বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক অপ্রশস্ত, বাড়ছে দুর্ঘটনা

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৯, ২১:৫৪

বগুড়া-নাটোর ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ জাতীয় মহাসড়কটি প্রয়োজনীয় মান প্রশস্তকরণ না হওয়ায় ব্যস্ত এই সড়কে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কের প্রশস্ততা কম থাকায় বিপরীতমুখী যানবাহন সাইড দিতে গিয়ে পাশের কাঁচা রাস্তায় নেমে যায়। আর তখনি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

জানা গেছে, জাতীয় মহাসড়কের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ন্যূনতম মহাসড়ক প্রশস্তকরণ করা হয়ে থাকে ২৪ ফুট। কিন্তু বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের প্রশস্তকরণ করা হয়েছে ১৮ ফুট।

এ ব্যাপারে সড়কের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান জানান, ১৯৬২ সালে সড়কটি জেলা পরিষদ ১৮ ফুট প্রশস্ততায় নির্মাণ করেছিল। সে সময় সড়কের গুরুত্ব ও ব্যস্ততা কম ছিল। এখন ট্রাফিক ভলিয়ম ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ১৯৮০ সালে সড়কটি সড়ক বিভাগে ন্যস্ত হওয়ার পর থেকে কেবল পিস কার্পেটিং করে সচল রাখা হচ্ছিল।

বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর ও নন্দীগ্রাম উপজেলা এবং নাটোর জেলার নাটোর সদর ও সিংড়া উপজেলার মধ্য দিয়ে সড়কটি অতিক্রম করেছে। এই অপ্রশস্ত সড়ক পথেই রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা হতে যাত্রী ও পণ্যবাহী ভারী যানবাহন দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াত করে থাকে। এই মহাসড়কে গড়ে প্রতিদিন ১০ হাজার যানবাহন চলাচল করে থাকে বলে সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া সিংড়া উপজেলার চলনবিল ও পার্শ্ববর্তী এলাকার উত্পাদিত কৃষিজাত পণ্য, মত্স্য সম্পদ ইত্যাদি এই সড়কের মাধ্যমে নাটোর ও বগুড়া হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয়ে থাকে।

এদিকে পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরু হওয়ার পর এবং দক্ষিণবঙ্গের উন্নয়ন কাজে ব্যবহূত হাজার হাজার টন পাথর পঞ্চগড় থেকে এইপথে নিয়ে আসায় সড়কের গুরুত্ব ও ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। তাছাড়া নেপাল মংলা বন্দর ব্যবহার করে বহির্বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে নেপালে মালামাল পরিবহনে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের গুরুত্ব আরো বেড়ে যাবে।

 এ ব্যাপারে নন্দীগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ্ জানান, ভারী যানবাহন ছাড়াও এই জাতীয় মহাসড়কে স্থানীয়রা ভ্যান, ভটভটিতে হাটবাজারে মালামাল পরিবহন করে থাকে। বিশেষ করে বর্ষাকালে লাল এটেল মাটিতে যানবাহনের চাকা আটকিয়ে দুর্ভোগ ও অহরহ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়ে থাকে । এ ব্যাপারে জেলা উন্নয়ন কমিটির বৈঠকে বারবার সমস্যার কথা উত্থাপন করেও কোনো লাভ হয়নি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান জানান, সড়কটির উন্নয়নকল্পে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে নোট পাঠানো হয়েছে।

 সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে সড়কটির উন্নয়নকল্পে ৭৭৩ কোটি টাকার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে ‘বগুড়া-নাটোর জাতীয় মহাসড়ক (এন-৫০২) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ শীর্ষক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তাব (ডিপিপি) গ্রহণ করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সহকারী প্রধান মাহবুব-এ-এলাহী জানান, অনুমোদনের জন্য প্রকল্পের ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।