কক্সবাজারের টেকনাফে ফের চার ব্যক্তিকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। পৃথকভাবে অপহৃতদের মাঝে দুই রোহিঙ্গা, একজন টমটম চালক ও একজন কৃষক রয়েছে।
সোমবার (১ মে) সন্ধ্যার পর পৃথকভাবে টেকনাফের বাহারছড়া নোয়াখালী পাড়া, হোয়াইক্যং উনচিপ্রাং ২২ নম্বর ক্যাম্পসহ সাবরাং এলাকায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ভিকটিমদের পরিবার।
অপহৃতরা হলেন টেকনাফের সাবরাং কচুবনিয়ার কালা মিয়ার ছেলে আবু সৈয়দ (৩৩), একই উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়ার বদিউর রহমানের ছেলে মনুজর আলম (৬০), বাহারছড়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পুরাতন রোহিঙ্গা জাফর আলম (৪০) ও উনচিপ্রাং ২২ নম্বর ক্যাম্পের সৈয়দ হোসাইনের ছেলে নুর হোসেন (৩২)।
ভিকটিম মনজুর আলমের পরিবারের বরাত দিয়ে বাহারছড়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াস জানান, নোয়াখালী পাড়ার মনজুর আলম ও বড় ডেইলের পুরাতন রোহিঙ্গা জাফর আলম তারা দু’জন সোমবার (১ মে) ৯ নম্বর ওয়ার্ড নোয়াখালী পাড়া সংলগ্ন পাহাড়ে ভেতর পানের বরজে কাজ করতে গেলে ফেরার পথে অস্ত্রধারী ডাকাতদল তাদের অপহরণ করে। অপহরণের পর তাদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণের টাকা দাবি করছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অপরদিকে, ভিকটিম টমটম চালক আবু সৈয়দের বড় ভাই আবু কালাম জানান, তার ছোট ভাই আবু সৈয়দ প্রতিদিনের মত টমটম (ইজিবাইক) নিয়ে সকালে বের হয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে। কিন্তু সোমবার টমটম নিয়ে বের হলেও সন্ধায় বাড়ি আসেনি। নানা জায়গায় খবর নেওয়ার পর অপহরণকারীরা রাতে ইমুতে ভিডিও কলে দেখায় টাকার জন্য তার ভাইয়ের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে।
আরেক ভিকটিম উনচিপ্রাং-২২ নম্বর ক্যাম্পে নুর হোসনের পিতা সৈয়দ হোসাইন জানান, ক্যাম্পের ভেতর তার দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে অপহরণ করা হয়। পরবর্তীতে তাদের কাছে কল করে ২ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। টাকা না পেলে তাকে হত্যা করা হবে বলে জানায় তারা।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. আব্দুল হালিম জানান, অপহরণের ঘটনাগুলো জানার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এবং তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এর আগে অপহৃত দুই কৃষককে সোমবার রাতে উদ্ধার করেছিল।
