আহমদ ছফা স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, মানবিকতার কাছে দায়বদ্ধ লেখক হিসেবে আহমদ ছফা তাঁর বিভিন্ন উপন্যাসের চরিত্র চিত্রণে বেছে নিয়েছেন গ্রামীণ পটভূমিকে। জীবিত থাকাকালে আহমদ ছফার প্রথাবিরোধিতা, স্পষ্টবাদিতা এবং নিজস্ব দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য লেখক ও বুদ্ধিজীবী এবং অনেকের কাছেই তিনি ছিলেন বিশেষভাবে আলোচিত ও বিতর্কিত। তাঁর মতো সাহসী লেখক ও বুদ্ধিজীবী এ সমাজে সত্যিই বিরল।
গতকাল রবিবার জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘আহমদ ছফা : মানবিক ও দার্শনিক চিন্তার অগ্রপুরুষ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি অসীম সাহা। প্রধান বক্তা ছিলেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক ড. বিশ্বজিত্ ঘোষ। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পী ফকির আলমগীর। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহম্মদ।
কবি অসীম সাহা বলেন, আহমদ ছফা বাংলার এক কিংবদন্তি লেখক। আহমদ ছফা এক বহুমুখী চরিত্র। ব্যক্তি জীবনে যেমন, তেমনি লেখক জীবনে। তবে এক ধরনের অস্থিরতা তাঁর চিন্তাকে সবসময় সুশৃঙ্খল করতে পারেনি। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে সব সীমাবদ্ধতার পরেও বাংলাদেশ তথা বাংলাসাহিত্যে আহমদ ছফার অবদানকে গৌণ করে দেখা যাবে না!
অধ্যাপক ড. বিশ্বজিত্ ঘোষ বলেন, কালের এক বহুমাত্রিক মানুষ, বহুমাত্রিক গুণে গুণান্বিত এক ব্যক্তি আহমদ ছফা। প্রতিভাবান মানুষ ছিলেন তিনি। কোনো প্রতিদান ছাড়াই নিজেকে সবার মধ্যে বিলিয়ে দিতেন। তিনি সবসময় স্বপ্ন দেখতেন এক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের। সমাজের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার দিকটাকে সরিয়ে ফেলে এক আলোকিত দেশ গড়ার স্বপ্ন তিনি দেখতেন।
ফকির আলমগীর আহমদ ছফার বিভিন্ন বিখ্যাত গানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অসংখ্য গান তিনি লিখেছেন। আহমদ ছফার স্মরণে তাঁর বিখ্যাত গান ‘ঘর করলাম না, সংসার করলাম না’ এই গানটির কিছু অংশ গেয়ে উপস্থিত দর্শকদের শোনান।
