ব্যাংকিং খাতে সংকট দেখছি না :পরিকল্পনামন্ত্রী
ইত্তেফাক রিপোর্ট
প্রবৃদ্ধির সুফল পেতে সুশাসনের উন্নতি করতে হবে। বৈষম্য কমিয়ে আনতে না পারলে উন্নয়নের সুফল পাওয়া যাবে না। সুশাসন ও জবাবদিহিতা না থাকলে উন্নয়ন টেকসই হবে না। গতকাল শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এর উদ্যোগে অর্থনীতি ও সুশাসনের চ্যালেঞ্জ বিষয়ে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সিজিএস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এম আতাউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিজিএস নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।
এতে সামষ্টিক অর্থনীতি, বাজেট প্রস্তাবনা ও সর্বজন শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণ-এর চেয়ারপার্সন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি উল্লেখ করেন, রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা এবং আদায়ের মধ্য বিরাট পর্থক্য বিদ্যমান। ক্রমাগত ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে অর্থনীতি মারাত্মক ঋণ-সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো খাত সবচেয়ে অবহেলিত। অবকাঠামোতে খরচ বাড়লেও গুণগত মান পড়ছে। নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনা অর্থনীতিতে বিনিয়োগের চাহিদা কমিয়ে দিচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, গত ১১ বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রমাণ আমরা দিয়েছি। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত নিয়ে সরকার সচেতন রয়েছেন। এই খাতে আমরা সংকট বা ভীতি দেখছি না। এমন কিছু হয়নি যে ব্যাংক ধস হয়ে যাবে। ব্যাংকিং খাতে কিছু ‘মিসম্যাচ’ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না, সরকার ব্যয় বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক সেলিম জাহান, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, অধ্যাপক আবু আহমেদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন, এনবিআর-এর সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, বিএনপির সাবেক এমপি সৈয়দা আসিফা আশরাফ পাপিয়া প্রমুখ।
