সিলেট অফিস
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের শাহবাজপুর ব্রিজ ভেঙে পড়ায় সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ৬-৭ ঘণ্টার স্থলে বিকল্প সড়ক পথে গন্তব্যে পৌঁছতে ১২-১৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় হচ্ছে। পথে পথে ট্রাফিক জ্যামেরও যেন শেষ নেই। পণ্যবাহী ট্রাকগুলোও বিপাকে পড়েছে। ফলে সিলেটসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে গতকাল সিলেটের বাজারে ডিম, মাছ, তরকারি, ব্রয়লার মুরগিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। গত মঙ্গলবার বিকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সরাইলের শাহবাজপুরে তিতাস নদীর ওপর সেতুটির চতুর্থ স্পেনের রেলিং ভেঙে পড়লে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সব ধরনের ভারী ও মাঝারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে এই রুটের শত শত যানবাহন যাত্রী নিয়ে বিপাকে পড়েছে। বিকল্প পথগুলোও দুর্গম। ফলে এই অসহ্য গরমে ঐ পথে যাতায়াতকারীদের দুর্ভোগ অবর্ণনীয়।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. শাহজাহানসহ অনেকেই জানান, জনদুর্ভোগ লাঘবে সিলেট-ঢাকা ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে চাপ বেড়েছে। টিকেটের জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। সিটের তুলনায় দাঁড়িয়ে থাকা লোকের সংখ্যা বেশি জানিয়ে ঢাকা থেকে সিলেট আসা অ্যাডভোকেট আইনুল ইসলাম বাবলু বলেন, ট্রেনে তিলধারণের ঠাঁই নেই। আরো একজন যাত্রী দেলওয়ার আহমদ জানান, ট্রেনের ছাদের উপরও নিরুপায় হয়ে মহিলা যাত্রী উঠতে দেখা যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দৈনিক আরো দুটি ট্রেন ও চলাচলরত ট্রেনগুলোতে বগি বৃদ্ধি প্রয়োজনের দাবি জানিয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগ সেক্রেটারী ও সিলেট চেম্বারের নয়া প্রশাসক। তিনি বলেন, এরকম একটি ব্রিজে মেরামতি কাজের জন্য গোটা এলাকা অচল হতে পারে না। বিকল্প ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এমনিতেই সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেনের চাহিদা অনেকদিনের। ব্রাহ্মণবাড়ীয়াস্থ সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী গত রবিবার বিকালে ইত্তেফাককে জানান, বেইলী ব্রিজ মেরামতের কাজ দ্রুত চলছে। আশাকরি সোমবার (আজ) থেকে এ ব্রিজ দিয়ে যান চলাচল শুরু করা যাবে। তবে মূল ব্রিজটি চালু হবে আগামী মাসে।
এদিকে, হবিগঞ্জের মাধবপুর এলাকায় গড়ে উঠা শিল্প প্রতিষ্ঠানের উত্পাদিত পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না। কাঁচামাল আমদানিও প্রায় বন্ধ। কাঁচামালের অভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠানে উত্পাদন হ্রাস পেয়েছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের নির্মাণসামগ্রী বালু, রড, সিমেন্ট আসতে না পারায় নির্মাণ কাজও বন্ধ হওয়ার পথে। মাধবপুরের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি জেআইসি স্যুট লিঃ-এর জিএম শেখ সুহেল আহমদ গতকাল ইত্তেফাককে জানান, তাদের উত্পাদিত মালামাল বিদেশে পাঠাতে না পারায় বিদেশি বায়ারদের নিয়ে বেশ বিপাকে আছেন। উপজেলার রতনপুর এলাকায় নির্মিত এসএম স্পিনিং মিলের একজন কর্মকর্তা জানান, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় এলসির অনুকূলে মালামাল বায়ারদের ডেলিভারি সময়মত দেওয়া যাচ্ছে না। এতে বায়াররা ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে অনেক কোম্পানির এলসির মালামাল আটকা পড়েছে। এগুলো আনা যাচ্ছে না। এতে কোম্পানিগুলো লোকসানের মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে, বিকল্প হিসাবে চান্দুরা-আখাউড়া হয়ে ঢাকা যাচ্ছে পরিবহনগুলো। আবার কিছু পরিবহন মাধবপুর উপজেলার রতনপুর ছাতিয়াইন-নাসিরনগর হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিশ্বরোড হয়ে মহাসড়ক দিয়ে ঢাকা যাচ্ছে। রতনপুর-ছাতিয়াইন-নাসিরনগর রাস্তাটিতে গত ৬ দিন যাবত্ ভারী যানবাহন চলার কারণে রাস্তার অনেক জায়গা ভেঙে চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে। অপরদিকে, মাধবপুর থেকে চান্দুরা ও শাহবাজপুর নৌ যোগাযোগ চালু হয়েছে। অনেক যাত্রী মাধবপুর সদর থেকে সোনাই নদী দিয়ে নৌপথে শাহবাজপুর ব্রিজ পার দিয়ে ঢাকার গাড়িতে উঠছেন। সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকার সুযোগে কোনো কোনো পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
