সত্যজিত্ বিশ্বাস
সবই ভুয়া, সবই মেকি
শিষ্য :কী হয়েছে বাবা? মন খারাপ করে বসে আছেন কেন?
গুরু :চুপ, একদম চুপ! আমাকে তোরা বাবা বলে ডাকবি না।
শিষ্য :কেন বাবা?
গুরু :এই যে তোরা আমাকে এখন বাবা-বাবা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলছিস, সবই ভুয়া, সবই মেকি।
শিষ্য :এসব কী বলছেন, বাবা?
গুরু :ঠিকই বলি, মন থেকে কেউ বাবা বলে না।
শিষ্য :কী করে বুঝলেন?
গুরু :এই যে বিশ্ব বাবা দিবস গেল, কে কে আমাকে স্মরণ করলি শুনি?
লেডিকিলার না তো কী?
প্রথম বন্ধু :জানিস, চন্দন তো দিন দিন লেডিকিলার হয়ে যাচ্ছে।
দ্বিতীয় বন্ধু :কী? ওই শুকনা পাটকাঠি, লেডিকিলার? ঠিকমতো কথাই তো কইতে পারে না।
প্রথম বন্ধু :কথা না কইতে না পারলে কি হইল? মোটর সাইকেলে পাড়া ঘুইরা বেড়ায় না?
দ্বিতীয় বন্ধু :লক্কর ঝক্কর একটা মোটর সাইকেল লইয়া মেয়ে মানুষ দেখলে যে কাঁপতে কাঁপতে গায়ে উঠাইয়া দেয়, সে তোর কাছে লেডিকিলার?
প্রথম বন্ধু :কেন, তোর কাছে কী?
মাস্টার প্ল্যান
সাংবাদিক :ঢাকা (দ) সিটির ৪৮ এলাকা জলাবদ্ধপ্রবণ। কী বলবেন এ ব্যাপারে?
জন প্রতিনিধি :এটা উন্নয়নেরই বিরাট মাস্টার প্ল্যান।
সাংবাদিক :বলেন কী! কী করে?
জন প্রতিনিধি :বর্ষাকালে এটা হবে বিরাট পর্যটন কেন্দ্র।
সাংবাদিক :আপনার কথা তো কিছুই বুঝতে পারছি না, যদি একটু বুঝিয়ে বলতেন।
জন প্রতিনিধি :ইতালির ভেনিস শহরের নাম শুনেছেন? পুরো শহর পানির উপর দাঁড়িয়ে আছে। ওখানে এক বাসা থেকে অন্য বাসায় যেতে হলেও পানির ওপর দিয়ে যেতে হয়। নৌকাই হলো যাতায়াতের একমাত্র বাহন। এসব দেখতে সারা পৃথিবীর প্রায় ৫০ হাজার পর্যটক প্রতিদিন ভিড় করে।
সাংবাদিক :তো?
জন প্রতিনিধি :তো, আমাদের ভেনিস হবে ঢাকা দক্ষিণের এই ৪৮ এলাকা। হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করবে বাংলাদেশের ভেনিস দেখতে। কী, মাস্টার প্ল্যানটা কেমন?
সাংবাদিক নির্বাক।
বাবা কুইজ
প্রশ্ন :বাবা কেন সন্তানের চোখে হিরো?
উত্তর :বাবার হোটেলে ফ্রি থাকা, খাওয়ার সাথে হাত খরচটাও মেলে যে।
প্রশ্ন :বাবা কি সবাই হতে পারে?
উত্তর :সবাই তো দূরের কথা, পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ বাবা হতে পারে না।
প্রশ্ন :এত বিপুল সংখ্যক মানুষ বাবা হতে পারে না কেন?
উত্তর :কারণ, তারা মা হয়।
প্রশ্ন :মেয়েরা যে মায়ের চেয়ে বাবাকেই বেশি ভালোবাসে তার প্রমাণ কী?
উত্তর :মন খারাপ হলে মেয়েরা আর কোথাও নয়, বাপের বাড়িই যেতে চায়।
আষাঢ়ে গল্পের সংজ্ঞা
স্যার :বল তো আষাঢ়ে গল্প কাকে বলে?
ছাত্র :মানুষ আষাঢ় মাসে যে গল্প করে, তাকে আষাঢ়ে গল্প বলে।
আষাঢ়ে গল্প
প্রেমিকা :তোমার মতো মিথ্যেবাদী, চাপাবাজ আমি জীবনে দুইটা দেখিনি।
প্রেমিক :কেন, এটা বললে কেন?
প্রেমিকা :পয়লা আষাঢ়ে আমাকে ছুঁয়ে বলোনি এক সপ্তাহের মধ্যেই বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সে সিনেমা দেখাবে?
প্রেমিক :ওটা তো আষাঢ়ে গল্প ছিল।
প্রেমিকা :তার মানে?
প্রেমিক :হায় রে, তুমি তো দেখি আষাঢ়ে গল্পের মানেই জানো না!
আষাঢ়ে ধাঁধা
প্রশ্ন :আষাঢ় মাস। গভীর রাতে মেঘ ডাকছে, বৃষ্টি পড়ছে। তাহলে, আগামীকাল কার পরীক্ষা?
