বৈশাখে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন পঞ্চগড়

আপডেট : ০৩ মে ২০২৩, ০৪:০১

বৈশাখের প্রচণ্ড দাবদাহে দিনে ও রাতে প্রচণ্ড গরমে পঞ্চগড় জেলার মানুষ হাঁসফাঁস করছে। ঠিক এর উলটো আবহাওয়া ছিল মঙ্গলবার সকালে। সোমবার রাত থেকেই কুয়াশা দেখা গেছে। মঙ্গলবার ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে ছিল পঞ্চগড়। সঙ্গে মৃদু বাতাসও ছিল। ফলে কিছুটা ঠান্ডা অনুভূত হয়েছে। কুয়াশা ভেদ করে সূর্য দুয়েকবার উঁকি দিয়েছিল কিন্তু ক্ষণিকের জন্য। সকাল ৯টা পর্যন্ত এই অবস্থা বিরাজ করে। তবে বেলা বাড়ার পর ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে যায়। এর আগে এমন পরিস্থিতি কখনো দেখা যায়নি। গ্রীষ্মকালের প্রচণ্ড গরমের সময় শীতকালের মতো কুয়াশা দেখে সবাই অবাক হয়েছেন। একে অনেকে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা বলে মনে করছেন।  

এদিকে মঙ্গলবার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আকস্মিকভাবে সোমবার রাত থেকে কুয়াশা পড়তে শুরু করে। ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল পঞ্চগড়। অনেককে শীতের কাপড় পড়ে বের হতে দেখা গেছে। মাঝেমধ্যে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করেছে। ভোরের এই দৃশ্যটা ছিল পুরোপুরিই শীতকালের মতো। তবে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করায় অসহনীয় গরমে মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। গ্রীষ্মকালে এমন কুয়াশা প্রবীণরাও আগে দেখেননি। অবাধে বৃক্ষ নিধন, বেপরোয়াভাবে ইটভাটা স্থাপন, পরিবেশ দূষণ, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়াসহ নানা কারণে এমন হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

ডোকরোপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুমাইয়া স্মৃতি বলেন, আজকের ভোরের দৃশ্যটা ছিল পুরোপুরিই শীতকালের মতো। আকস্মিকভাবে প্রকৃতির এমন পরিবর্তিত রূপ দেখে আমি অবাক হয়েছি! আজকের ভোরটা ছিল উপভোগ করার মতো। কায়েতপাড়া এলাকার শাহজাহান আলী বলেন, তীব্র গরমে শরীর জ্বালা করছে। রোদের সময় বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না। তবে মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঠান্ডা আবহাওয়া কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। 

ফুটকিবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সেলিম হোসেন বলেন, প্রতিদিন সকালে প্রাইভেট যেতে হয়। এতদিন কুয়াশা পাইনি। আজকে কুয়াশা পেয়েছি। আমি জানি শীতের দিনে কুয়াশা পড়ে কিন্তু বুঝতে পারলাম না গরমের দিনে কেন কুয়াশা পড়ে। শহরের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব আলাউদ্দীন আহম্মেদ বলেন, গ্রীষ্মকালে এমন কুয়াশা আমি আগে কখনো দেখিনি। কালে কালে আরো যে কত কি দেখতে হবে। 

ময়দানদীঘি ডিগ্রি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের প্রভাষক শেখ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বৃক্ষ নিধন, বেপরোয়া ইটভাটা স্থাপন, পরিবেশ দূষণ, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়াসহ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ার এমন রূপ দেখা যাচ্ছে। 

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ্ বলেন, বাহ্যিকভাবে কুয়াশা মনে হলেও এর বেশির ভাগই আসলে ধূলিকণা। এর সঙ্গে দিনের প্রখর রোদে স্থানীয় নদনদী, জলাধার থেকে তৈরি হওয়া বাষ্প মিলে ভোর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশার মতো তৈরি হয়। মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ইত্তেফাক/ইআ