বিশ্ববিদ্যালয় উত্তীর্ণ মেধাবী ছাত্ররা জড়িত!

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় প্রক্সি চক্র

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৩, ০৭:০১

বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগে সক্রিয় প্রক্সি (বদলি) চক্র। এই চক্র উচ্চ স্তরের সাধারণ শিক্ষা (বিশ্ববিদ্যালয়) ও স্বাস্থ্য শিক্ষায় (মেডিক্যাল) ভর্তির ক্ষেত্রেও নির্ধারিত অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কাজ করে থাকে। বস্তুত মূল আবেদনকারীর পরিবর্তে এই চক্রের সদস্যরা পরীক্ষা দিয়ে থাকে। পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তারা এই টাকা গ্রহণ করে। বর্তমান শিক্ষার্থী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় উত্তীর্ণ মেধাবী বেকার ছাত্ররাই এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়। মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রক্সি দিতে দলে আছে নারী সদস্যরাও। মাঝে মধ্যে তাদের কেউ কেউ ধরা পড়লেও তাদের কোনো শাস্তি হয়েছে বলে জানা যায়নি। তবে এদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে কতিপয় নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এবার ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে।

সরকারি সূত্র থেকে জানা যায়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ের লক্ষাধিক পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। কোনোটির লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। আবার কোনোটির মৌখিক পরীক্ষা চলছে। সম্প্রতি শেষ হওয়া সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের বিভিন্ন স্তরের নিয়োগের পরীক্ষা শেষে নিয়োগও দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের সঙ্গে জড়িত কমিটির একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, প্রক্সি ঠেকাতে মৌখিক পরীক্ষার সময় তারা এবার ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে। মৌখিক পরীক্ষার সময় তারা সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর খাতা সামনে রেখেছেন এবং খাতায় যেরকম লেখা সেভাবে লিখতে বলেছেন। অনেকেরই লিখতে গিয়ে শরীরের ঘাম ঝরেছে। অনেকে হঠাৎ চেয়ার ছেড়ে উঠে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। এরকম বেশকিছু পরীক্ষার্থীকে দীর্ঘ সময় সড়ক ভবনে আটকও রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় আটকের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

একই কৌশলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। হাতের লেখা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নের উত্তরে সে যা লিখেছে একই প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হচ্ছে। বেশির ভাগই হাতের লেখা মিলছে না বা প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে নিয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, প্রকৃত প্রার্থীর বদলে অন্য প্রার্থীর মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে লিখিত পরীক্ষায় পাশ করার এ কৌশল দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ মাঝে মধ্যে এই চক্রের সদস্যদের কাউকে কাউকে আটকও করে বলে খবর পাওয়া যায়। কিন্তু শেষঅবধি এসবের কী হয় তা অজ্ঞাতই থেকে যায়। ফলে এই চক্র নতুন নতুন উত্সাহ নিয়ে নিজ নিজ কর্মে জড়িত থেকেই যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সেবা সুরক্ষা বিভাগ, কারা বিভাগ, পুলিশ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ, পিএসসির ক্যাডার- নন ক্যাডার পরীক্ষা, রেলওয়ে মন্ত্রণালয়, পল্লী উন্নয়ন সমবায় বিভাগ, বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বিচার বিভাগীয় বিভিন্ন পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে সরকারি সব শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে দ্রুতগতিতে নিয়োগ কার্যক্রম চলছে।  

ইত্তেফাক/ইআ