উত্তর :আগামীকাল বৃষ্টির পরীক্ষা। নইলে এত রাত জেগে কেউ পড়ে?
প্রশ্ন :আচ্ছা, এবার বলুন তো—আষাঢ় মাস। গভীর রাতে মেঘও ডাকছে না, বৃষ্টিও পড়ছে না। তাহলে, আগামীকাল কার পরীক্ষা?
উত্তর :আগামীকাল বৃষ্টিরই পরীক্ষা। গভীর রাত, তাড়াতাড়ি না ঘুমালে কাল সকালে পরীক্ষা দেবে কী করে শুনি?
প্রশ্ন :আচ্ছা, এবার চটপট বলে ফেলুন তো—আষাঢ় মাস। গভীর রাতে মেঘ ডাকছে, বৃষ্টি পড়ছে। তাহলে, আগামীকাল কার পরীক্ষা?
উত্তর :কী বললেন? বৃষ্টির? শুধু বৃষ্টির হবে কেন? মেঘকে কী চোখে পড়ে না? পরীক্ষা না থাকলে গভীর রাতে ও বেচারা জেগে আছে শুধু শুধু?
প্রশ্ন :শেষবারের মতো জিজ্ঞাসা করছি, খুব ভেবে বলুন, আষাঢ় মাস। গভীর রাতে মেঘ ডাকছে, বৃষ্টি পড়ছে। তাহলে আগামীকাল কার পরীক্ষা?
উত্তর :কী বললেন? মেঘ আর বৃষ্টির? ভাইরে, বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা চলছে। গভীর রাতে মেঘ ডাকলে আর বৃষ্টি পড়লে পরদিন পরীক্ষাটা কার হয়, তাও কি বলে দিতে হবে?
আষাঢ় মাস
(যার চোখে যা)
কবির চোখে :কবিতা ‘আসার’ মাস।
রম্য গল্প লেখকের চোখে : ‘আষাঢ়’-এ গল্প লেখার মাস।
প্রেমিকের চোখে :প্রেমিকার হাতে হাত ধরে বৃষ্টিতে ভেজার ‘আশার’ মাস।
ছাতা ব্যবসায়ীর চোখে :ছাতার কারবারে টু পাইস ‘আসার’ মাস।
বিশ্বকাপ ক্রিকেট দলগুলোর চোখে :ভাভারে ভাভা বৃষ্টি ‘আসার’, খেলা হওয়ার ‘আশার’, মহান ‘আষাঢ়’ মাস।
কাঁচি
কাঁচি, কোথায় লাগে না তোমাকে?
চুল কাটার সময় নাপিতের
কাপড় কাটার সময় দর্জির
ঔষধ কাটার সময় ডিসপেনসারির
ফিতা কাটার সময় প্রধান অতিথির
অপারেশনের সময় ডাক্তারের
সিনেমায় অশ্লীলতা কাটার সময় সেন্সর বোর্ডের।
ছবি প্রদর্শনীতে একদিন
গ্যালারিতে ছবি প্রদর্শনী চলছে। এক জোড়া প্রেমিক-প্রেমিকা এসেছে সেই প্রদর্শনী দেখতে। তার মধ্যে একটি ছবির বিষয়বস্তু হলো, আকাশে কালো মেঘ ছেয়ে গেছে, এখনি বৃষ্টি নামবে। এক অপরূপ রূপবতী পাতলা ফিনফিনে বসনে বাসার ছাদে দাঁড়িয়ে সেই মেঘাচ্ছন্ন আকাশ দেখছে।
এই ছবির সামনে এসে প্রেমিক আর নড়ছে তো নাই, বরং একটু পরপর সামনে এগিয়ে গিয়ে চোখ বড় বড় করে কী যেন দেখার চেষ্টা করছে। তা দেখে প্রেমিকা রাগে জ্বলতে জ্বলতে দিল রামঝাড়ি!
প্রেমিকা :তোমার ব্যাপারটা কী, নির্লজ্জের মতো সামনে এগিয়ে গিয়ে কী দেখ?
প্রেমিক :না মানে, এই ছবির আর্টিস্টের নামটা পড়ার চেষ্টা করছি। নামটা পড়া যাচ্ছে না বলেই সামনে যাচ্ছি বারবার।
প্রেমিকা :অনেক হয়েছে, চলো তো এখন।
প্রেমিক :একটু অপেক্ষা করি, উনি এলে একটা প্রশ্নের উত্তর জেনেই চলে যাব।
প্রেমিকা :কী প্রশ্ন?
প্রেমিক :এই ছবির সিক্যুয়েলটা কবে প্রদর্শিত হবে?
বাড়াবাড়ির কারণে
ছোট ভাই :আচ্ছা দাদা, বন্যা হয় কেন?
বড় ভাই :পানি বেড়ে যায় বলে।
ছোট ভাই :পানি বেড়ে যায় কেন?
বড় ভাই :বন্যা হয় বলে।
ছোট ভাই :বন্যায় পানি বেড়ে যায় কেন?
বড় ভাই :দুজনের বাড়াবাড়ির কারণে।
