তদন্তের জাল খুলল কমিটি

আপডেট : ০৮ মে ২০২৩, ১০:৫২

ফিফা যেসব অনিয়ম তুলে ধরে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগকে নিষিদ্ধ করেছে তা খতিয়ে দেখতে বাফুফে গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। গতকাল প্রথম বৈঠকে বসেছে। প্রথম দিনের কাজ। আলোচনা হয়েছে। গতকাল বাফুফে ভবনে দুই ঘণ্টার বেশি আলোচনার পর যা জানা গেল তাতে অপরাধী খুঁজে বের করতে জাল ফেলতে যাচ্ছে কাজি নাবিলের কমিটি। জালে কারা আটকে যাবেন, কারা জাল ছিড়ে বেরিয়ে যাবেন তা বলা কঠিন। তবে প্রয়োজনের তাগিদে ‘সন্দেহভাজনদের’ সঙ্গে কথা বলবে কমিটি।

ফিফা যেভাবে তাদের বরাদ্দ ব্যয় করতে বলেছে সেটা পুরোপুরি অনুসরণ না করায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সোহাগকে দুই বছর নিষিদ্ধ করা হয়। অধিকতর তদন্তের জন্য গঠিত কমিটি কথা বলতে পারে অর্থ কমিটি, অডিট কমিটির সঙ্গে, এমনকি নিষিদ্ধ সোহাগকেও কমিটির সামনে হাজির হতে বলা হতে পারে। তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল কারো নাম ধরে কথা বলেননি। তিনি বলেছেন, ‘তদন্তের স্বার্থে যাদের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন মনে করা হবে তার সঙ্গেই কথা বলব আমরা।’ সোহাগকে ডাকা হবে কি না সেই প্রশ্নে নাবিলের সাফ কথা হচ্ছে এখন চিন্তা করছি এক রকম। এটা পরিবর্তনও হতে পারে।’ নাবিল নিশ্চিত করলেন না, তারা সোহাগকে ডাকবেন কি, ডাকবেন না। অর্থ কমিটির বিষয়েও নাবিলের একই আভাস।

কাজি নাবিল।

সরাসরি না বললেও নাবিলের কথা পরিষ্কার, তদন্তের জাল খুলেছেন। সোহাগকে ডেকে নিয়েছিল ফিফা। সঙ্গে না-কি এটাও বলেছিল ফিফা যে, সোহাগ যদি কাউকে সঙ্গে আনার প্রয়োজন মনে করেন তাহলে আনতে পারবেন। সোহাগ জুরিখে ফিফার সদর দপ্তরে যাওয়ার সময় হাসান মাহমুদ এবং জাবের বিন আনসারীকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তারা মূলত সোহাগের পক্ষে সাক্ষী দিতে গিয়েছিলেন। কোন হিসাব কীভাবে করা হয়েছে, ক্রয়সংক্রান্ত বিষয় কীভাবে তারা করেছে। সেসব ভুয়া, জাল কাগজপত্র হাসান আর জাবেরের সামনে তুলে ধরে। প্রমাণ দিয়েছেন তারা কীভাবে দেশের ফেডারেশনের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসে দিনের পর দিন অনিয়ম করে আসছিলেন। ঝটিকা সফর শেষে সুইজারল্যান্ড থেকে ঘরে ফিরে আসা হাসান-জাবের বুঝতেও পারেনি তাদের কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ করেনি ফিফা।

নাবিল জানিয়েছেন, ৫১ পৃষ্ঠার রিপোর্টে যাদের নাম এসেছে যাদেরকে ইঙ্গিত করা হয়েছে তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। নাবিলের এই ভাবনার সঙ্গে পরিষ্কার ফুটে উঠেছে তদন্ত কমিটি হাসান-জাবের জুটিকেও ডাকবে। এ দুই জনের সঙ্গে আরো একাধিক ব্যক্তি রয়েছে তারাও তদন্ত কমিটির কাঠগড়ায় উঠবেন। এখন প্রশ্ন উঠছে তারা কেন সঠিক তথ্য তুলে ধরবেন। ফেঁসে যেতে পারেন। যারা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত তারা কি সত্য তথ্য দিবেন কি না। নাবিল বললেন, ‘কথা বললে আমরা বুঝতে পারব।’ ফিফা বেশ কিছু অবজারবেশন দিয়েছে তা নিয়েও আমরা কাজ করব। একদিনে সব কথা বলা সম্ভব না। প্রথম দিন কাজ করলাম। দুই-তিন দিনের মধ্যে আবার বসব।’

২০১৭-২০২০ সাল পর্যন্ত বাফুফের আর্থিক বিষয়ে তদন্ত করে চারটি বিষয়ে অভিযোগ এনেছে। বিমান টিকিট ক্রয়, জার্সি কেন, ঘাস কাটার মেশিন রয়েছে। এই কমিটি থেকে আগেই সরে গিয়েছেন আতাউর রহমান মানিক, মহিউদ্দিন মহি, আর গতকাল মিটিংয়ে আসেনি ইমরুল হাসান, ইলিয়াস হোসেন। ইমরুল হাসান বাফুফের সভায়ও আসেনি।

ইত্তেফাক/জেডএইচ