মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার লালমাই পাহাড়কেন্দ্রিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমৃদ্ধ পর্যটন এলাকায় যাতায়াতের ‘কোটবাড়ী-শালবন বিহার’ সড়কটির প্রায় আড়াই কিলোমিটারের অবস্থা একেবারে বেহাল হয়ে পড়েছে। এ সড়কে প্রতিদিন শত শত পর্যটক ছাড়াও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পথচারীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। এতে পর্যটন ও বিনোদন স্থাপনাগুলোয় দর্শনার্থীও অনেক হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিন ঘুরে ও লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লালমাই পাহাড়ের কোটবাড়ী ও আশপাশের এলাকায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাডেট কলেজ, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড কলেজ, পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, শালবন বিহার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়, কুমিল্লা সিটি কলেজ, ফিজিক্যাল (বিপিএড) কলেজ, সরকারি কারিগরি ইন্সটিটিউটসহ প্রায় অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এছাড়া শালবন বৌদ্ধ বিহার, নবশালবন বিহার, কোটবাড়ী জাদুঘর, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), আঞ্চলিক প্রত্নতত্ত্ব কার্যালয়, ব্লু-ওয়াটার পার্ক, ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ক, দেশের একমাত্র ডাইনোসর পার্কসহ বিভিন্ন পর্যটন ও বিনোদন স্পটসহ বাণিজ্যিক স্থাপনা রয়েছে। কোটবাড়ী-শালবন বিহার সড়ক হয়ে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিনোদন স্থাপনায় যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু সংস্কারের অভাবে খানাখন্দে ভরা এ সড়কে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সালমানপুর এলাকার শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, মনির হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা জাকির হোসেন, গন্ধমতি এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল মান্নান, আবু হানিফসহ অন্তত ২০ জনের সঙ্গে কথা হলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির অবস্থা বেহাল হয়ে আছে, সড়কটির কোনো কর্তৃপক্ষ আছে বলে মনে হয় না। প্রাকৃতিক নিদর্শন ও পর্যটন স্থাপনাসমৃদ্ধ কোটবাড়ী ও আশপাশের এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিনোদন স্থাপনার দর্শনার্থী ও সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানে কর্মরতসহ হাজারো পথচারীকে প্রতিনিয়ত দিনে-রাতে এ সড়কে আসা-যাওয়া করতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে কর্দমাক্ত ময়লা পানি জমে এ সড়কটির অবস্থা একেবারে নাজুক হয়ে পড়েছে। খানা-খন্দে ভরা এ সড়কের গর্তে ছোট-বড় যানবাহন প্রায়সময় আটকে ও উলটে পড়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। তারা অবিলম্বে সড়কটি সংস্কারের জন্য দাবি জানিয়েছেন।
ব্লু-ওয়াটার পার্কের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, শালবন বিহারসহ বিনোদন স্থাপনাগুলোয় যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনেকটা অযোগ্য হয়ে পড়ায় বিনোদন স্থাপনাগুলোয় দর্শনার্থী কমে গেছে। লালমাই পাহাড় ঘিরে স্থাপিত পর্যটনশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে এ সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো সহসা সংস্কার প্রয়োজন।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগীয় আঞ্চলিক কার্যালয়, কুমিল্লার সহকারী পরিচালক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, এ সড়কে শিক্ষার্থী, পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সীমাহীন ভোগান্তির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সড়কটি সংস্কারের জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না, এতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে হাজারো মানুষ।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মো. নুরুল্লাহ বলেন, জাইকা প্রকল্পের মাধ্যমে কিছুদিনের মধ্যেই সড়কটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে।
