মেনন বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করেছেন মতিয়া করেননি

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৯, ২২:৩৩

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, ছাত্র ইউনিয়নের মেনন গ্রুপ (বর্তমানে ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন) বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করত। মতিয়া গ্রুপ বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করত না। গতকাল রবিবার সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। এসময় শেখ সেলিমের বামে এক আসন পরেই নিজ আসনে মতিয়া চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন, তবে মেনন এসময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন না।আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে দলটির ইতিহাস তুলে ধরে শেখ সেলিম বলেন, এনএসএফ প্রথমে বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করেছে, পরে করেনি। মেনন-মতিয়া গ্রুপ এদের সবাইকে মিলেই ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। সেই পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেন। জনগণের সামনে ওয়াদা করে তারা বঙ্গবন্ধু উপাধি দিল, কত বড় নির্লজ্জ—পরে তারা বঙ্গবন্ধু বলে না। তিনি বলেন, অনেকে বাংলাদেশের জাতির পিতা সাজতে চায়। এরা কোথায় ছিল? ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দেন সেখানেই বাংলাদেশ নামটা দেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে শেখ সেলিম বলেন, জিয়াউর রহমান কে ছিলেন? আমার কাছে প্রমাণ আছে। যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনা আসলাম বেগ তাকে চিঠি লেখে। সেই চিঠি আমার কাছে আছে। যে লোক দেশের জন্য যুদ্ধ করে তার কাছে পাকসেনা চিঠি লিখে ‘তুমি ভালো কাজ করেছ। তোমার জন্য পরবর্তী উপহার অপেক্ষা করছে। তুমি তোমার পরিবার নিয়ে উদ্বিগ্ন হইও না।’ তিনি বলেন, জিয়া ছিল পাকিস্তানি এজেন্ট। জিয়ার পরিবার পশ্চিম পাকিস্তানে করাচিতে বসবাস করত। পিতামাতাকে মৃত্যুর পর পাকিস্তানে কবর দেওয়া হয়। এখানে কোনোদিন তারা আসেনি। গণঅভ্যুত্থানের সময় বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে আইএস-এর কর্মকর্তা হিসেবে তাকে ঢাকায় পোস্টিং দেওয়া হয়। আর তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও একই।

শেখ সেলিম আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যার বিচারে শিমলা চুক্তি হয়। সেই চুক্তিতে ১৯৩ জন পাকসেনা কর্মকর্তার বিচার হওয়ার কথা ছিল, যেটা পাকিস্তানের করার কথা ছিল। অথচ ১৯৯২ সালে যুদ্ধাপরাধী জানযুয়া মারা গেলে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাবস্থায় শোকবার্তা পাঠান। কী মহব্বত! এমনকি তিনি যখন পাকিস্তান সফরে যান তার কবর পর্যন্ত জিয়ারত করেন। এরা পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে ক্ষতি করেছে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতাকামী মানুষ কি মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাকারীদের বিচার বন্ধ করতে পারে? স্বাধীনতাবিরোধীরা কোথাও রাজনীতি করতে পারে? তারা পালিয়ে বেড়ায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের দেশে তারা রাজনীতি করে।