ব্যবসায়ীর পর এবার ইউপি সদস্যকে পেটালেন জাবি ছাত্রলীগ নেতা

আপডেট : ০৭ মে ২০২৩, ১৭:৫৩

ব্যবসায়ীর পর এবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ছাত্রলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে আনোয়ার হোসেন রানা এক ইউপি সদস্যকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৬ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাঙ্গামাটি এলাকার পানির ট্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন রানা সাভারের পাথালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসের বাসচালক আব্দুল মান্নানের ছেলে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রাঙ্গামাটি এলাকার বাসিন্দা।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাব্বির হোসেন নাহিদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান জয়। সাব্বির বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শহীদ রফিক জব্বার হলের আবাসিক ছাত্র এবং মেহেদী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৪৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও মওলানা ভাসানী হলের আবাসিক ছাত্র।

জানা যায়, শনিবার রাতে ইসলামনগর বাজার থেকে মশারি কিনে বাড়ি ফিরছিলেন ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাঙ্গামাটি এলাকার পানির ট্যাংকের সামনে পৌঁছালে সাব্বির ও মেহেদী তার পথ আটকায়। এ সময় তারা আনোয়ারকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে মারধর করে। 

ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন রানা বলেন, তাদের সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নেই। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে আমাকে মারধর করে। পরে শুনি তারা আমার বাড়িতেও গিয়েছিলো। আমাকে না পেয়ে বাবাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে গেছে।

অভিযুক্ত মেহেদী হাসান জয় বলেন, আনোয়ার হোসেন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যাম্পাসে নাশকতার পরিকল্পনা করেছেন। এজন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের জায়গা থেকে তাকে নিষেধ করেছি। তবে তাকে মারধর করার ঘটনা ঘটেনি।

জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল বলেন, শুনেছি ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন রানার বাসায় জঙ্গি সংগঠনের নেতারা মিটিং করেন। তিনি বাসায় জঙ্গি নেতাদের আশ্রয় দেন। তাই আগামী নির্বাচন উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাসে যেন কোনো ধরনের নাশকতা না করে সে বিষয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা গিয়ে সতর্ক করেছে। তবে মারধরের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা আমার জানা নেই।

এর আগে, শুক্রবার রাতে জুতা পালিশ করতে দেরি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় এক ব্যবসায়ী ও দোকানের কর্মচারীকে মারধর করেন অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন নাহিদ ও মেহেদী হাসান জয়।

ইত্তেফাক/এবি/পিও