আলোচনা-সমালোচনায় শাকিব-বুবলী

আপডেট : ১৫ মে ২০২৩, ০৫:৩১

বেশ কিছুদিন ধরে শাকিব-বুবলী-অপুর সম্পর্ক দুই নায়িকার কথার লড়াইয়ের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল। যেখানে নায়ক ছিলেন দর্শকের ভূমিকায়। তবে সম্প্রতি বুবলীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন শাকিব। এরপর থেকেই জমে উঠেছে শাকিব-বুবলীর বিতর্ক প্রতিযোগিতা! একজন কিছু বলছেন তো আরেকজন সেটার পাল্টা দিতে সময় নিচ্ছেন না। যা রীতিমতো বিনোদনের রসদ জোগাচ্ছে দর্শক-সমালোচকদের। 

ক’দিন আগেই শাকিব খান বুবলীর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই জানিয়ে বলেন, ‘বাস্তবজীবনে বুবলীর সঙ্গে আমার সব সম্পর্ক অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, বুবলীর সঙ্গে আমি আর কোনো সিনেমাতে কাজ করব না, এটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।’ শাকিবের এমন বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশকিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে ফেসবুকে লম্বা স্ট্যাটাস দেন বুবলী। সেই স্ট্যাটাসে অপু বিশ্বাসের সঙ্গে শাকিবের সম্পর্ক নিয়েও পরোক্ষভাবে তিনি ইঙ্গিত করেন বলে মনে করছেন অনেকে। বুবলী লেখেন, ‘কিছুদিন পরপর হঠাৎ হঠাৎ করে আমাকে নিয়ে আপনার এ রকম নিউজ দেখে খুব অবাক হয়ে ভাবি হচ্ছেটা কী! কোন উদ্দেশ্যে আপনি আপনার স্ত্রী (এখনও আপনার সাথে আমার ডিভোর্স হয়নি) এবং আপনার সন্তানের মাকে নিয়ে আপত্তিকর ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলে সংবাদ করে ক্ষীণও চিন্তা প্রকাশ করেন? অনেকটা সময় পার হয়ে গিয়েছে নিজের জীবনটাকে গোছান। আমি কখনোই আপনাকে কোনো ব্যাপারে ফোর্স করিনি, সব সিদ্ধান্ত দিনশেষে আপনারই ছিল। এখনও আপনার কোনোকিছু মনে হলে সেই সিদ্ধান্তও একান্তই আপনার। সেটা যে সিদ্ধান্তই হোক আমি অবশ্যই শুভকামনা জানাবো।’ 

এদিকে বুবলীর স্ট্যাটাসের বয়স দু-দিন পার হতে না হতেই পাল্টা অভিযোগ আনলেন শাকিব খান। এমনকি বুবলীকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার কথাও জানালেন তিনি। শাকিব বলেন, ‘আমিও তাকে (বুবলী) অন্ধ বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু শেহজাদকে জন্ম দেওয়ার পর আমেরিকা থেকে দেশে এসে সে নানা স্ক্যান্ডালে জড়িয়ে পড়ল। একসঙ্গে সাড়ে ৩ কোটি টাকার ফ্ল্যাট এবং ৫৬ লাখ টাকার গাড়ির মালিক হলো। হঠাৎ করে এমন বিত্ত-বৈভবের মালিক হওয়া কীভাবে সম্ভব? কেউ যদি বিনা কারণে বিশ্বাসভঙ্গ করে বা বিশ্বাসঘাতকতা করে তাহলে তার সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে কনটিনিউ করা যায় আপনারাই বলুন?’ তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের দিনও পরিকল্পিতভাবে বুবলী আমার বাসায় আসে। যেখানে আমার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্কই নেই, সেখানে আমার বাসায় সে আসবে কেন? ঈদের দিন বাসায় কেউ এলে তাকে তো আর বের করে দেওয়া যায় না। অথচ এর আগে একবার তাকে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়া হয়েছিল। সে মিথ্যা বলে আবার আমাকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করার চেষ্টা করেছে। জীবদ্দশায় আমি তার ছায়াও আর দেখতে চাই না। আমার ধারে-কাছে আসা এবং আমার বাসায় প্রবেশের কোনো অধিকার তার নেই। তার আর কোনো নাটক আমি দেখতে চাই না।’ 

এদিকে তাদের এমন কথার লড়াইয়ে বিব্রত অনেকেই। নানা মাধ্যমে তাদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যও করছেন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এই যুদ্ধ কোথায় গিয়ে শেষ হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ইত্তেফাক/ইআ