাপালটি কর্মসূচির আয়োজন করেছে বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও নৌকার প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাতের সমর্থকরা। গতকাল দুপুরে দেখা যায় খোকন সেরনিয়াবাত সমর্থক জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি শাহজাহান হাওলাদার ও মহানগর শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি আফতাব হোসেন, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুলতান মাহামুদ, ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বিপ্লব, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ভিপি মঈন তুষার, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসীম উদ্দিনসহ শতাধিক নেতাকর্মী নগরীর সোহেল চত্বরস্থ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনেই মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু করেন। অপরদিকে বিকালে মোটরসাইকেল মহড়া নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আসে মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রইজ আহমেদ মান্না। এরপর মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর এপিএস মুস্তফা জামান মিলন ও ক্যামেরাম্যান রিজন সিটি করপোরেশনের গাড়িতে চড়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে আসে। পরে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজিব হোসেন খান, জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রধান রোড ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত, আতিক উল্লাহ মুনিম পৃথক মোটরসাইকেল বহর নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আসে। এরপর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর, শিল্প বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল ও মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিমল চন্দ্র দাসও আসেন। 

মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ফজলুল করিম জানিয়েছেন, মে দিবস উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ পালটাপালটি মঞ্চ করে থাকলে সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

ইত্তেফাক/ইআ