শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ডিজিটাল বৈষম্যই স্মার্ট বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ২৩ মে ২০২৩, ০৩:৫৫

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট সোসাইটি, স্মার্ট গভার্নমেন্ট এবং স্মার্ট ইকোনমি—এই চার বিষয়কে মূলভিত্তি ধরে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা শুরু করা হয়েছে। নিঃসন্দেহে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে প্রযুক্তিনির্ভর এবং তরুণ প্রজন্মই হবে স্মার্ট বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি। এখানে কোনো বৈষম্যের চিত্র থাকবে না।

স্মার্ট বাংলাদেশ শাসন বিভাগে স্বচ্ছতা আনয়ন করবে। শাসন বিভাগের বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তখন সময় ক্ষেপণ হবে না। সবকিছু প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমে যাবে। তবে এসব আয়োজন এবং পরিকল্পনা পূর্ণ সফলতায় রূপ নেবে না যদি প্রযুক্তি ব্যবহারে সবার মধ্যে বৈষম্য দূর করা না হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ পরিকল্পনা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হলেও গ্রামের চাইতে শহরের নাগরিকরা এখনো নেটওয়ার্কিং সুবিধা বেশি পায়। অধিকাংশ গ্রামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট লাইন নেই। এর ফলে শহর এবং গ্রামে স্পষ্ট বৈষম্য প্রতীয়মান।

আবার, দেশে পুরুষ এবং নারীদের মধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহারে বৈষম্য প্রকট। মুঠোফোন অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মুঠোফোন অর্থনীতি-২০২২ প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশে পুরুষের তুলনায় ২৩ শতাংশ কম নারীর নিজস্ব মুঠোফোন রয়েছে। মুঠোফোন থাকলেও এর সঠিক ব্যবহার অধিকাংশ নারীরা জানে না। ইন্টারনেট সংযোগেও পুরুষদের চাইতে নারীরা আরো বেশি পিছিয়ে।  ইন্টারনেট ব্যবহার করার সম্ভাবনাও পুরুষের তুলনায় নারীর ৫২ শতাংশ কম।

সবশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এ জেন্ডার বৈষম্যের বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে দেখা গেছে, মোট জনসংখ্যার ৬৬.৫৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৫.৫৩ শতাংশ  নারী মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৩৮.০২ শতাংশ পুরুষ এবং ২৩.৫২ শতাংশ নারী। তবে আশার কথা হলো—তথ্যপ্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ ২০৩০ সালে ৩০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ করার লক্ষ্য নিয়ে স্কুল থেকে শুরু করে উদ্যোক্তা পর্যায়ে কাজ করছে সরকার। আগামী ৫-১০ বছরের মধ্যে এ কাজের ফল পাওয়া যাবে। তাই স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে শুধু শহর নয় গ্রামকেও সমানভাবে প্রাধান্য দিতে হবে। আবার, পুরুষদের সঙ্গে সঙ্গে নারীদেরও প্রযুক্তির সুষ্ঠু ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে প্রযুক্তিপণ্য নিশ্চিত করতে হবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/ইআ