কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: হলিউডে চাকরি হারানোর শঙ্কা

আপডেট : ০৪ মে ২০২৩, ০৯:৫৪

রোবট বা যন্ত্রের দখলে চলে যাওয়া ভবিষ্যৎ কাল্পনিক পৃথিবী নিয়ে বহু বছর ধরেই গল্প ফেঁদে আসছেন হলিউডের চিত্রনাট্যকাররা। এবার তারাই যন্ত্রের কাছে নিজেদের চাকরি হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন। শুরু করেছেন ধর্মঘটও।

টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহারে রাশ টেনে ধরার দাবি তুলেছে দ্য রাইটার্স গিল্ড অব অ্যামেরিকা-ডাব্লিউজিএ। তবে স্টিমিং সেবায় মুনাফার কাটতি আর পড়তি বিজ্ঞাপনী আয়ে ধুঁকতে থাকা হলিউড স্টুডিওগুলো সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

স্টুডিওগুলোর পক্ষে চুক্তির মধ্যস্থতাকারী অ্যালায়েন্স অব মোশন পিকচার্স অ্যান্ড টেলিভিশন প্রোডিউসার্সের মুখপাত্রের সঙ্গে এই বিষয়ে রয়টার্সের তরফে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

গত কয়েক বছর ধরেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে হলিউড পাড়ায় বিতর্ক চলছে। শেষমেশ সোমবার থেকে ধর্মঘটে নেমেছেন মার্কিন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের চিত্রনাট্যকাররা।

ডাব্লিউজিএর সমঝোতা কমিটির সদস্য চিত্রনাট্যকার জন অগাস্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে তাদের উদ্বেগের মূল দুইটি কারণ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা চাই না আমাদের উপকরণ দিয়ে তাদের (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার) খাওয়ার যোগান দিতে। সেই সঙ্গে আমরাও তাদের অপেশাদার খসড়া লেখা ঠিক করার ভূমিকায় থাকতে চাই না।''

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হলিউডডের চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বেড়েই চলেছে। এআই বয়স্ক শিল্পীদের মুখের বলিরেখা মুছে দিতে সহায়তা করছে, অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রকে বাস্তবের মতো করে তুলে ধরছে, এমনকি চিত্রনাট্য তৈরিতেও এআই-এর পরীক্ষামূলক ব্যবহার চলছে।

এমন অবস্থায় চলচ্চিত্র জগতের সৃজনশীল এই পেশাটি কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দখলে চলে যাবে? সিডনি ইউনিভার্সিটির মোটুস ল্যাবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাইক সেমুর বলেন, একটা সময়  ভাবা হয়েছিল যে যন্ত্র সৃজনশীল কাজ অন্তত মানুষের কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না। সেই বিশ্বাসে চিড় ধরলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিত্রনাট্যকারদের সহায়তা করতে পারে বলে মনে করেন তিনি। অন্তত কোন কিছুর শুরুর শূন্যতা কাটাতে প্রযুক্তি ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, ‘‘আমি দাবি করছি না এআই অতি বুদ্ধিমান হয়ে উঠবে এবং ‘সিটিজেন কেইন' তৈরি করে ফেলবে। কেননা এটা যথার্থও হবে না।''

তারপরও চলচ্চিত্রের কাহিনি রচয়িতাদের উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। যেমন, চিত্রনাট্যকার ওয়ারেন লেইট মনে করেন এর ফলে সামনের দিনে প্রযোজনা সংস্থা চিত্রনাট্যকারদের প্রথম খসড়ার বদলে দ্বিতীয় খসড়া তৈরির জন্য ভাড়া করবে। যার কারণে তাদেরকে কম টাকা দেয়া হবে। 

চিত্রনাট্যকারদের ইউনিয়নের প্রস্তাব চ্যাটজিপিটির মতো কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি করে দেয়া রচনাকে ‘সাহিত্য উপকরণ' বা মূল উপকরণ' হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করা যাবে না। অর্থাৎ, এই ধরনের লেখা যদি চিত্রনাট্যকারকে দেয়া হয় এজন্য তার মজুরি কমানো যাবে না। সেই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দক্ষ করে তোলার কাজে মানুষের রচিত বিদ্যমান চিত্রনাট্য ব্যবহার না করারও দাবি তুলেছেন তারা। কারণ এর ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে মেধাস্বত্ত্ব চুরির দুয়ার খুলে যেতে পারে।

ডাব্লিউজিএ-এর প্রধান সমঝোতাকারী অ্যালেন স্টুটজম্যান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে তাদের সদস্যরা ‘নকল করার যন্ত্র' হিসেবে অভিহিত করেন। ‘‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের লেখকদের জায়গায় প্রতিস্থাপন করা উচিত হবে না। এই চেষ্টা না করার পেছনে আমাদের যৌক্তিক প্রস্তাব রয়েছে,'' বলেন তিনি।

ইত্তেফাক/এএইচপি