তানভীর আহাম্মেদ
ক’দিন ধরেই ছেলেকে নিয়ে চিন্তিত টিকলু ভাই। ছেলের বয়স ৬ বছর। সারাদিন খালি টিভি নিয়ে ব্যস্ত। খেলাধুলা করে না, বাইরে যায় না। ঘরে বসে থাকতে থাকতে দিন দিন স্বাস্থ্য বাড়ছে তাঁর। তাই সেদিন ছেলেকে নিয়ে এক ডাক্তারের কাছে গেলেন তিনি।
‘ডাক্তার সাহেব, আমার ছেলের অবস্থা দেখুন। দিন দিন খালি স্বাস্থ্য বেড়েই চলছে। কিছু একটা করুন প্লিজ!’
‘দেখি বাবা, এইদিকে আসো তো!’
ডাক্তার সাহেব টিকলু ভাইয়ের ছেলেকে কতক্ষণ চেকআপ করলেন। এরপর টিকলু ভাইকে বললেন, ‘আপনার ছেলের কোনো সমস্যা নেই। খেলাধুলা করে না তো তাই সমস্যা। ওকে খেলাধুলা করতে দেবেন, প্রয়োজনে আপনিও সময় দিবেন। আর পুষ্টিকর খাবার দিবেন।’
তিন সপ্তাহ পর টিকলু ভাই আবার ছেলেকে নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে হাজির।
‘ডাক্তার সাহেব, অবস্থা তো হিতে বিপরীত।’
‘মানে কী?’
‘ছেলেকে দিনে দুই বেলা খেলার সুযোগ করে দিলাম। জোর করে খাওয়াইও। কিন্তু স্বাস্থ্য তো কমে না। উলটো ২ কেজি বাড়ল। আর ছেলের সাথে রাতের খেলায় সময় দিতে গিয়ে আমার চোখেরও প্রবলেম হচ্ছে।’
‘কী বলেন! কী খেলেন শুনি?’
‘ফুটবল।’
‘বলেন কি। খুব পরিশ্রমী খেলা তো। এরপরও এই দশা। আবার তো নাকি রাতেও খেলেন, অবাক কাণ্ড।’
‘জি সাহেব। এইদিকে এলাকায় ব্রডব্যান্ড নাই। মডেমে প্রচুর খরচও হচ্ছে। ছেলে এই কয়দিনে খেলতে গিয়ে প্রচুর ডাটা খরচ করে ফেলেছে।’
‘ও তাই বলেন। তার মানে খেলাটা মাঠে না হয়ে পিসিতে হয়?’
‘হ্যাঁ। এখন আর মাঠ পাবো কোথায়। গলির মাঠগুলো সব ছোট। আমি আবার ছেলেকে কিছু দিতে চাইলে কম করে দেই না। ভাবলাম বড় মাঠে খেলার সুযোগ করে দেই, তাই পিসি কিনে দিয়েছি।’
