লেখিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার ট্রাম্পের

আপডেট : ২২ জুন ২০১৯, ২২:২৪

১৯৯০ এর দশকে একটি দোকানের ড্রেসিং রুমে এক লেখিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনে ই. জিন ক্যারল নামে সেই লেখিকার কাহিনি প্রকাশিত হয়। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এর আগে ১২ জনেরও বেশি নারী যৌন অসদাচরণের অভিযোগ এনেছেন। তবে তিনি তা অস্বীকার করেন। খবর বিবিসির

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এটা সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং ওই মহিলাকে তিনি কখনো দেখেননি। তিনি অভিযোগ করেন, ওই নারী তার নতুন বই বিক্রির জন্যই এ অভিযোগ ফেঁদেছেন। এটা কল্পকাহিনি হিসেবেই বিক্রি হওয়া উচিত। ট্রাম্প বলেন, এ ঘটনার কোন প্রমাণ নেই। তার মতে, ক্যারল বা নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনের সঙ্গে ডেমোক্যাটিক পার্টি কাজ করছে এরকম প্রমাণ যদি কারো হাতে থাকে, তাহলে হোয়াইট হাউসে খবর দেওয়ারও আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, বার্গডর্ফ ডিপার্টমেন্ট স্টোর নিশ্চিত করেছে যে ওই ঘটনার কোনো ভিডিও ফুটেজ নেই এবং সেজন্য তিনি তাদের ধন্যবাদ দেন।

ক্যারল অভিযোগে যা বলেছেন

প্রকাশিত নিবন্ধে ক্যারল তার জীবনে অত্যন্ত খারাপ কিছু লোকের হাতে আক্রান্ত হবার ছয়টি অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি লিখেছেন, ১৯৯৫ সালের শেষ দিকে বা ৯৬ এর প্রথম দিকে বার্গডর্ফ গুডম্যান নামে নিউইয়র্কের এক অভিজাত পোশাকের দোকানে তার সঙ্গে ট্রাম্পের দেখা হয়। ক্যারল চিনতে পেরেছিলেন যে ইনিই সেই রিয়েল এস্টেট টাইকুন বা ধনকুবের ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প তাকে বলেছিলেন, একটি মেয়ের জন্য উপহার কিনতেই তার এই দোকানে আসা এবং ক্যারলের টিভি অনুষ্ঠানের সুবাদে তিনিও তাকে চেনেন। ক্যারল বলেন, এরপর তারা কথাবার্তা বলেন এবং মেয়েদের অন্তর্বাস পরা নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করেন। পরে তারা দু’জন একটা ড্রেসিং রুমে যান এবং সেখানেই ট্রাম্প তাকে ধর্ষণ করেন। ট্রাম্প এবং ক্যারল উভয়েরই বয়স তখন ৫০ এর কাছাকাছি। তখন ট্রাম্পের স্ত্রী ছিলেন মার্লা মেপলস। ক্যারল লিখেছেন, তিনি এ ঘটনার কথা দু’জন বন্ধুকে বলেছিলেন। তাদের একজন তাকে পুলিশে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু অন্য বন্ধু বলেন, কাউকে কিছু বলার দরকার নেই। তার অন্তত ২০০ আইনজীবী আছেন যারা তোমাকে কবর দিয়ে দেবেন। ক্যারল নিবন্ধের শেষে লিখেছেন, ট্রাম্পই তার জীবনের শেষ খারাপ লোক এবং ওই ঘটনার পর থেকে তিনি আর কখনো শারীরিক সম্পর্ক করেননি।