মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চান না, কিন্তু যুদ্ধ বেধে গেলে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে পাত্তা দেওয়া হবে না, বরং তাদের হুমকির দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের
এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করতে চায়। তবে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। ইরানের নেতাদের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আপনাদের পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। যদি এ নিয়ে আলোচনায় বসতে চান, ভালো কথা। না হলে ভেঙে পড়া অর্থনীতির মধ্যেই বহুকাল কাটাতে হবে। বৃহস্পতিবার ইরান একটি মার্কিন সামরিক ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করে। এর জবাবে ওই রাতেই ইরানে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ১৫০ জন ইরানি মারা যাবেন এই কথা শুনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হামলা স্থগিত করেন।
হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন সামরিক ড্রোনকে ধ্বংস করায় দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রশংসা করেছে। মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে কোন ধরনের আগ্রাসী সিদ্ধান্তই গ্রহণ করুক না কেন, ইরান সেটা প্রতিরোধ করবে। যে কোনো মার্কিন হুমকির দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক অ্যালান জনস্টন বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভালো করেই জানেন যে ইরানের উপর সামরিক হামলার একটা বড় রকমের ঝুঁকি আছে। এই যুদ্ধ তখন ইরানের সীমান্ত ছাড়িয়ে খুব দ্রুতই গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এরকম উত্তেজনার মধ্যে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ইরানের আকাশসীমার ভেতর দিয়ে তাদের বিমান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। ইত্তিহাদ এয়ারলাইন্স পরিহার করছে হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপসাগরের উপর দিয়ে যাওয়া আসা। কিন্তু ইরানের বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় বলছে, তাদের আকাশসীমা নিরাপদ। উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা হিসেবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্কতা এন্ড্রু মারিসন আজ রবিবার তেহরান সফরে যাচ্ছেন।
