আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা-মন্ত্রীরা বলেছেন, স্বাধীনতাসহ বাংলাদেশের যত অর্জন ও সাফল্য সবই এসেছে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাত ধরে। অন্য যারা ক্ষমতায় ছিল তারা দেশকে কিছুই দিতে পারেনি। কারণ, তারা এদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিল না, ছিল পাকিস্তানের দালাল ও তল্পিবাহক। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন নিয়ে এদেশকে স্বাধীন করেছিলেন, গত ১০ বছর ধরে তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন। মাত্র ১০ বছরে শেখ হাসিনার ব্যাপক উন্নয়ন সারাবিশ্বকেই আলোড়িত করেছে।
গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এ সব কথা বলেন। প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাম উদ্দিন প্রামাণিক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সরকারি দলের আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, সালাম মোর্শেদী, এ কে এম রহমতুল্লাহ, আবিদা আনজুম মিতা, নজরুল ইসলাম বাবু, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, মোরশেদ আলম, কাজী নাবিল আহমেদ, জোয়াহেরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন সবুজ, জাতীয় পার্টির (জাপা) আবু হোসেন বাবলা, রওশন আরা মান্নান, গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ প্রমুখ। আলোচনায় বাজেটের পরিবর্তে আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিষয়ই প্রাধান্য পায়।
আমির হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীন করেছিলেন বলেই আজ আমরা সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনার সুযোগ পাচ্ছি। আওয়ামী লীগের জন্মের মধ্যে দিয়েই দেশের স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল।
সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ দলের জন্মদিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, পৃথিবীতে অনেক বড় বড় নেতা আসবেন, যাবেন, কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা কোনোদিন আসবে না। তার হূদয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছাড়া আর অন্য কিছু ছিল না। তিনি শুধু এশিয়া নয়, সারাবিশ্বের নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের নেতা ছিলেন। শেখ ফজলুল করিম সেলিম আওয়ামী লীগের জন্মদিনে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা— এক ও অভিন্ন। পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলে আমাদের দুঃখ থাকত না, তাকে হত্যা করল এই দেশেরই কিছু কুলাঙ্গার বেইমান মোশতাক-জেনারেল জিয়া গং।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, যারা বাজেট নিয়ে নিন্দা করেন, তারা একটু গ্রামে গিয়ে দেখুন প্রতিটি ঘরে কীভাবে বিদ্যুতের আলো জ্বলছে, রাস্তাঘাট পাকা হয়ে গেছে।
গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ বলেন, সংসদে ঐদিন আমি যদি শপথ না নিতাম তাহলে আজ বিএনপির যে কয়জনই হোক না কেন তারা শপথ নিত বলে আমার মনে হয় না। বঙ্গবন্ধুর অনুসারী হিসেবে আমি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমার ওদিকেই (সরকারি দল) থাকার কথা ছিল, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আমরা এখন এদিকে (বিরোধী দল)। ২০০৮ সালের পর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলাম। আমি কখনো আওয়ামী লীগ ছাড়িনি, আওয়ামী লীগ আমাকে কখনো বহিষ্কার করেনি। তবে রাজনীতির কারাগারে ছিলাম। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, জাতি হিসেবে আমরা উচ্চাভিলাষী না হতাম তবে স্বাধীন একটি রাষ্ট্র আমরা পেতাম না। বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে বিএনপি-জামায়াত জোট এক মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে পারেনি। ১৬/১৭ ঘণ্টা জাতিকে অন্ধকারে রেখেছে। এ বছরের মধ্যে দেশের শতভাগ গ্রামে বিদ্যুত্ সুবিধা যাবে, প্রতিটি ঘরে আলো জ্বলবে। বিজিএমইএ-র সাবেক সভাপতি সালাম মোর্শেদী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটটি শুধু ব্যবসাবান্ধব নয়, জনকল্যাণমূলক, বৈষম্যমূলক উন্নয়নমূলক বাজেট। জাতীয় পার্টির (জাপা) রওশন আরা মান্নান বলেন, ঋণখেলাপিরা ঋণ নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এ কে এম রহমতুল্লাহ বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ১৯৯১ সালে এবং ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে রাজধানীর লেক ও খালগুলো গণহারে ভরাট করে গণহারে বিএনপির লোকদের প্লট দিয়েছে।
