মুখ থুবড়ে পড়ছে মাইক্রোসফটের এক্টিভিশন ব্লিজার্ড চুক্তি

আপডেট : ০২ মে ২০২৩, ১০:৫২

চলতি সপ্তাহে টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটের উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পটিই যেন মুখ থুবড়ে পড়তে শুরু করেছে। এই চুক্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযুক্ত শব্দ হবে 'গেম ওভার'। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ভিডিও গেম কোম্পানি এক্টিভিশন ব্লিজার্ডের সঙ্গে তাদের ৬৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রতিযোগিতার বিবেচনায় মার্কেট অথরিটি এই চুক্তি মেনে নেয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

গেমিং ইন্ডাস্ট্রিতে মাইক্রোসফট ও এক্টিভিশন ব্লিজার্ড সবচেয়ে বড় দুই নাম। তারা চাইলে একা একাই নিজেদের মতো গেমিং পণ্য দিয়ে নিজেদের ব্যবসা চালিয়ে যেতেই পারে। কিন্তু এই দুই জায়ান্ট একত্রিত হয়ে যে আরও বড় হতে পারতো তা বোঝাই যায়। অনেকে আন্দাজ করেছিলেন এই চুক্তি হলে গেমিং ইন্ডাস্ট্রিতে সবচেয়ে বেশি মুনাফা আয়ের পথ হবে দুই কোম্পানির। টেনসেন্ট এবং সনিকেও তারা এক্ষেত্রে পিছু ফেলে দিতে পারে। তাই আপাতত এই চুক্তির ক্ষেত্রে বাধা আসায় এমন কিছু হচ্ছে না।

মাইক্রোসফটের জন্য খবরটি সুখের না। সুখের নয় গেমারদের জন্যেও। কারণ চুক্তি হলে দুই কোম্পানির ক্ষেত্রেই একটি এক্টিভেশন করলেই হয়ে যেতো। কিন্তু এখন দুইটি আলাদা কোম্পানির গেমের জন্য আলাদা আলাদা এক্টিভিশন কিনে নিতে হবে। অর্থাৎ মাইক্রোসফটে থেকেও এক্টিভিশনের গেম খেলা যাবে। এমন সাশ্রয়ী পদ্ধতি অনেক গেমারকে সংযুক্ত করতে পারতো।
মাইক্রোসফট ভাবতেই পারেনি যুক্তরাজ্য সরকার এই চুক্তি সফল হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফট। মাইক্রোসফটের ভাইস চেয়ার এবং প্রেসিডেন্ট বিবিসিকে জানান, 'এই সিদ্ধান্ত ব্রিটেনের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন সিদ্ধান্ত বলেই আমি মনে করি। ইউরোপীয়ান ইউনিয়নই এখন ব্যবসা শুরু করা ভালো জায়গা হয়ে উঠেছে। সে তুলনায় যুক্তরাজ্য যেন ভুলই করছে।'

এক্টিভিশন ব্লিজার্ডও একই মন্তব্য করেছে। গেমাররাও সিএমএ'র এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ। এক্টিভিশন ব্লিজার্ড গেম খেলার জন্য এখন আবার বাড়তি হ্যাপো। পুরো পৃথিবী যেখানে ক্লাউড গেমিংয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এমন সময়ে এমন চুক্তি ক্লাউড গেমিং এর সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করতে পারতো। সিএমএ এই চুক্তিকে প্রশংসা করলেও রাজি হয়নি। এ বিষয়ে অবশ্য অন্য মন্তব্যও আছে। কেউ কেউ বলছেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে এমন কোনো প্রক্রিয়ার দিকে নজরদারি রাখা এবং ব্যবসার স্বচ্ছতা দেখা কঠিন। তাই সিএমএ ভুল করেনি। কিন্তু এমন বাধা সত্যিই অপ্রত্যাশিত। এতদিন তারা ভেবেছিল চুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই সবচেয়ে বড় ঝামেলা আসতে পারে। কিন্তু যুক্তরাজ্যে থামতে হবে এমনটা তারা ভাবেনি।
সূত্র: ভক্স 

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন