টাঙ্গাইল
শফিক আলম
শ্রাবণের শেষ অবধি আনারসের ভরা মৌসুম। এরমধ্যেই ঘুরে আসতে পারেন আনারসের স্বর্গরাজ্য হিসেবে খ্যাত টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে। মধুপুরের প্রায় সব ইউনিয়নেই কমবেশি আনারস চাষ হয়। তবে আলাদা করে বলতে গেলে অরুণখোলা, ষোলাকুঁড়ি, আউশনাড়া ইউনিয়নে প্রচুর আনারস জন্মে।
আনারসের বাগান দেখতে হলে আপনাকে প্রথমে মধুপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ৪ কি. মি দূরে সবচেয়ে বড় আনারসের বাজার ‘জলছত্র’তে যেতে হবে। তবে বাসস্ট্যান্ডে রাস্তার মাঝে আনারসের ভাস্কর্যটি দেখে সত্যিকার আনারস ভেবে ভুল করতে পারেন। ২৫ ফুট উচ্চতার ৩টি বিশাল আনারস ভাস্কর্যের মাধ্যমে শিল্পী মৃণাল দত্ত এখানের আনারসের শিল্পমণ্ডিত রূপদান করেছেন।
মঙ্গল ও শুক্রবার সাত সকালেই সরগরম হয়ে যায় জলছত্র হাট। প্রত্যুষে হাটুরের দল হাজির হয়ে যায় জলছত্র বাজারে। কেউ বাইসাইকেলে ঝুলিয়ে, কেউ ঘোড়ার গাড়িতে, কেউ পিকআপ ভ্যানে করে ঠেলে-ঠুলে নিয়ে আসে আনারস। সারিবদ্ধভাবে নিয়ে আসার সেই দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। হাটের দিনগুলোতে এখনকার চাষিদের মাঝে ব্যস্ততা বিরাজ করে। হাটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত আসা পাইকাররা সবার আগে ক্রয়ের আশায় ঘিরে রাখে চাষিদের। পাইকাররা ক্রয়ের পর পিকআপে বোঝাই করে দূর-দূরান্তে নিয়ে যায়। আর এখানকার বাতাসে পাকা আনারসের মৌ মৌ ঘ্রাণে আপনি বিমোহিত না হয়ে পারবেন না।
আনারসের বাজার শেষ হলে শুরু হবে কলার পাইকারি বাজার। বর্তমানে এখানকার চাষিদের মাঝে একই জমিতে কলা ও আনারসে যৌথ চাষ প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। সারিবদ্ধ কলা গাছ রোপণ করে এর ফাঁকে তাঁরা আনারস চাষ করেন। আনারস বাজারের সাথে পাল্লা দিয়ে সমানতালে এখানে গড়ে উঠেছে সুবিশাল কলার বাজার। সাগর কলা, সবরি কলা আর আনাজি কলা, এই তিন প্রজাতির কলা আপনার চোখে পড়বে এখানে। পাইকাররা কলার পোন হিসেবে কেনাবেচা করেন। স্থানীয় হিসেবে ৮০টি কলায় এক পোন ধরা হয়।
বাজার দেখা শেষে আপনি আনারস বাগান পরিদর্শনে যেতে পারেন। বাজারে অবস্থানরত বিভিন্ন ভ্যান আপনাকে সুলভ মূল্যে আনারস বাগান দেখিয়ে নিয়ে আসবে। মধুপুরের প্রতিটি গ্রামই আনারসের বাগান সমৃদ্ধ। রাস্তার দু-পাশে সারিসারি শাল, আকাশমনি কিংবা গাছের ফাঁকে চোখে পড়বে আনারস বাগান। কোথাও আবার বিশাল বিস্তৃত জায়গাজুড়ে আনারস বাগান। আর এ সময়ে বাগানগুলোতে পাকা আনারসের আধিক্য। চোখ জুড়ানো এই বাগানের সৌন্দর্যে আপনি আন্দোলিত হতে বাধ্য।
জেনে রাখুন
ঢাকার মহাখালী থেকে বিভিন্ন পরিবহনে মধুপুর যাওয়া যায়। এছাড়া কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে টাঙ্গাইল সদর পৌঁছে সেখান থেকে বাসে করে মধুপুর নেমে অটোযোগে জলছত্র যেতে পারেন। ঢাকা থেকে জলছত্র পৌঁছাতে জনপ্রতি খরচ হবে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।
রাত্রিযাপনের জন্য মধুপুরের মধ্যম মানের হোটেলকে বেছে নিতে হবে। চাইলে পূর্বানুমতি নিয়ে বন বিভাগের বিশ্রামাগারে থাকতে পারেন। তাছাড়া মধুপুরের কাছেই মধুপুরের শালবন, রাবার বাগান, ধনবাড়ির নবাববাড়ি এই দর্শনীয় স্থানগুলোর অবস্থান হওয়ায় একটু সময় নিয়ে সেগুলোও বেড়িয়ে আসতে পারেন সহজেই।
