উৎসবমুখর ছিল কুমিল্লার স্টেডিয়াম

আপডেট : ৩১ মে ২০২৩, ১২:৪৭

মোহামেডান-আবাহনী ম্যাচটা যদি শুক্রবার ছুটির দিনে হতো, তাতে দর্শক আরো বেশি হতো। কুমিল্লার ফুটবল সংগঠকেরা সেভাবে প্রচারের আলোয় আনতে পারেননি ফাইনালটা। তার পরও এই গরমের মধ্যে অনেক দর্শক এসেছিল মাঠে।

বেলা সোয়া ৩টায় মোহামেডান-আবাহনী ফেডারেশন কাপের ফাইনাল। রোদে মুখ পুড়ে যায়। শরীর জ্বলে যায়। এর মধ্যেও ঢাকার দর্শক এসে গ্যালারির অনেকটাই ভরে গিয়েছিল। মোহামেডানের দর্শক সাদা-কালো জার্সি গায়ে আর আবাহনীর দর্শক আকাশি-নীল জার্সি গায়েি ঈছিলেন মাঠে। দুই গ্যালারিতে পতাকা। কত দিন এমন ছবিও দেখা যায়নি ফুটবলে। মোহামেডান-আবাহনী ফাইনাল বলে উদ্দীপনা। ঢাকা থেকে সাংবাদিকেরা ভিড় করেছিলেন ফাইনালে। গাড়ি বোঝাই করে দর্শক গেছে। কেউ গিয়েছিলেন বাসে চড়ে। রোদের মধ্যে খেলা দেখা কতটা কষ্ট, তার পরও কারো মধ্যে হাপিত্যেশ ছিল না। মুখ লাল হয়ে গিয়েছিল। যখন গোলের পর গোল দেখতে লাগলেন, সব ক্লান্তি মুছে গেল।

আবাহনীর সমর্থনে কুমিল্লার অনেক নারী দর্শক গ্যালারিতে ছিলেন। ৪-৩ গোলে পিছিয়ে আবাহনী। মোহামেডানের গোলকিপার সুজন আহত হয়ে মাঠে পড়ে আছেন, তখন নারী দর্শক চিৎকার দিয়ে বলছিলেন-‘ঐ বেটা, মাঠ থেকে বের হ। আমরা গোল করুম।’ 

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও মাঠে হাজির হয়েছিল। কুমিল্লার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাকি তার স্ত্রী অর্পি এবং দুই ছেলে সাফি ও কাফিকে নিয়ে মোহামেডান-আবাহনীর ফাইনাল দেখতে মাঠে গিয়েছিলেন। মোহামেডানের সমর্থক, মোহামেডানের গেঞ্জি গায়ে দিয়েছে তার ছেলে। মোহামেডান যখন ২ গোল হজম করল, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে গ্যালারি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। সন্তানদের অনুরোধে আবার মাঠে ঢুকেছেন সবাই। মোহামেডান গোল শোধ করেছে। তা দেখে আনন্দিত সবাই। সোলায়মান দিয়বাতের হ্যাটট্রিক দেখে মুগ্ধ বাকির পরিবার। কুমিল্লার একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমরান খুশি এত বড় ম্যাচ দেখতে পেয়ে। শিক্ষার্থীদের জন্য গেট ছিল উন্মুক্ত।

৩৩ বছর আগে শেষ বার ফুটবল খেলা দেখেছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কর্মরত আব্দুল মনির লিডার। লিডার তার নাম। তবে তিনি কোনো নেতা নন। কিন্তু লিডার নামটি রাখা হয়েছে। বন্ধুমহলে লিডার নামেই সাড়া দেন তিনি। ৩৩ বছর পর ফুটবল খেলা দেখতে এসেছিলেন কুমিল্লায়। ক্রিকেট ম্যাচ দেখেন। এর মধ্যে নাকি আর ফুটবল খেলা দেখেননি। ক্রিকেটাঙ্গনে বিসিবির সাবেক একজন পরিচালকের সঙ্গে সেখা যেত খেলাপ্রিয় এ কে এম নুরুজ্জামানকে। তিনিও অনেক দিন পর ফুটবল উৎসবে শামিল হলেন। মোহামেডান-আবাহনীর ফেডারেশন কাপের ফাইনাল দেখতে কুমিল্লায় গ্যালারিতে হাজির হন এমন আরও কতশত ভক্ত-সমর্থক।

 

ইত্তেফাক/এসএস