সাদিকুল নিয়োগী পন্নী
এক.
—আই অ্যাম নট সাধারণ দশজন। আই কানাডা ফেরত শামীম। সো টেল এনিথিং হিসাবনিকাশ।
—ইয়েস ভাই। আর মিসটেক হবে না। চলেন চায়ের দোকানে বসে আপনার গল্প শুনি।
এলাকার ছোট ভাই বেলালের কথায় শামীম গ্রামের একটা চায়ের দোকানে গিয়ে বসলেন।
বেলাল বলল, ‘ভাই কানাডায় আপনি কী করতেন?’
—গুড প্রশ্ন। আই ডিড নানা রকমের জব ইন কানাডা। মোটরবাইক চালানো থেকে শুরু করে বিমান পর্যন্ত রাইড করেছি। বাট অল জব ছিল খুব সম্মানের। বিগ বিগ পারসনদের সাথে কাজ করেছি।
অনিক বলল, ‘ভাই আবার যাবেন কবে?’
—ওয়েল। আই চলে যাব খুব দ্রুত। দেশের কাজটা ডান করি।
—ভাই আমার পড়াশোনা শেষ। যদি সুযোগ করে দিতেন তাহলে আমিও আপনার সাথে কানাডায় পাড়ি জমাতাম।
শামীম বললেন, ‘নো টেনশন। আই অ্যাম তোমার বড় ভাই। একটা কিছু হবে। টি অর্ডার দিতে দিতে গল্প করি। কী বল?’
—ঠিক আছে ভাই।
—এই চাচা কাম হেয়ার।
শামীমের ডাকে চায়ের দোকানদার এগিয়ে এলেন।
চা দোকানদার কয় কাপ চা দেবেন জানতে চাইলেন।
শামীম বললেন, ‘দুই কাপ টি দিবেন। কোন মিল্ক দিবেন না।’
—কী বললেন বুঝলাম না।
চায়ের দোকানদারের কথায় শামীম বললেন, ‘সাধারণ ইংরেজির সেন্স নাই। চায়ের দোকান চালান কিভাবে?’
দোকানদার এবার ক্ষেপে বললেন, ‘ডাক দেয়ার সময় গালি দিয়েছেন। নতুন মানুষ বলে কিছু বলিনি। এখন বেশি বাড়াবাড়ি করলে ভালো হবে না। যান আপনার কাছে চা বিক্রি করব না।’
শামীম কথা বাড়াতে চাইলেও বেলাল তাকে জোরপূর্বক দোকান থেকে বের করে নিয়ে এলো।
দুই.
—কী দেশে আসলাম, নো বডি ইংরেজি বুঝে! বাট ইন কানাডা সবাই কত সুন্দর ইংরেজি বলে। তাই ভাবছি দেশে একটা ইংরেজি শেখার কোচিং সেন্টার খুলব। পাবলিককে বিনামূল্যে ইংরেজি লার্নিং করাব।
শামীমের কথায় বেশ খুশি হলেন তার এলাকার বন্ধু রবিউল। তিনি শামীমকে উত্সাহ দিয়ে বললেন, ‘আমি বউ-বাচ্চাসহ তোর কোচিংয়ে ভর্তি হবো।’
শামীম বলল, ‘গুড বন্ধু। তুই পাশে থাকলে এ মাসেই কাজটা শুরু করতে চাই।’
—আমি অবশ্যই আছি। কারণ বাচ্চার স্কুল থেকে কী ছাইপাস দেয় ইংরেজিতে অনুবাদ করে দিতে।
এই বলে রবিউল পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে শামীমের হাতে দিল।
শামীম বলল, ‘এটা তো পানির মতো সহজ ইংরেজি। আই ক্যান ডো ইট ইন কয়েক সেকেন্ড।’
—তাহলে এখনি করে দে।
রবিউলের এমন কথায় শামীম বললেন, ‘এখানে দাঁড়িয়ে তো আর পারব না। তুই বরং সকালে আমার কাছ থেকে নিয়ে যাবি। আমি সন্ধ্যায় টি পান করতে করতে করে দিব।’
‘ঠিক আছে বন্ধু, তাহলে কাল সকালে তোর বাসায় আসব।’ এই বলে শামীমমের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রবিউল চলে এলো।
তিন.
রবিউল পরদিন সকালে শামীমের কাছ থেকে অনুবাদ নিয়ে এসে তার ছেলে অনিককে দিল। অনিক তা নিয়ে স্কুলে গেল।
শিক্ষক অনুবাদ পড়ে অনিককে বলল, ‘কীরে এটা কোন দেশের ইংরেজি?’
অনিক চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।
শিক্ষক বললেন, ‘এটা কী তুই নিজে করেছিস?’
অনিক বলল, ‘জি না স্যার।’
—তাহলে কে করেছে?
—বাবাকে দিয়েছিলাম। উনি তার এক বন্ধুকে দিয়ে করিয়ে নিয়েছেন।
‘তুই এটা টেবিলের ওপর দাঁড়িয়ে পড়।’ এই বলে শিক্ষক খাতা বাড়িয়ে দিলেন অনিকের দিকে।
অনিক পড়া শুরু করল, ‘স্কাই ইজ নীল। মাঝে মাঝে ওয়াইট মেঘ দেখা যায়। বাট মাঝে...’
হাঃ হাঃ হাঃ শব্দে পুরো ক্লাসে হাসির রোল পড়ে গেল।
স্যার সবাইকে ধমক দিয়ে বললেন, ‘আজকের পর থেকে যে যতটুকু পার ইংরেজি করে নিয়ে আসবে। অন্যের সহায়তা নেবে না।’
চার.
অনিক বাসায় ফেরার পর বাবার ওপর চড়াও হলো।
বাবা তাকে বললেন, ‘শামীম বিদেশ ফেরত লোক। আসলে তোর স্যার হয়তো ইংরেজি বুঝে না।’
অনিক বলল, ‘চল তোমার বন্ধুর কাছে। উনাকে বিষয়টা বলতে চাই। আসলে ভুল কার তখনই প্রমাণিত হবে।’
রবিউল ছেলেকে খুশি করতে তাকে নিয়ে শামীমের বাড়ির দিকে রওনা হলো। বাড়ির সামনে গিয়ে রবিউল দেখে অনেক মানুষের জটলা। তখন সে আগ্রহ নিয়ে গ্রামের ছেলে বেলালের কাছে ঘটনার কারণ জানতে চাইল।
বেলাল বলল, ‘শামীম ভাই কানাডা পাঠানোর কথা বলে পাশের গ্রামের কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিল। কিন্তু তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে শামীম ভাই আসলে কানাডা নয়, গাজীপুরের কোনাবাড়িতে একটা গার্মেন্টে চাকরি করতেন।’
‘বল কী?’ চমকে গিয়ে রবিউল বললেন। ‘তাহলে ইংরেজি পারে কিভাবে?’
বেলাল হাসি দিয়ে বলল, ‘সব ভুল ইংরেজি বলতেন শামীম ভাই।’
তখন রবিউলের ছেলেও বলল, ‘বাবা, বলেছিলাম না উনার ইংরেজি হয়নি।’
রবিউল আর কথা না বাড়িয়ে ছেলেকে নিয়ে চুপচাপ বাড়ি চলে এলেন। g
