সুদানে চলমান লড়াইয়ে প্রায় ১ লাখ মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। লড়াই তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়ে যাওয়ায় মানবিক সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। মঙ্গলবার জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এই সতর্কবার্তা দেয়।
দরিদ্র প্রতিবেশী দেশগুলো শরণার্থী সংকট সামলাতে হিমশিম অবস্থায় থাকায় সুদানের এই সংঘাত সীমান্ত সংকট তৈরির ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। লড়াইয়ের কারণে সাহায্য সরবরাহের পথগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তবে এরমধ্যেও সুদানের রাজধানী খার্তুমজুড়ে আরেকদফা যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে গোলা হামলা এবং বিস্ফোরণ ঘটে চলেছে।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এর পূর্ব আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক মিখায়েল ডানফোর্ড বলেছেন, “ঝুঁকিটা হচ্ছে সংকটটা কেবল সুদানের হবে না। এটি হবে আঞ্চলিক সংকট।”
জাতিসংঘ কর্মকর্তারা বলেছেন, জাতিসংঘ ত্রাণ কর্মকর্তা মার্টিন গ্রিফিথ সুদান সফরের পরিকল্পনা করেছেন। মঙ্গলবারই সম্ভবত এ সফরে যাচ্ছেন তিনি। যদিও কখন যাবেন সেটি এখনও নির্ধারিত হয়নি।
ডব্লিউএফপি সোমবার জানায়, ডব্লিউএফপি’র কয়েকজন স্টাফ নিহত হওয়ার পর তারা সুদানের অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অঞ্চলগুলোতে কাজ শুরু করে।
গত ১৫ এপ্রিলে সুদানে সশস্ত্র বাহিনী এসএএফ ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ এর মধ্যে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে ৫ শ’র বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে হাজারো মানুষ।
এ লড়াইয়ে রাজধানী খার্তুম ও আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এর ফলে বন্ধ হয়ে গেছে হাসপাতাল ও অন্যান্য পরিষেবা।
এমন পরিস্থিতিতে দুই দফায় ৭২ ঘণ্টা করে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও, মেয়াদ শেষের আগে শনিবার সন্ধ্যাতেই খার্তুমে প্রচণ্ড লড়াই শুরু হয়।
যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের জন্য একপক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপ করেছে। সর্বশেষ এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ছিল রোববার মধ্যরাত পর্যন্ত। তারপর আবার তা বাড়ানোর মধ্যেই ফের বিমান হামলা শুরু হয়েছে।
সুদানের ভেতরেও প্রায় ৩,৩০,০০০ মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ অভিবাসী সংস্থা। আরও হাজার হাজার সুদানি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছে। বেশির ভাগই মিশর, চাদ এবং দক্ষিণ সুদানের সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছে।
জাতিসংঘ সোমবার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, সুদানে সাময়িকভাবে বাস করা শরণার্থীরাসহ ৮ লাখ মানুষ দেশটি ছেড়ে যেতে পারে। গত ২ সপ্তাহে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ সুদানের সঙ্গেকার মিশর সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে।
