'কলকাতা এক্সপ্রেস' নামের একটি মিথ্যে মিডিয়া হাউস বেশ কিছুদিন ধরে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের আস্থা নিয়ে খেলছে।
তদন্তে দেখা যায়, ২০২১ সালের ১৮ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে রবার্ট ছদ্মনামে এই কলকাতা এক্সপ্রেসের ওয়েবসাইটটি তৈরি করা হয়।
এ সম্পর্কিত দুটি ফেসবুক পেইজের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রথম ফেসবুক পেইজটি ২০২০ সালে শালিন জায়ার নামে খোলা হয়। শালিন জায়া কেরালার একজন নৃত্যশিল্পী এবং অভিনেত্রী।
দ্বিতীয় ফেসবুক পেইজটি ২০২২ সালের ৯ আগস্ট খোলা হয় এবং সেখান থেকে ২০২৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ পোস্ট করা হয়।
এ ফেসবুক পেইজগুলোকে ব্যবহার করে বেশ কিছু লোকদের সাংবাদিক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। জামশেদ হোসেন, মো.জিয়াউর রহমান, মো. রাজু মিয়া এবং আনোয়ার হোসেন এই মিডিয়া আউটলেটে কর্মরত কিছু সাংবাদিক।
এদের কাছ থেকে ঐ মিডিয়া আউটলেটে কর্মরত থাকার পরিচয় পত্র পাওয়া যায়। অনলাইন বার কোড রিডার থেকে বার কোডটি স্ক্যান করে দেখা যায় এটি নকল।
২০২২ সালের ৮ আগস্ট, প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য একটি পোস্ট দেওয়া হয় যা অনেকেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরবর্তীতে নিয়োগপত্র প্রদান ও দল গঠন করা হয়।
তাছাড়া ২০২৩ সালের ১ জুন, নতুন দিল্লিতে তাদের সম্মেলনের ব্যাপারেও পোস্ট করা হয়।
ওয়েবপেজের রেজিস্ট্রেশন ঠিকানা অনুসন্ধান করে জানা যায়, মূলত ওয়েবপেজটি ভারতের উত্তর প্রদেশের নয়ডা থেকে নিবন্ধিত হয়েছে। নিবন্ধনকারী ব্যক্তির নাম হিসেবে পাওয়া যায় লায়লা আহমেদ রুনার নাম। তবে নিবন্ধিত ফোন নাম্বারটি বাংলাদেশের ছিল।
এখানকার সমস্ত বাংলা সংবাদগুলো বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে হুবহু কপি করা হয়েছে।
কলকাতা এক্সপ্রেসের নেপথ্যে যারা এই ভুয়া মিডিয়াটি চালাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য নিজেদের স্বার্থে জনগনকে ব্যবহার করা।
