মাটি ছাড়াই চারা

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৯, ১৭:৪৭

মো. আমিরুজ্জামান

 

চারা তৈরি, তাও আবার মাটি ছাড়া। কোকো ডাস্ট ও প্লাস্টিক ট্রে ব্যবহারের মাধ্যমে মাটি ছাড়াই এই অসম্ভবব করে উন্নত সবজির চারা উত্পাদন করছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বালাপাড়া গ্রামের ওসমান গণি। সবজি জোন হিসেবে পরিচিত বোতলাগাড়ী এলাকা। ওসমান গণি পেশায় একজন কৃষক। সুস্থ সবল চারা উত্পাদনে তিনি নতুন এ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। আগে তিনি মাটিতে চারা উত্পাদন করার ফলে আবহাওয়ার কারণে চারা উত্পাদনে ব্যাঘাত ঘটতো। ২০১৭ সালে সেলফ-হেলপ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রামের শরণাপন্ন হলে তাদের কেজিএফ কর্মসূচির আওতায় কৃষি সেবা কেন্দ্র ও সবুজ নার্সারি বাস্তবায়নে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ১০ শতক জমিতে সবজি নার্সারি গড়ে তোলেন তিনি।

আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ১০ শতক জমির ওপর গ্রিন হাউসের আদলে তৈরি করেছেন নেট হাউস। তিনি কোকো ডাস্ট ব্যবহার করে কেঁচো সারের সমন্বয়ে মাটি ছাড়াই সবজি চারা উত্পাদন করছেন প্লাস্টিক ট্রেতে। এটা উন্নত প্রযুক্তি। এতে চারা পুরো শিকড় পেঁচিয়ে নেয় এবং তাতে শিকড়ের কোনো ক্ষতি হয় না। এই চারা জমিতে লাগানোর পরপরই খাদ্য গ্রহণ শুরু করে। তাঁর এই আধুনিক পদ্ধতিতে তৈরি নেট হাউসের চারপাশে নেট দিয়ে রাখতে দেখা গেছে। যেখানে পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশ নিশ্চিত হয় এবং ক্ষতিকারক পোকামাকড় একেবারেই প্রবেশ করতে পারে না। এছাড়া পলিথিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে হাউসের চাল। যে কারণে তাপ নিয়ন্ত্রণে থাকছে। এছাড়া ঝড়-বৃষ্টি থেকেও চারাগুলো নিরাপদ থাকছে।

ওসমান গণি বলেন, ‘অল্প খরচে বিভিন্ন সবজি চারা উত্পাদন করা যায় এ প্রযুক্তিতে। বেগুন, মরিচ, টমেটো, কফি, চাল কুমড়া, লাউ, করলা, পেঁপে, ঢেঁড়স, খিরা ইত্যাদি সবজি। ফুলের মধ্যে রয়েছে গোলাপ, গাদা, অর্কিড, অ্যান্ধরিয়াম ও চন্দ্র মল্লিকা।’

এ বিষয়ে কথা হয় শার্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর (কৃষি) মো. করিম উদ্দিনের সাথে। তিনি বলেন, ‘মাটিবিহীন চারা উত্পাদনে কৃষক লাভবান হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তির কৃষি পণ্য উত্পাদন ও বাজার সংযোগের সমন্বিত সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষকদের ফসল বিক্রি করা হয়। এজন্য ওই এলাকাতেই শার্পের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে সেবা কেন্দ্র। এখানে বাজারজাত করার জন্য কৃষক ও পাইকাররা তাঁদের উন্নত সবজি ও চারা ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন।’

শার্পের নির্বাহী প্রধান মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, ‘এ অঞ্চলের কৃষকরা কোকো ডাস্ট ব্যবহার করে প্লাস্টিক ট্রেতে উত্পাদিত সবজির চারার নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। উন্নত প্রযুক্তিতে উত্পাদিত এসব সবজির চারা খুবই মানসম্মত। পোকামাকড় বা কীটনাশক মুক্ত। এতে কৃষকরাও লাভবান হচ্ছেন।’