শিশু পার্কে ঢুকতেই বাঁশ! ঘটছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে ভোগান্তি

আপডেট : ১৬ মে ২০২৩, ২২:০০

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে শিশু পার্কে যাতায়াতের রাস্তায় বাঁশ রেখে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে পার্কে ঘুরতে এসে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন লোকজন, বাড়ছে ভোগান্তি।

এদিকে ব্যবসার জন্য পৌর শহরের মধ্যে নির্দিষ্ট জায়গা চেয়েছেন বাঁশের ব্যবসায়ীরা। যেখানে স্থায়ীভাবে ব্যবসা করতে পারেন তারা।

তাড়াশ শিশু পার্ক সংলগ্ন পৌর এলাকার ভাদাশ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলীম বলেন, আমার দুই মেয়েকে নিয়ে পার্কে ঘুরতে আসি। কিন্তু শিশু পার্কের প্রবেশ পথের রাস্তায় বাঁশ রাখায় বাঁশের সুচালো আগার আঘাত লাগে। তা ছাড়া বাঁশ বেচার সময় রাস্তার কোনো পাশ দিয়ে পার্কে যাওয়া যায় না। রাস্তা বন্ধ করে চলে বাঁশ বেচা-কেনা। নিরুপায় হয়ে অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
 
অপরদিকে দেশীগ্রাম ইউনিয়নের আরঙ্গাইল গ্রামের খাদেমুল ইসলামের মেয়ে মায়া খাতুন (১২) জানায়, সে ঈদুল ফিতরের দিন বিকাল বেলায় সহপাঠীদের সঙ্গে তাড়াশ শিশু পার্ক ঘুরতে এসেছিল। কিন্তু পার্ক থেকে বেড় হওয়ার সময় মোটরসাইকেল এসে ধাক্কা দেয়। তার একটি পা ভেঙে যায়। পার্কের রাস্তায় বাঁশ রাখায় রাস্তা সরু হয়ে গেছে। এ জন্য দুর্ঘটনা ঘটেছে। 

সোমবার (১৫ মে) সকালের দিকে দেখা গেছে, ভূয়াগাঁতী আঞ্চলিক সড়ক থেকে নেমে তাড়াশ শিশু পার্কে যাওয়ার রাস্তার মুখেই দুই পাশে অসংখ্য বাঁশ মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। পার্কে ঘুরতে এসেছেন বেশকিছু লোকজন।

বাঁশের ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ ও মোস্তফা বলেন, আগে বাঁশ বাজার হাসপাতাল সংলগ্ন ফুটবল খেলার মাঠের এক পাশে ছিল। সেখান থেকে সরিয়ে শিশু পার্কের রাস্তায় দেওয়া হয়েছে। ফুটবল মাঠের কোণায় তাড়াশ ইসলামিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১ একর ৭৭ শতাংশ জায়গা যুগ যুগ ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ঐ জায়গা স্থানীয়রা যে যার মতো করে ব্যবহার করছেন। বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত জায়গাতে বাঁশ বাজার করে দিলে তাদের খুব ভালো হয়।

উপজেলা নাগরিক আন্দোলনের আহবায়ক আব্দুর রাজ্জাক রাজু বলেন, তাড়াশ পৌর শহরে খেলার মাঠ নেই। না আছে বিনোদন কেন্দ্র। শিশু পার্কই একমাত্র ভরসা। বিশেষ করে, শিশুদের মানসিক পরিপক্কতার জন্য বাইরের নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশ অপরিহার্য। কেবল যাতায়াতের বিরাম্বনা থেকে মুক্তি নয়, তাড়াশ শিশু পার্কটির সার্বিক উন্নয়ন কাজ পুনরায় শুরু করে তা সম্পূর্ণরূপে বিনোদন উপযোগী করে গড়ে তোলা হোক। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. মেজবাউল করিম জানিয়েছেন, বাঁশ বাজার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চিন্তা তাদেরও রয়েছে। যাতে লোকজন নির্বিঘ্নে শিশু পার্কে যাতায়াত করতে পারেন।

সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ, রায়গঞ্জ, সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, তাড়াশ শিশু পার্কের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অর্থের জোগাড় হয়ে গেছে। কোরবানীর ঈদের আগেই পার্কটি বিনোদন উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। 

ইত্তেফাক/পিও