অভিনেত্রী রুনা খান। নাটকে বরাবরই বাছ-বিচার করে অভিনয় করা এই অভিনেত্রী সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ওয়েব ফিল্মের কাজ শেষ করেছেন। পাশাপাশি ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো উপস্থাপনায় যাত্রা শুরু করলেন। নিজের বর্তমান কাজসহ ইন্ডাস্ট্রির নানা দিক নিয়ে কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ এম রুবেল।
মডেলিং-অভিনয়ের পর এবার উপস্থাপনায় যাত্রা শুরু করছেন। ক্যারিয়ারের এই সময়ে এসে এমন সিদ্ধান্তের কারণ কী?
প্রথমবারের মতো উপস্থাপনা শুরু করলাম। আমার অভিনয় জীবন মূলত সিসিমপুরের মাধ্যমে শুরু হয়। এই শিশুতোষ অনুষ্ঠানের সুমনা চরিত্রটি আমাকে দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেয়। এরপর দীর্ঘ সময় অভিনয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। এই সময়ে উপস্থাপনার প্রস্তাব অনেক পেয়েছি। কিন্তু সময় সুযোগ হয়ে ওঠেনি। দুরন্তর ‘ফ্যামিলি মূল কারণ হলো এটা শিশুতোষ অনুষ্ঠান। এর ৫২ পর্বে ৫২টি পরিবার অংশগ্রহণ করেছে। এই পরিবারগুলো দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছে। এতগুলো পরিবার এবং দুরন্ত টিভির সুন্দর টিমের সাথে কাজ করাও দারুণ উপভোগ্য ছিল।
আবারও অমিতাভ রেজার একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করলেন। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কীভাবে শেয়ার করবেন?
হ্যাঁ, দীর্ঘ ১৫ বছর পর আবারও অমিতাভ ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করলাম। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা রবাবরই ভালো। নানা কারণে মাঝে ওনার নির্দেশনায় কাজ করা হয়ে ওঠেনি। সেই জায়গা এবারের বিজ্ঞাপনটি করতে গিয়ে অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করেছে। তাছাড়া তার নির্মাণ দক্ষতা নিয়েও কথা বলার সুযোগ নেই। এই বিজ্ঞাপনটিও খুবই যত্ন নিয়ে তিনি নির্মাণ করেছেন।
এর বাইরে অন্য কোন কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
এরইমধ্যে ৪টি ওয়েব ফিল্মের কাজ শেষ করেছি। কিন্তু এখনই সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না। নির্মাণ সংশ্লিষ্টরা এ নিয়ে উপযুক্ত সময়ে কথা বলবেন। এছাড়া সম্প্রতি একটি নাটকের কাজও শেষ করলাম।
নাটকের ক্ষেত্রে বরাবরই বাছ-বিচার করে কাজ করেন। সেই জায়গা থেকে নতুন নাটকটি নিয়ে কী বলবেন?
দেখুন, আমি বিয়ের পর থেকেই কিন্তু কম কাজ করছি। এমনও হয়েছে বছরে একটি নাটকে আমাকে দর্শকরা দেখতে পেয়েছেন। তাছাড়া ক্যারিয়ারের এই সময়ে এসে তো সংখ্যা বাড়ানো কাজ করতে পারব না। ভালো গল্প-চরিত্র ছাড়া কাজের কোনো মানে হয় না। তবে রুবেল হাসানের ‘আউটসাইডার’ নাটকটির গল্প আমার দারুণ পছন্দ হয়। পাশাপাশি অনেদকদিন পর অপূর্বর সঙ্গে অভিনয় করলাম। অভিনয়ের ক্ষেত্রে দারুণ সহযোগিতা পরায়ণ একজন অভিনেতা অপূর্ব। সব কিছু মিলিয়ে কাজটি করা হয়েছে। আশা করছি দর্শকদেরও ভালো লাগবে।
নাটকে অভিনয় কম করছেন। পাশাপাশি ওয়েব ফিল্মের ব্যস্ততা বেড়েছে। পরবর্তী অভিনয় পরিকল্পনা কী তাহলে ওয়েব ফিল্ম ঘিরেই?
না, বিষয়টি আসলে সেরকম না। একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমি শুধু সিনেমা করব, শুধু নাটক করব বা ওয়েব ফিল্ম করব—এমন ভাগ করতে চাই না। আমার কাছে যে প্রস্তাবগুলো আসবে সেখান থেকে যেগুলো আমার ভালো লাগবে সেগুলোই করতে চাই। যেটা যে মাধ্যমেই হোক।
ওটিটি নিয়ে অনেকেই আশাবাদী। মাধ্যমটিতে কাজ করে আপনি কতটা সন্তুষ্ট?
দেখুন, চঞ্চল ভাই, মোশাররফ করিম, অপূর্ব, নিশো ছাড়া যে নাটকগুলো হয় সেগুলো বাজেট কিন্তু খুবই কম। যে কারণে মানের দিকে নির্মাতাদের ছাড় দিতে হচ্ছে। সেই জায়গা থেকে বলবো, ওটিটির কাজগুলোর বাজেট এবং সময় বেশি থাকায় নির্মাতা ভিন্ন ভিন্ন গল্প বলার সুযোগ পাচ্ছেন। শিল্পীরাও নিজেকে মেলে ধরতে পারছেন। এটা সত্যি আশাবাদী করে তুলছে।

ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে ৪৩ বছর কাটানোর পর যা বললেন 'ড্রিম গার্ল’
সালমান মুক্তাদিরের স্ত্রী কে এই দিশা ইসলাম?